মুসলিম ইতিহাসের সোনালী বিচার বই লেখক শায়খ আবদুল মালেক মুজাহিদ এবং বাংলা অনুবাদক হলেন মাওলানা মাকসুদ আহমদ ৷ বইটি প্রকাশিত হয়েছে হুদহুদ প্রকাশন থেকে ৷ বইটিতে নবিজি (সাঃ), সাহাবায়ে কিরাম, প্রসিদ্ধ মুসলিম শাসকবর্গ ও কাজিদের এমনসব ফয়সালা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো দ্বারা দুনিয়ায় ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের সোনালি ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সেগুলো দ্বারা পরবর্তীতে আগত শাসক ও বিচারকগণ মূল্যবান পথ-নির্দেশনা পেয়েছেন।
মুসলিম ইতিহাসের সোনালী বিচার বইয়ে বর্ণিত ঘটনাগুলো কেবল অতীতের ইতিহাস নয়; বরং পরবর্তী যুগের শাসক, বিচারক ও নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের জন্যও মূল্যবান দিকনির্দেশনা বহন করে। সত্য, সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং নিরপেক্ষ বিচার কীভাবে একটি সমাজ কিংবা রাষ্ট্রকে সু-শৃঙ্খল করতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ বইটির প্রতিটি অধ্যায়ে ফুটে উঠেছে। তাই বইটি পড়ার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কিভাবে ইতিহাস থেকে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা যায় ৷
বর্তমান সময়ে যখন সমাজের বিভিন্ন স্তরে অন্যায়, দুর্নীতি, লুটতরাজ ও জুলুম-অত্যাচার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন এই বইয়ের শিক্ষাগুলো আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। বইটি পাঠকের মাঝে ন্যায়, সততা ও নৈতিকতার চেতনা জাগিয়ে তোলে এবং ইতিহাস থেকে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার বাস্তব শিক্ষা পাবে। ইসলামী ইতিহাস, ন্যায়বিচার এবং আদর্শ নেতৃত্ব সম্পর্কে আগ্রহী প্রত্যেক পাঠকের দরকার মুসলিম ইতিহাসের সোনালী বিচার বই হাতে রাখা।
অনেক পাঠক বইটি পড়তে চান এবং আপনারা খুঁজে থাকেন মুসলিম ইতিহাসের সোনালী বিচার বই PDF অথবা হার্ডকপি ৷ আপনাদের পড়ার সুবিধার্থে বইটি অনলাইন থেকে সংগ্রহ করে দেওয়া হয়েছে ৷ নিজে পড়ুন এবং অপরকে পড়তে শেয়ার করুন ৷ চোখ রাখুন পিডিএফপড়.কম ৷
বই বিবরণ
- বইয়ের নামঃ মুসলিম ইতিহাসের সোনালী বিচার ৷
- লেখকঃ শায়খ আবদুল মালেক মুজাহিদ ৷
- অনুবাদকঃ মাওলানা মাকসুদ আহমদ ৷
- প্রকাশনীঃ হুদহুদ প্রকাশন ৷
- পেইজ সংখ্যাঃ ২৮৮টি ৷
- ক্যাটাগরিঃ ইসলামি ইতিহাস ও ঐতিহ্য বই ৷
লেখকের কথা
ইসলাম হল মানুষের স্বভাবধর্ম। যে-সব মৌলিক নিয়মনীতির ওপর মানবসমাজের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত, সেগুলোর একটি হল আদল ও ইনসাফ তথা ন্যায়-পরায়ণতা। কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় ন্যায়-পরায়ণতা, ইনসাফ-মুতাবিক সাক্ষ্য দেওয়া এবং হক ফয়সালা করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-
وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُمُ بَيْنَهُمْ بِالْقِسْطِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ
আর তুমি যদি তাদের মধ্যে ফয়সালা করো, তা হলে তাদের সাথে ইনসাফ মুতাবিক ফয়সালা করো। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদের পছন্দ করেন।
অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوْمِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَانُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে অবিচল থাকো। কোনও সম্প্রদায়ের শত্রুতার কারণে কখনও ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করো না। ন্যায়বিচার করো। এটাই আল্লাহভীতির অধিক নিকটবর্তী। আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা যা করো, সে-সম্বন্ধে আল্লাহ খুব ভালভাবে জ্ঞাত।
ন্যায়বিচার করার ব্যাপারে সূরা শূরায় এভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে-
وَقُلْ آمَنْتُ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنْ كِتَبٍ وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمْ
আর বলে দাও! আল্লাহ যে কিতাব পাঠিয়েছেন, তার ওপর আমি ঈমান এনেছি; আর তোমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করার ব্যাপারে আমি আদিষ্ট হয়েছি।
ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়তার বন্ধনের নির্দেশ সূরায়ে নাহলে এভাবে দেওয়া হয়েছে-
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَابْتَائِ ذِي الْقُرْبي
নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়বিচার ও সদাচরণের এবং আত্মীয়দের দেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশ দিচ্ছেন।
কুরআন মজিদের সূরা ছোয়াদ-এ, যেখানে আল্লাহ তার মনোনীত পয়গম্বর দাউদ-কে জমিনের খেলাফত দানের কথা উল্লেখ রয়েছে, সেখানে তাকে লোকদের মধ্যে ন্যায়বিচার করার এবং নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। [সূরা ছোয়াদ : আয়াত ২৬]
অপর এক জায়গায়, যারা আল্লাহ-র নাযিলকৃত হুকুম মুতাবিক ফয়সালা না করে, তাদেরকে কুফর ও অন্যায়-অনাচার করার অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়েছে। [সূরা মায়েদা : আয়াত ৪৪, ৪৫ ও ৪৭]
কুরআনের এসব আয়াত দ্বারা দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে যায় যে, শাসক, কাজি বা সালিস-যিনিই বিচার করুন না কেন, তার জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার এবং সঠিক ফয়সালা করা আবশ্যক। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের প্রতি লক্ষ রাখা যাবে না। তদ্রূপ রাগান্বিত অবস্থায়ও বিচারকার্য করা যাবে না।
যেমন আবু বাকরা সিজিস্তানে অবস্থানরত তার পুত্র আব্দুর রহমানকে লিখে পাঠিয়েছিলেন, রাগান্বিত অবস্থায় থাকলে তুমি দু’পক্ষের মধ্যে ফয়সালা কোরো না। কারণ, আমি নবীজি []-কে বলতে শুনেছি-
لَا يَقْضِيَنَّ حَكَمُ بَيْنَ اثْنَيْنِ وَ هُوَ غَضْبَانُ
কোনও বিচারক [হাকিম বা সালিস] ক্রুদ্ধ থাকা অবস্থায় দু’পক্ষের মধ্যে বিচার করবে না।
শেষনবী মুহাম্মদ [] রাসুল হওয়ার পাশাপাশি শাসকও ছিলেন, এবং বিচারকও ছিলেন। বিভিন্ন সময় তার দরবারে যে ফয়সালা হয়েছে, সেগুলো হক ও ইনসাফের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এরপর খুলাফায়ে রাশেদিন এবং অন্যান্য সাহাবায়ে কিরাম যেসব ফয়সালা করেছেন, সেগুলোও ছিল পুরোপুরি ন্যায়-বিচারের ওপর। মানবেতিহাসে এ রকম বিচারের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না। বিশেষকরে উমর এবং আলী -র বিরল ফয়সালাগুলো তাদের অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও দূরদৃষ্টির পরিচায়ক।
এর পর কাজি শুরাইহ, কাজি আয়াস, খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজ, কাজি শরিক, কাজি আবু হাজেম, কাজি আবু ইউসুফ, কাজি মুনযির বিন সাঈদ এবং অন্যান্য প্রসিদ্ধ বিচারকগণ বিচারকের আসনে বসে এমনসব শানদার ফয়সালা করেন, যেগুলো সত্য ও সততার ইতিহাসকে অলঙ্কৃত করেছে। তা ছাড়া, তাদের পরের খলিফা এবং শাসকগণও ইনসাফ ও ন্যায়বিচার দ্বারা ইতিহাসের পাতায় তাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে গেছেন।
‘মুসলিম ইতিহাসের সোনালি বিচার’ শিরোনামে আমাদের আলোচ্য বইটিতে নবীজি [], সাহাবায়ে কিরাম, প্রসিদ্ধ মুসলমান শাসকবর্গ ও কাজিদের সে-সব ফয়সালা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো দ্বারা দুনিয়ায় ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের সোনালি ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সেগুলো দ্বারা পরবর্তীতে আগত শাসক ও বিচারকগণ মূল্যবান পথ-নির্দেশনা পেয়েছেন।
এসব ঘটনাবলি এজন্যও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এতে ইসলামি সমাজে আবারও সততা প্রতিষ্ঠা হবে। আর যেসব ইসলামি রাষ্ট্রে, বিশেষ করে পাকিস্তানে লুটতরাজ ও জুলুম-অত্যাচারের মহামারি যেভাবে দেখা দিয়েছে, তা থেকে জাতি মুক্তি পাবে, এবং ইসলামের বরকত দ্বারা যথাযথভাবে উপকৃত হওয়া যাবে।
এই বইটিতে বর্ণনাসূত্রে সত্যায়িত ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ঘটনাবলি সংকলন করা হয়েছে। সাবলীল ভাষায় কথোপকথনের ভঙ্গিমায় উপস্থাপনের কারণে বর্ণিত ঘটনাগুলো পাঠকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে। বেশিরভাগ ঘটনাই নেওয়া হয়েছে নবীজি [], খুলাফায়ে ইসলাম ও মহান শাসকগণের। সূত্রের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দারুস্সালাম, লাহোরের গবেষক মুহসিন ফারানি বইটির সম্পাদনা ও পরিমার্জনার পাশাপাশি ঘটনার শেষে ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি যোগ করে দিয়েছেন। যার ফলে বইটির উপকারিতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বেশিরভাগ ঘটনা নেওয়া হয়েছে আরবি কিতাব থেকে। দারুস্সালাম, রিয়াদ-এর ভাই রেজওয়ানুল্লাহ রিয়াজির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি পাণ্ডুলিপির বিন্যাস, কয়েকটি উক্তির অনুবাদ ও সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তা ছাড়া আমাদের ইলমি কমিটির জিম্মাদার কারি মুহাম্মদ ইকবাল আব্দুল আজিজও কৃতজ্ঞতার হকদার, যিনি বইটিকে শেষবার দেখে দিয়েছেন। এবং অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা সংযোজন করেছেন। এ ছাড়াও দারুস্সালামের যেসব সাথিরা বইটির কম্পোজ, সংশোধন ও প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অংশ নিয়েছেন, তাদের সবার জন্য আল্লাহ-র দরবারে দোয়া করছি।
‘মুসলিম ইতিহাসের সোনালি বিচার’ আমার কয়েক বছরের অধ্যয়নের সারবস্তু। এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে যদি আমাদের শাসকশ্রেণি এবং বিচারকগণ সঠিক ফয়সালা করেন এবং নির্ভীকভাবে সত্যের পক্ষে রায় দেন, এবং এর ফলে যদি সমাজ থেকে জুলুম-অত্যাচার দূর করার ক্ষেত্রে কিছুটা সাহায্য পাওয়া যায়, এবং ব্যক্তিগতজীবন ও সামাজিকজীবনে ইসলামের ন্যায়বিচারের বরকতে উপকৃত হন, তা হলে মনে করব, আমাদের কষ্ট সফল হয়েছে।
‘দারুস্সালাম’ একটি দীনি মিশন। এর সবগুলো বই-ই মানুষকে ইসলামি শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে, এবং ব্যক্তি-ও সমাজজীবনে নেক ও সৎকাজ প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ হয়। ‘মুসলিম ইতিহাসের সোনালি ফয়সালা’ বইটি হল এর সর্বশেষ সংযোজন। আশা রাখি, পাঠকবর্গ ও চিন্তাবিদরা বইটি পাঠ করে নিজের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে উন্নতি সাধনে চেষ্টা করবেন। যেন তা তাদের নিজেদের এবং অন্যদের পার্থিব ও পারলৌকিক জীবনে মুক্তির উপাদান হতে পারে।
মুসলিম ইতিহাসের সোনালী বিচার বই পিডিএফ ও হার্ডকপি প্রয়োজন হলে নিচে দেখুন ৷
মুসলিম ইতিহাসের সোনালী বিচার বই PDF পড়ুন (with হার্ডকপি) | ইতিহাস থেকে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা
বইটির পিডিএফ অনেক পাঠক অনলাইনে খুঁজে থাকেন। সম্ভব হলে নিচ থেকে হার্ডকপি অর্ডার করতে পারেন। এতে লেখক ও প্রকাশকদের নতুন বই প্রকাশে উৎসাহ বাড়ে। আমি বলবো একবার হলেও বইটি পড়ুন। বেশি বেশি বই কিনুন, বই পড়ুন। বই মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু এবং অজানাকে জানার সেরা মাধ্যম।
একটু অপেক্ষা করুন, পিডিএফ খোঁজা হচ্ছে...
একটু অপেক্ষা করুন, অর্ডার লিংক তৈরি হচ্ছে...

