পিডিএফ পড়.কম

হযরত আয়েশা রাঃ এর জীবনী বই ২০টি | জীবন, কর্ম, ঘটনা (পিডিএফ)

লেখার সাইজA
A
Rate this post

হযরত আয়েশা রাঃ এর জীবনী নিয়ে এই বইগুলো প্রত্যেক মুসলিম মেয়ের পড়া উচিৎ ৷ মুসলিম মেয়েরা আজ দিক-বেদিক জীবন-যাপন করছে ৷ তারা নারী সাহাবীদের বইগুলো না পড়ার কারণে জানতে পারছেন না কিভাবে ইসলামিক জীবন-যাপন করতে হয় একজন বোন হিসেবে, একজন স্ত্রী হিসেবে কিংবা একজন মা হিসেবে ৷ অনেক পাঠক-পাঠিকা হযরত আয়েশা রাঃ এর জীবনী বই PDF অথবা হার্ডকপি খুঁজে থাকেন ৷ আমি বলবো একজন মুসলিম হিসেবে আপনাকে হযরত আয়েশা রাঃ এর জীবনী সম্পর্কে জানা প্রয়োজন ৷

ইসলামে নারীর বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ যে, নারীর অধিকারগুলো সর্বক্ষেত্রে আলাদা করে বলেছে। তাদের জীবনের প্রত্যেকটা পর্বের আলাদা ইজ্জত দান করেছে। মা হিসাবে আলাদা মর্যাদা। বোন হিসাবে আলাদা সম্মান। মেয়ে হিসাবে আলাদা অধিকার। স্ত্রী হিসাবে ভিন্ন অধিকার ও সম্মান। যা অন্য কোনো ধর্ম দেয়নি। ইসলাম নারীকে দুনিয়া-আখেরাত উভয় জগতেই মর্যাদার আসনে সমাসিন করেছে। পক্ষান্তরে অন্য ধর্মগুলো নারীকে দুনিয়া-আখেরাত দু’জাহানেই বঞ্চিত করেছে।

সবার উর্ধ্বে তার স্থান হওয়ার পিছনে কয়েকটি কারণও রয়েছে। প্রথমত তিনি নবীপত্নী। দ্বিতীয়ত তার যিন্দিগিটা মুসলিম নারীদের জীবনের জন্য পরিপূর্ণ একটি মডেল। একজন মুসলিম রমণী কীভাবে জীবন যাপন করবে? কোন্ কোন্ গুণাবলি অর্জন করবে? দাম্পত্যজীবন কেমন হবে? স্বামীর সাথে কেমন সম্পর্ক রাখবে? জীবনের সুখ-দুঃখ মিশ্রিত দিনগুলো কীভাবে কাটাবে? স্বামীর বাড়ির লোকদের সাথে কোন্ ধরনের আচার-ব্যবহার করবে? তা’লীমি ও আমলী ময়দানে নারীর দীনি খেদমতে কেমন চেষ্টা-সাধনা থাকা চাই? এ সকল বিষয়ের জন্য আয়শা রাযি.-এর জীবন একটি উত্তম আদর্শ। মুসলিম নারীরা তার অনুসরণ করে তারাও সফল জীবন লাভ করতে পারবে।

কিন্তু শত আফসোস, আজ কোনো নারী আয়শা রাযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহার জীবনকে আদর্শরূপে গ্রহণ করছে না। বরং মুসলিম সমাজে, ঘরে, সর্বত্র আজ পশ্চিমা অপসংস্কৃতির চর্চা চলছে। ভয়াবহ এ অপসংস্কৃতির পিছনে আজ পুরা মুসলিম জাতি দৌড়াচ্ছে। বিষাক্ত এ নীতি গোগ্রাসে গিলছে এবং নিজের অজান্তেই জীবনকে দু’জাহানের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই মুসলিম জাতির এ ভয়ানক পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলো, সমাজের সর্বস্তরে ইসলামি জীবন-ব্যবস্থার উদাহরণ পেশ করা।

২০টি হযরত আয়েশা রাঃ এর জীবনী বই (হার্ডকপি ও পিডিএফ সহ)

হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুর জীবনী নিয়ে রচিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গ্রন্থগুলোর তালিকা দেওয়া হয়ে পাঠকের পড়ার সুবিধার্থে। বইগুলোতে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার পুরো জীবনচরিত উঠে এসেছে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর আলোকে-অসাধারণ বিন্যাসে; যাতে একজন নারী নিজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রকৃত আদর্শটি গ্রহণ করতে পারেন নির্দ্বিধায়।

আজকে হযরত আয়েশা রাঃ এর জীবনী নিয়ে এমন ২০টি বই দিব যেগুলো পড়লে আপনার জীবন পরিবর্তন হবে ইনশাল্লাহ ৷ প্রতিটি বই হযরত আয়েশা রাঃ এর জীবনী নিয়ে সুন্দরভাবে লিখছেন ৷ আপনার যেবইগুলো প্রয়োজন প্রতিটি বই পিডিএফ ও হার্ডকপি রয়েছে নিচে দেখতে পারেন ৷ এধরনের ইসলামিক বই, নারী সাহাবিদের জীবনী, ইসলামিক আত্মউন্নয়মূলক বই পেতে ফলো রাখুন পিডিএফপড়.কম

পড়ুন, আয়েশা রা.-এর সম্পর্কে ১৫০টি শিক্ষনীয় ঘটনা বই পিডিএফ

১. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা(রাঃ) এর জীবনী

  • সম্পাদকঃ হযরত মাওলানা মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন ৷
  • প্রকাশনীঃ শিক্ষা জগৎ ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ৮০টি ৷

২. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা:)-এর জীবনী

  • লেখকঃ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ৷
  • প্রকাশনীঃ নাঈম বুকস ইন্টারন্যাশনাল ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ৩২০টি ৷

৩. হযরত আয়শা সিদ্দিকা রা. এর ১০০ ঘটনা

  • সংকলনঃ মুহাম্মাদ শোয়াইব সারওয়ার ৷
  • অনুবাদকঃ মুফতী আমিনুল ইসলাম ফরিদপুরী ৷
  • সম্পাদকঃ মাওলানা মুহাম্মাদ শোয়াইব সারওয়ার ৷
  • প্রকাশনীঃ আনোয়ার লাইব্রেরী ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ১০৪টি ৷

৪. নবী পত্নী হযরত আয়েশা (রাঃ)

  • লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ৷
  • প্রকাশনীঃ সালাউদ্দিন বইঘর ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ৩৩৬টি ৷

৫. হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রা. (শত ঘটনা সিরিজ)

  • লেখকঃ মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মুনশাবি ৷
  • অনুবাদকঃ মাওলানা মাকসুদ আহমদ ৷
  • প্রকাশনীঃ মাহমুদিয়া লাইব্রেরী ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ১১৮টি ৷

৬. হজরত আয়েশা (রা): বিয়ে ও বয়স

  • লেখকঃ আদিল সালাহী ৷
  • অনুবাদকঃ আবু জাফর, বাছির জামাল ৷
  • প্রকাশনীঃ বিআইআইটি পাবলিকেশন্স ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ৪৮টি ৷

৭. হযরত মা আয়েশা (রা) জীবনী

  • লেখকঃ মাওলানা মাহমুদ হোসাইন ৷
  • প্রকাশনীঃ মাহমুদ পাবলিকেশন্স ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ৬৪টি ৷

৮. নবীপত্নি হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)-এর জীবনী

  • সম্পাদকঃ মাওলানা আল মুজাহিদ ৷
  • প্রকাশনীঃ রাবেয়া বুক হাউস ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ৩৫২টি ৷

৯. ছোটদের হযরত আয়েশা রা. ও উম্মে আয়মান রা.

  • লেখকঃ নাফিস খান ৷
  • প্রকাশনীঃ দারুস সালাম বাংলাদেশ ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ৭২টি ৷

১০. হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) ও রাসূলুল্লাহর অন্যান্য বিবিগণ

  • লেখকঃ মুহাদ্দিস ফকীহ্ উম্মুল মুমিনীন ৷
  • সম্পাদকঃ এ. এস. এম. আজিজুল হক আনসারী ৷
  • প্রকাশনীঃ মীনা বুক হাউস ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ৩৫২টি ৷

১১. হযরত আয়েশা (আ:) এর জীবনী

  • লেখকঃ রশিদ আহমেদ ৷
  • প্রকাশনীঃ শিরীন পাবলিকেশন্স ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ১৫৯টি ৷

১২. উম্মুল মু’মেনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ)

  • লেখকঃ মাওলানা নূরুর রহমান ৷
  • প্রকাশনীঃ এমদাদীয়া লাইব্রেরি ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ২৬২টি ৷

১৩. উম্মুল মোমেনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) এর জীবনী

  • লেখকঃ মাওলানা কাতেব আহমদ ছৈয়দ কাওছার এম এম ৷
  • প্রকাশনীঃ মনিহার বুক ডিপো ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ২২২টি ৷

১৪. হযরত আয়েশা সিদ্দিকী (রা) -এর জীবনী

  • লেখকঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ রাইয়ান ৷
  • প্রকাশনীঃ শামীম পাবলিশার্স ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ১২৮টি ৷

১৫. সীরাতে আয়েশা রাযিআল্লাহু আনহা

  • লেখকঃ সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভি (রহ.) ৷
  • প্রকাশনীঃ রাহনুমা প্রকাশনী ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ৫১২টি ৷

১৬. কণিষ্ঠ উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)

  • লেখকঃ সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভি (রহ.) ৷
  • প্রকাশনীঃ শর্ষিণা লাইব্রেরী ৷

১৭. গল্পে আকা মহীয়শী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা

  • লেখকঃ মাওলানা শোয়াইবুর রহমান ৷
  • অনুবাদকঃ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ খান ৷
  • প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল ইলম ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ

১৮. উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা রাদিআল্লাহ আনহা এর জীবন ও কর্ম

  • লেখকঃ সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভি (রহ.) ৷
  • অনুবাদকঃ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান-১ ৷
  • প্রকাশনীঃ দারুস সালাম বাংলাদেশ ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ৪০০টি ৷

১৯. আয়েশা বিনতে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহা

  • লেখকঃ জুনায়েদ আহনাফ ৷
  • প্রকাশনীঃ পড় প্রকাশ ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ২৫৬টি ৷

২০. জীবন ও কর্ম: আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা

  • লেখকঃ রাশীদ হাইলামায ৷
  • অনুবাদকঃ মুহাম্মদ আদম আলী ৷
  • প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল ফুরকান ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ৩১২টি ৷

হযরত আয়েশা রাঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী (নাম, বংশ, জন্মগ্রহণ, শিশুকাল, বিবাহ)

নাম, বংশ

নাম-আয়েশা, উপাধি— সিদ্দিকা, খেতাব—উম্মুল মুমিনিন, কুনিয়ত বা উপনাম— উম্মে আবদুল্লাহ; বিশেষ উপাধি—হুমায়রা।

পিতার দিক থেকে বংশধারা-আয়েশা বিনতে আবুবকর সিদ্দিক ইবনে আবু কুহাফা ইবনে উসমান ইবনে আমের ইবনে উমর ইবনে কা’ব ইবনে সা’দ ইবনে তাইম ইবনে মুরা ইবনে লুওয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহ্র ইবনে মালিক।

মাতার দিক থেকে বংশধারা-আয়েশা বিনতে উম্মে রুমান বিনতে আমের ইবনে উয়াইমের ইবনে আবদে শামস ইবনে ইতাব ইবনে উযাইনা ইবনে সাবি ইবনে অহমান ইবনে হারিস ইবনে গুনাইম ইবনে মালিক ইবনে কিনানিয়া।

জন্মগ্রহণ

হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার আম্মা প্রথমে আবদুল্লাহ আযদির সাথে এবং তার ইনতিকাল পর আবুবকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। আবুবকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঔরসে তাঁর গর্ভে হযরত আবদুর রহমান রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জন্মগ্রহণ করেন। হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার জন্মতারিখ নির্ণয়ে ইতিহাস ও জীবনী-গ্রন্থগুলো নীরব। তবে প্রসিদ্ধ বর্ণনামতে তাঁর জন্ম নবুওয়াতের চতুর্থ বছরে।

হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ছয় বছর বয়সে বিয়ে হয়। আর নয় বছর বয়সে তাঁকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠিয়ে নেন এবং আঠারো বছর বয়সে তিনি বিধবা হন।

শিশুকাল

যারা অসাধারণ তারা ছোট থেকেই অসাধারণ। আচার-উচ্চারণ, গতি-স্থিতি, বুদ্ধি-বৃদ্ধি সবকিছুতেই। চোখেমুখে তাদের আলাদা আকর্ষণ। ভাগ্যে তাদের জ্বলজ্বল করে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ঠিকানা। এমনই একজন অসাধারণ নারী-ব্যক্তিত্ব হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা। বাল্যকাল থেকেই তাঁর মাঝে ছিল মহত্ত্ব ও সৌভাগ্যের আভাস। এরপর শিশু তো শিশুই। খেলা আর খেলনাই তাঁর বয়সের দাবি। হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহারও বাল্যকালে যে খেলার আগ্রহ ছিল না তা নয়। মহল্লার শিশুকন্যারা তাঁর কাছে জড়ো হয়ে খেলা করত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল-তাঁর শিশুমানস রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদার প্রতি কখনোই তাঁকে অমনোযোগী করে নি।

অনেক সময় এমন হত যে, তিনি খেলছেন। চারপাশে তাঁর সই-সখীদের ভিড়। হঠাৎ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন! তিনি তাড়াতাড়ি খেলনাগুলো লুকিয়ে ফেলতেন। শিশুরা এদিক সেদিক লুকিয়ে পড়ত। কিন্তু রসূল সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের ভীষণ মহব্বত করতেন। শিশুদের খেলাধুলাকে খারাপ চোখে দেখতেন না। তাই শিশুদের ডেকে ডেকে পুনরায় তাঁর সাথে খেলতে বলতেন। দুটি খেলা হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সবচে’ প্রিয় ছিল-কাপড়ের পুতুল এবং দোলনায় দোল খাওয়া।

একদা হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা পুতুল খেলছিলেন। এমতাবস্থায় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলেন। পুতুলগুলোর মাঝে একটি ঘোড়াও ছিল। ঘোড়াটির ডানেবামে দু-পাশে দুটি পেখম ছিল। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটা কী?’ শিশু আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা উত্তর দিলেন, ‘ঘোড়া।’ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘ঘোড়ার পেখম হয়?’ হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সাথে সাথে বললেন, ‘কেন? হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের ঘোড়ার তো পেখম ছিল।’ এমন সহজ-সরল-বুদ্ধিদীপ্ত জবাবে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃদু হাসলেন। এ ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শিশুকালেই হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার প্রকৃতিগত উপস্থিত বুদ্ধি, ধর্মীয় জ্ঞান, মেধা-প্রতিভা-বুদ্ধিমত্তা কতখানি ছিল।

বিবাহ

হযরত খাদীজা রাদিয়াল্লাহু আনহার ইনতিকালের পর অবস্থাদৃষ্টে জীবন-উৎসর্গকারী সাহাবায়েকেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম বিচলিত হয়ে পড়লেন। প্রখ্যাত সাহাবী হযরত উসমান ইবনে মাযউন রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী হযরত খাওলা রাদিয়াল্লাহু আনহা রসূলের কাছে এসে মিনতি করে বললেন-‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি পুনরায় বিয়ে করুন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে চাইলেন, ‘কাকে?’ হযরত খাওলা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, ‘কুমারীও আছে, বিধবাও আছে।’ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি কাদের কথা বলছ?’ হযরত খাওলা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, ‘কুমারী হল হযরত আবুবকরের কন্যা আয়েশা, আর বিধবা হল যামআর কন্যা সাওদা।’ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আচ্ছা, কথা বল।’ হযরত খাওলা রাদিয়াল্লাহু আনহা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভিমত পেয়ে আবুবকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাড়িতে গেলেন। তাঁর সাথে কথা বললেন। জাহেলী যুগে আপন ভাতিজির মতো মুখে বলা ভাতিজির সাথে বিয়ে না হওয়ার রেওয়াজ ছিল। তাই আবুবকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘আয়েশা তো রসূলের ভাতিজি। এ-বিয়ে কী করে হবে?’ হযরত খাওলা রাদিয়াল্লাহু আনহা ফিরে এসে রসূলের কাছে এ সম্পর্কে জানতে চাইলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবুবকর আমার ধর্মভাই। এমন সম্বন্ধ বিয়ের প্রতিবন্ধক নয়। হযরত আবুবকর রাদিয়াল্লাহু আনহু একথা শুনতে পেরে আর আপত্তি করলেন না।

কিন্তু এরও পূর্বে যুবাইর ইবনে মুতইম রাদিয়াল্লাহু আনহুর পুত্রের সাথে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সম্বন্ধের কথা হয়েছিল। কাজেই তড়িঘড়ি না করে তাকেও জিজ্ঞেস করা প্রয়োজন ছিল। হযরত আবুবকর রাদিয়াল্লাহু আনহু যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকটে গিয়ে বললেন, ‘তুমি তো আয়েশার সম্বন্ধ তোমার পুত্রের সাথে করবে বলেছিলে। তো এখন তোমাদের সিদ্ধান্ত কী? যুবাইর-পরিবার ইসলামের আলো থেকে দূরে ছিল। যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী জবাব দিল, এই মেয়ে বদদীন, এই মেয়ের মা-বাপ বদদীন, এ আমাদের ঘরে আগমন করলে আমাদের পরিবারও বদদ্বীন হয়ে যাবে। সুতরাং আমি এ সম্বন্ধ মানি না।

হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বয়স ছিল অল্প। কখনো কখনো মায়ের মর্জির খেলাফ কথা বলে ফেলতেন আর মা তাকে শাস্তি দিতেন, ভর্ৎসনা করতেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এটা ভালো লাগত না। তাই আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার মা-কে বলে দিয়েছিলেন, অন্তত আমার খাতিরে ওকে কষ্ট দিও না।

একবার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবুবকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাড়িতে এসে দেখতে পেলেন, হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কপাটে মুখ লাগিয়ে ক্রন্দন করছেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে রুমান রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললেন, ‘তুমি আমার কথা রাখলে না।’ উম্মে রুমান রাদিয়াল্লাহু আনহা আরয করলেন, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ! আমার বিরুদ্ধে সে বাপের কাছে নালিশ করে।’ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন, ‘যা-ই হোক, আর ওকে কিছু বল না।’ কিছু বল না।’

হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন-জিবরাইল আলাইহিস সালাম আমার ছবি আঁকা একটি সবুজ রেশমি কাপড় আকাশ থেকে এনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখিয়ে বললেন, ‘আল্লাহ তা’আলা তাঁকে দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার স্ত্রী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।’

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, তখন আমার আকৃতি আমার মায়ের গর্ভেও তৈরি হয় নি; কিন্তু আল্লাহ তা’আলা আমার আকৃতি আমার প্রিয় স্বামীকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন।

বিয়ের সময় হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর। এত অল্প বয়সে বিবাহ হওয়ার অন্যতম রহস্য ছিল, নবুওয়াত ও খেলাফতের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক গড়া। তাছাড়া আরো দুটি রহস্য রয়েছে। তা হল-

১. তাঁর ব্যাপারে আল্লাহর ইচ্ছা ছিল, তিনি প্রাপ্ত বয়স্কা হওয়ার পর তাঁর প্রথম দৃষ্টিটাই যেন আল্লাহ তা’আলার প্রিয়নবীর চেহারার উপর পড়ে।

২. অল্পবয়সে মানুষের স্মরণশক্তি অনেক বেশি থাকে। এ কারণেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষাদীক্ষার যতটুকু অংশ তিনি মনে রাখতে পেরেছিলেন, তাঁর অন্যান্য স্ত্রীদের কেউই তা পারেন নি।

ইমাম জুহরী রহ. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল স্ত্রীর জ্ঞান একত্র করা হলে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার জ্ঞান তাঁরচে’ বেশি হবে।

এছাড়া রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে এত অল্প বয়সে জীবনসঙ্গিনীরূপে গ্রহণ করার দ্বারা প্রমাণিত হয়, শৈশবেই তাঁর মাঝে অসাধারণ মেধা-প্রতিভা ও অস্বাভাবিক বর্ধনশীলতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল।..(গল্পে আকা মহীয়শী আয়েশা রাঃ বই থেকে)

হযরত আয়েশা রাঃ এর শিক্ষা জীবন

তৎকালীন আরব বর্বর জাতির লেখাপড়ার প্রতি কোন আগ্রহ ছিল না। সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোকেরা কিছু কিছু বিদ্যার্জন করত। হযরত আবুবকর সিদ্দীক (রা) ছিলেন আরবের কয়েকজন জ্ঞানী ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম। হযরত আবুবকর (রা) নিজেই উম্মুল মু’মেনীন হযরত আয়েশা (রা)-এর লেখা-পড়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

উম্মুল মু’মেনীন হযরত আয়েশা (রা) অতি মনোযোগের সাথে পিতার নিকট থেকে সে সময়ের বিদ্যা শিক্ষার পদ্ধতি অনুযায়ী কাব্য, সাহিত্য ও ইতিহাস শিক্ষা করেন। জ্ঞানে-গুণে, আচার-ব্যবহারে, স্বভাব-চরিত্রে অল্প দিনের মধ্যে হযরত আয়েশা (রা) পিতার যাবতীয় গুণাবলীই আয়ত্ত করে নিতে সমর্থ হন।

হযরত আবু বকর (রা) রাসূলে কারীম (সা) এর দরবার হতে কোরআন শরীফের কোন আয়াত শুনে এসে আয়েশা (রা)-কে শুনাতেন। আর আয়েশা (রা) ও আগ্রহ সহকারে তা কন্ঠস্থ করে নিতেন। অল্প দিনের মধ্যে তিনি ইসলামের হুকুম-আহকাম, নামায-রোজা ইত্যাদি অনুষ্ঠানগুলি যথারীতি আদায় করতে বেশ তৎপর হলেন।

ইসলামের সূচনালগ্নে শিক্ষিত পুরুষ ও মহিলা ছিল সর্বমোট চল্লিশজন। তাঁদের মধ্যে মহিলা বিদূষী শাফা বিনতে আবদুল্লাহ আদকিয়াহ ছিলেন অন্যতম। এ বিদূষী মহিলাকে হযরত আবু বকর (রা) আপন কন্যা হযরত আয়েশা (রা)-এর গৃহ শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ করেন। এ গৃহ শিক্ষিকা ও পিতার অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলেই পরিণত বয়সে এবং কর্মময় জীবনে হযরত আয়েশা (রা) ইসলামের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পেরেছিলেন।

প্রিয় পাঠিকার উদ্দেশ্যে কিছু কথা

প্রিয় বোন, আপনার প্রতি আমার নিবেদন, জীবনকে সাজিয়ে তুলুন উম্মুল মুমিনিনের আদর্শে। জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করুন তাঁর অনুসৃত পথে। এই গ্রন্থগুলো আপনাকে দান করবে সেই আলোকিত রাজপথের দিশা, যে পথে চলে আপনি পেয়ে যাবেন জীবনের প্রকৃত গন্তব্যের ঠিকানা। লাভ করবেন পরম আকাঙ্ক্ষিত সবুজ জান্নাতের দেখা।

একজন আদর্শ কন্যা, আদর্শ স্ত্রী ও আদর্শ মাতৃত্বের অধিকারী হওয়ার এবং আপনার শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য ও যৌবনের সবটুকু পবিত্রতা রক্ষা করার পরিপূর্ণ দিকনির্দেশনা আপনি পেয়ে যাবেন এই বইগুলো থেকে। পাশ্চাত্যের তথাকথিত নারী স্বাধীনতার চকচকে মরীচিকা, নারীশিক্ষা ও স্বাবলম্বিতার মোড়কে ধুরন্ধর নারীবাদীদের চটকদার প্ররোচনার জাল থেকে বাঁচতে এবং সর্বোপরি এ যুগে দাজ্জালের পর্দাহীনতার নয়া ফিতনা থেকে পরিত্রাণ পেতে এ বইগুলো হতে পারে আপনার ছায়াসঙ্গী।

হে আমার মুসলিম বোন, আপনাকেই তো হতে হবে এ যুগে, অন্ধকার এ সমাজে সততা, পবিত্রতা, নিজের ইজ্জত-আবু ও সম্মান-মর্যাদা সমুন্নত রাখার জীবন্ত প্রতীক। আপনাকেই তো আলোকিত করতে হবে এ নারীসমাজকে জ্ঞানের আলোয়, গুণের প্রভায় যেমনটি করেছেন উম্মুল মুমিনিন আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা। তাই আমি বলবো আজই সংগ্রহ করুণ হযরত আয়েশা রাঃ এর জীবনী বই পিডিএফ অথবা হার্ডকপি এবং নিজেকে গড়ে তুলুন নবী সাহাবিদের মত করে ৷

হযরত আয়েশা রাঃ এর জীবনী বই PDF (সাথে হার্ডকপি অর্ডার করে পড়ুন)

বইটির পিডিএফ অনেক পাঠক অনলাইনে খুঁজে থাকেন। সম্ভব হলে নিচ থেকে হার্ডকপি অর্ডার করতে পারেন। এতে লেখক ও প্রকাশকদের নতুন বই প্রকাশে উৎসাহ বাড়ে। আমি বলবো একবার হলেও বইটি পড়ুন। বেশি বেশি বই কিনুন, বই পড়ুন। বই মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু এবং অজানাকে জানার সেরা মাধ্যম।

15

একটু অপেক্ষা করুন, পিডিএফ খোঁজা হচ্ছে...

একটু অপেক্ষা করুন, অর্ডার লিংক তৈরি হচ্ছে...

BoiLover

Boi𝗟𝗼𝘃𝗲𝗿~বইলাভার

Join Telegram
সাম্প্রতিক বই ইসলামিক বই উপন্যাস বই বইমেলা ২০২৬ সকল ক্যাটাগরি সম্মানিত লেখকগণ আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ