পিডিএফ পড়.কম

দুরুদ শরীফ বাংলা উচ্চারণ সহ (PDF , HD Pic) | দরুদে ইব্রাহিম , ছোট দুরুদ শরীফ

লেখার সাইজA
A
Rate this post

প্রিয় পাঠক, আপনারা অনেকেই দুরুদ শরীফ বাংলা উচ্চারণ সহ পিডিএফ ও HD Pic খুঁজে থাকেন ৷ আপনাদের পড়ার সুবিধার্থে নামাজের দুরুদ শরীফ, ছোট দুরুদ শরীফ দেওয়া হয়েছে ৷ একইসাথে PDF ও HD Pic আকারেও দেওয়া হয়েছে যেন ডাউনলোড করে সবসময় পড়তে পারেন ৷ আপনি যদি কুরআনের সকল সূরা বাংলা উচ্চারণসহ পড়তে চান তাহলে আমাদের সাথে থাকুন ধন্যবাদ ৷

পবিত্র কুরআন কারীমে আল্লাহ তা’আলা মুমিনদেরকে দরূদ পাঠের নির্দেশ প্রদান করেছেন। দরূদ শরীফ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। নবীজির (সাঃ) প্রতি দরূদ পাঠের উপকারিতা ও ফযীলত অপরিসীম। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) প্রতি দরূদ পাঠ করলে আমাদের জন্য আছে অনেক রহমত। আমরা সবাই আল্লাহর দয়া ও রহমত চাই। কিন্তু সেই দয়া ও রহমত লাভের সহজ পথ খুঁজে পাই না। দরূদ পাঠের মাধ্যমে সেই দয়া ও রহমত লাভের সহজ ও সুন্দর সুযোগ আছে আমাদের।

তাই দরূদ শরীফ সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহের সঠিক ও বিশুদ্ধ দিকনির্দেশ জানা থাকা খুবই জরুরি। আমাদের দেশে নবী মুহাম্মাদ(সাঃ) এর উপর দরূদ পাঠের বিভিন্ন শব্দ পাওয়া যায় যার অধিকাংশই বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত বা স্বীকৃত কোনো দরূদ নয়। এগুলোর অধিকাংশই মনগড়া, বানানো বা জাল হাদীসের ভিত্তিতে আমাদের কাছে পৌঁছেছে। সুতরাং বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত দরূদের অনুসরণ করতে হবে।

দরুদে ইব্রাহিমের ফজিলত

১. রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন,
যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তা‘আলা তার উপর দশবার রহমত নাজিল করবেন, তার দশটি গুনাহ মিটিয়ে দেবেন এবং তাকে দশটি সম্মানে সম্মানিত করবেন। —নাসাঈ: ১২৯৭
২. রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন,
সেই লোকের নাক ধূলিমলিন হোক, যার সম্মুখে আমার নাম উচ্চারিত হয় অথচ সে আমার উপর দরুদ পাঠ করে না। — তিরমীযি: ৩৫৪৫
৩. রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন,
যে ব্যক্তি সকালে দশবার ও সন্ধ্যায় দশবার আমার উপর দরুদ পাঠ করবে, সে কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত লাভ করবে। — সহীহ জামিউস সগীর: ৮৮১১

নামাজের দুরুদ শরীফ আরবিতে (দরুদে ইব্রাহিম)

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

দুরুদ শরীফ বাংলা উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা সল্লি আ'লা মুহাম্মাদিওঁ আ'লা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আ'লা ইব্রাহীমা ওয়া আ'লা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ্। আল্লাহুম্মা বারিক্ আ'লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ'লা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আ'লা ইব্রাহীমা ওয়া আ'লা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

দুরুদ শরীফ বাংলা অর্থ

হে আল্লাহ! হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তার বংশধরগণের প্রতি সেইরূপ শান্তি বর্ষন কর, যেইরূপ তুমি হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও তার বংশধরের উপর অনুগ্রহ করিয়াছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসা ও সম্মানের অধিকারী। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সাঃ) ও তার বংশধরের প্রতি বরকত দান কর, যেরূপ হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও তার বংশধরের প্রতি বরকট দান করিয়াছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসা ও সম্মানের অধিকারী।

দুরুদ শরীফ বাংলা উচ্চারণ সহ HD Pic

দুরুদ শরীফ বাংলা উচ্চারণ সহ HD Pic

ছোট দুরুদ শরীফ

১. (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

অর্থঃ (আল্লাহ!) আপনি (নবী মুহাম্মাদ) তাঁর উপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন)

২. (আছ-ছলাতু আস-সালামু আলা রাসূলিল্লাহ)

অর্থঃ (আল্লাহ তাঁর রাসূল (মুহাম্মাদ) এর উপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন।

৩. (আল্লা-হুম্মা ছল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ)

অর্থঃ (হে আল্লাহ! আপনি নবী মুহাম্মাদের উপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন)

৪. (আল্লা-হুম্মা ছল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া সাল্লিম আলাইহি)

অর্থঃ (হে আল্লাহ! আপনি (নবী) মুহাম্মাদের উপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন)

দুরুদ শরীফ গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

পবিত্র কুরআন কারীমে আল্লাহ তা’আলা মুমিনদেরকে দরূদ পাঠের নির্দেশ প্রদান করেছেন। মহান আল্লাহ তা’আলা এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রতি দরূদ প্রেরণ করেন এবং মুমিনগণকে দরূদ ও সালাম প্রেরণ করতে বলেন পবিত্র কুরআনের সূরা আল আহযাবের আয়াত-৫৬তে, সেখানে আলাদাভাবে দরূদ পাঠের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীতা বর্ণনা করার দরকার পড়ে না। এই আয়াত দ্বারা মুমিনদের প্রতি দরূদ পড়াকে কর্তব্য করা হয়েছে। তাই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি দরূদ পড়া মানে আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন করা।

একইভাবে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি দরূদ পড়ার মাধ্যমে ফেরেশতাদের সাথেও একাত্বতা পোষণ ও তাঁদের অনুকরণ করা হয়। কারণ তাঁরাও আল্লাহর নবীর উপর দরূদ পড়েন।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর উপর দরূদ পাঠ করা শুধু পবিত্র কুরআনেই না- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) অনেক হাদীসে তাঁর উপর দরূদ পাঠের নির্দেশনা প্রদান করেছেন এবং দরূদ ও সালামের অতুলনীয় ফযীলতের বর্ণনা দিয়েছেন। হাদীস গ্রন্থের বুখারি, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী ও মুসনদে আহমদেও বিস্তারিতভাবে দরূদ পাঠের গুরুত্ব ও উপকারিতা বর্ণনা করা আছে। হাদীসের আলোকে আমরা জানতে পারি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর উপর দরূদ ও সালাম পাঠ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত সম্মত ইবাদত ও বড় নেক আমল।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর উপর দরূদ পাঠ করা ও সালাম জানানো আমাদের দায়িত্ব। দরূদ শরীফ পাঠ মুমিনদের মহা পাথেয়। দরূদ পাঠের মাধ্যমে যেমন সৃষ্টির সেরা মহা মানবের প্রতি হৃদ্যতা ও ভক্তি প্রকাশ পায়, তেমনি আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের পথও খোলাসা হয়। নবী প্রেম ঈমানের অংশ। নবী প্রেম ছাড়া কেউ খাঁটি ঈমানদার হতে পারে না। নবী প্রেম বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর অন্যতম মাধ্যম হলো রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর উপর দরূদ ও সালাম পাঠ করা।

উম্মতের জন্য নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর ভালোবাসা

মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবীব, আমাদের পিয়ারা নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন এক মুহূর্তে এ ধরায় প্রেরণ করেছেন যখন মানবতা ছিল চরম বিপর্যয়ের শিকার। এক আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে সৃজিত মানুষগুলো হয়ে পড়েছিল বনি আদমের জঘন্যতম শত্রু ‘শয়তানে’র হাতের পুতুল। তারা ছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত।. হিদায়াতের আলোক-রশ্মি ছিল নির্বাপিত। কুফর-শিষ্কের নিকষ অন্ধকারে একত্ববাদের আলোকচ্ছটা হয়ে পড়েছিল সম্পূর্ণরূপে আচ্ছাদিত।

আল্লাহর রাসূল এসে হিদায়াতের দীপ্ত মশাল হাতে নিয়ে মানুষকে ডাকলেন আল্লাহর পথে। পাপ-পঙ্কিলতা ও ভয়াবহ শাস্তির জাহান্নাম থেকে টেনে নিয়ে আসলেন নৈসর্গিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও চির শান্তিময় জান্নাতের রাজপথে। উম্মতকে হিদায়াত ও সফলতার পথে আনতে গিয়ে বহু দুঃখ-যাতনা, নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তিনি। কখনো অবজ্ঞা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের বিষমাখা বাক্যবাণে হয়েছেন ক্ষত-বিক্ষত। কখনো ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হয়েছেন রক্তে রঞ্জিত। তথাপি এ পথ থেকে সরে দাঁড়াননি একটি মুহূর্তের জন্যও। স্বীয় জীবনের ভোগ-বিলাস, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও আরাম-আয়েশকে মাটি চাপা দিয়ে উম্মতের চিন্তায় তিনি থাকতেন সদা চিন্তিত-শঙ্কিত।

এক সাহাবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “আমি যখনই তাঁর দিকে তাকিয়েছি, মনে হয়েছে তিনি কোনো চিন্তায় ডুবে আছেন। নিরবচ্ছিন্ন একটা পেরেশানী তাঁকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।”

এ চিন্তা ও পেরেশানী তাঁর ব্যক্তি স্বার্থ, ধন-দৌলত কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নয়; বরং তা একমাত্র উম্মতের জন্য। শুধু উম্মতের ঈমান-আমল, কল্যাণ ও সফলতার জন্যই ছিল তাঁর এই অহর্নিশ ফিকির।

সুতরাং যে মহা মানব উম্মতের জন্য হর-হামেশা চিন্তিত ছিলেন। উম্মতকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেকে তিলে তিলে শেষ করেছেন। আল্লাহর পরে উম্মতের ওপর তাঁরচে’ বড় মুহসিন ও অনুগ্রহশীল আর কে হতে পারে? তাঁর এসব অনুগ্রহের প্রতিদান মুমিনদের পক্ষে কী করে সম্ভব? তবে তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ করে কিছুটা হলেও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা সম্ভব। কমপক্ষে তাঁর পবিত্র নাম এলে দরূদ পাঠ করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য।

সাম্প্রতিক বই ইসলামিক বই উপন্যাস বই বইমেলা ২০২৬ সকল ক্যাটাগরি সম্মানিত লেখকগণ আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ