একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির প্রিয় শিক্ষার্থীরা, HSC আইসিটি ১ম অধ্যায় অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর PDF সহ খুঁজছো? পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অনুধাবনমূলক প্রশ্নগুলো ভালোভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি। তাই তোমাদের পড়াশোনাকে আরও সহজ ও গুছিয়ে নিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) বইয়ের ১ম অধ্যায়—“বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত” থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তরগুলো এখানে সুন্দরভাবে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তোমরা চাইলে এখান থেকেই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো পড়ে নিতে পারবে এবং প্রয়োজন হলে PDF ফাইলটি সংগ্রহ করে অফলাইনেও পড়তে পারবে। পরীক্ষার আগে দ্রুত রিভিশন দেওয়ার জন্যও এই প্রশ্নগুলো বেশ কাজে আসবে।
এছাড়াও HSC ICT সহ অন্যান্য বিষয়ের বই, অধ্যায়ভিত্তিক জ্ঞানমূলক, অনুধাবনমূলক ও MCQ প্রশ্নের উত্তর পেতে নিয়মিত আমাদের-এর সঙ্গে থাকুন।
HSC আইসিটি ১ম অধ্যায় অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর
০১. তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বই বিশ্বগ্রাম-ব্যাখ্যা কর।
গ্লোবাল ভিলেজ মূলত একটি ধারণা যেখানে বিশ্বের মানুষের মাঝে যোগাযোগ, যাতায়াত, ইলেক্ট্রনিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটি কমিউনিটিতে পরিণত হয়। গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর এমন একটি সামাজিক বা সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা, যেখানে পৃথিবীর সকল প্রান্তের মানুষই একটি একক সমাজে বসবাস করে।
০২. আচরণের মাধ্যমে ব্যক্তি শনাক্তকরণের পদ্ধতি বুঝিয়ে লেখ।
বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির সাহায্যে মানুষের আচরণগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কোনো ব্যক্তিকে শনাক্তকরণের জন্য আচরণিক ডেটা (যেমন: ভয়েস রিকগনিশন সিস্টেম, সিগনেচার ভেরিফিকেশন পদ্ধতি, টাইপিং কী স্ট্রোক রিকগনিশন সিস্টেম) ব্যবহার করা হয়। কোনো ব্যক্তির আচরণগত বৈশিষ্ট্যগুলো ইনপুট ডেটা হিসেবে গ্রহণ করে পরবর্তীতে মিলিয়ে ব্যক্তি শনাক্তকরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
০৩. সিমুলেটর ও মডেলিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সম্ভব। ব্যাখ্যা কর।
সিমুলেটর ও মডেলিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে কাল্পনিক ত্রিমাত্রিক পরিবেশ তৈরি করা হয় যা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নামে পরিচিত। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এমন একটা পরিবেশ সেখানে যাই ভাবিনা কেন সেটার বাস্তব অনুভূতি পাওয়া নিন্তান্ত কোনো কঠিন কাজ নয়। বর্তমানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সম্ভব। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সত্যিকার যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করে সৈনিকদের উন্নত ও নিখুঁত প্রশিক্ষণ প্রদান করা যায়। এ ছাড়াও মোটরগাড়ি, জাহাজ, বিমান ইত্যাদি চালানোর প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণার্থী খুব সহজেই বাস্তবে মোটরগাড়ি, জাহাজ বা বিমান চালানোর নানা নিয়মকানুন আয়ত্ত করতে পারে এবং বাস্তবের ন্যায় প্রশিক্ষণ অর্জন করতে পারে।
০৪. কোন প্রযুক্তিতে সারা বছর আমের ফলন সম্ভব? ব্যাখ্যা কর।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর সাহায্যে এক ধরনের শস্যে থেকে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের শস্যে উৎপাদন করা হচ্ছে। যেখানে রিকম্বিনেট DNA এর মাধ্যমে যেসব জিন পুষ্টির বাহক, ফলবর্ধন সালোকসংশ্লেষণ ক্ষমতা সম্পন্ন এবং সারা বছর ফলনশীল সেসব জিনকে বিভিন্ন বিভিন্ন উদ্ভিদ থেকে সংগ্রহ করে আমের চারায় ঢুকিয়ে দিয়ে সারা বছর আমের ফলন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
০৫. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যাখ্যা কর।
যদি কোনো কম্পিউটার বা যন্ত্র নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারে তখন তাকে বলা হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স (Artificial Intelligence-AI) হলো এক ধরনের কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত জ্ঞান, যা মানুষের চিন্তা-চেতনা গুলোকে কম্পিউটার প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে এবং যেখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার দ্বারা অনুকৃত করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে।
০৬. টপ টু ডাউন পদ্ধতিতে কাজ করার প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
“top-down” পদ্ধতিতে ন্যানো নিয়ন্ত্রণ স্তরের পারমাণবিক অবজেক্ট গুলো ছাড়াই বৃহত্তর বস্তু থেকে নির্মিত হয়। এ পদ্ধতিতে কোন জিনিসকে কেটে ছোট ছোট করে তাকে নির্দিষ্ট আকার দেয়া হয়। আমাদের বর্তমান ইলেক্ট্রনিক্স হল, “top-down” প্রযুক্তি। আর ন্যানোটেকনোলজির হল “bottom-up” প্রযুক্তি। আইসিটি ১ম অধ্যায় অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে আরও দেখুন
০৭. তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তি একে অপরের পরিপূরক বুঝিয়ে লেখ।
কোনো প্রযুক্তির সাহায্যে তথ্য সংগ্রহ করা হলো তথ্য প্রযুক্তি এই তথ্য সমূহ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া হলো যোগাযোগ প্রযুক্তি। শুধু তথ্য সংগ্রহ করে যেমন লাভ নেই যদি না সেগুলো স্থানান্তর করি। একটি ছাড়া অন্যটি অচল। তাই বলা যায় তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তি একে অপরের পরিপূরক।
০৮. হ্যাকিং নৈতিকতা বিরোধী কর্মকাণ্ড-ব্যাখ্যা কর।
বর্তমান সময়ে হ্যাকিং একটি অন্যতম নৈতিকতা বিরোধী কর্মকাণ্ড। যারা হ্যাকিং এর কাজের সাথে সম্পৃক্ত তাদের হ্যাকার বলে। এই হ্যাকাররা অনুমতি ব্যতীত অন্যের কম্পিউটার বা কম্পিউটার নেটওয়্যার্কে প্রবেশ করে তথ্য মুছে ফেলে, তথ্য চুরি করে, তথ্য পরিবর্তন করে, ভাইরাস প্রবেশ করায়। এই সব কর্মকাণ্ডকে হ্যাকিং বলা হয়। হ্যাকারদের চিহ্নিত করা হয় Hat বা টুপি দিয়ে।
০৯. ‘তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে দূরবর্তী রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব।”- ব্যাখ্যা কর।
যে পদ্ধতিতে দূরবর্তী রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব তা হলো টেলিমেডিসিন। যা মাধ্যমে দূরে অবস্থানরত রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, রোগ নির্ণয় কেন্দ্র, বিশেষায়িত নেটওয়ার্ক ইত্যাদির সমন্বয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়।
টেলিমেডিসিন হলো এক ধরনের সেবা, যেখানে এক দেশে অবস্থান করে অন্য দেশের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করা যায়। বাংলাদেশেও এর ব্যবহার শুরু হয়েছে।
১০. কানেক্টিভিটি বিশ্বগ্রামের মূল চালিকাশক্তি-ব্যাখ্যা কর।
বর্তমান সময়কে বলা হয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ বা বিশ্বায়নের যুগ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে সারা বিশ্ব আজ পরিণত হয়েছে বিশ্বগ্রামে। বিশ্বগ্রাম হচ্ছে এমন একটি পরিবেশ যেখানে পৃথিবীর সকল মানুষ একটি একক সমাজে বসবাস করে এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে একে অপরকে সেবা প্রদান করে থাকে। আর কানেকটিভিটি বলতে মূলত ইন্টারনেট সংযোগকে বোঝায়। নেটওয়ার্ক বা কানেকটিভিটি যার মাধ্যমে বিভিন্ন উপাত্ত ও তথ্য বিশ্বগ্রামের প্রতিটি মানুষের নিকট পৌঁছাতে পারে। নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদানই হচ্ছে বিশ্বগ্রামের মূল ভিত্তি। কানেকটিভিটির মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত প্রতিটি মানুষের নিকট পৌঁছাতে পারে। তাই বলা যায় যে, বিশ্বগ্রামের মেরুদণ্ডই হলো কানেক্টিভিটি বা সংযুক্ততা।
১১. “তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে দূরবর্তী রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব।” -ব্যাখ্যা কর।
উক্তিটি দ্বারা টেলিমেডিসিন বোঝানো হয়েছে। টেলিমিডিসিনের মূল কথা হলো তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়া। বাংলাদেশে টেলিমিডিসিন কিছুটা নতুন। তবুও ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অনেক অগ্রগতি লাভ করেছে। বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে টেলিকনফারেন্স ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেওয়া শুরু হয়েছে। সেই সাথে ই-মেইলে পাঠানো রোগীর পরীক্ষা রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনলাইন ডেটাবেজ ফাইলে হাজার হাজার রোগীর অবস্থা (History), প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট সংরক্ষণ করে রাখা যায়। সেগুলো থেকে খুব সহজেই বিভিন্ন পরিসংখ্যান তৈরি করে ফেলা যায় এবং সে অনুযায়ী রোগীকে পরামর্শ দেয়া যায়। এছাড়াও চিকিৎসকেরা চাইলে বিভিন্ন বিষয়ে পৃথিবীর যেকোনো দেশে থাকা অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।
১২. তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তি একে অপরের পরিপূরক-বুঝিয়ে লেখ।
তথ্য প্রযুক্তি হলো যেকোনো কম্পিউটার, ডেটাবেজ, নেটওয়ার্কিং, ভৌত যন্ত্রাংশ, অবকাঠামো ইত্যাদির প্রয়োগ যার সাহায্যে যেকোনো গঠনের ইলেকট্রনিক ডেটা প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। আর যোগাযোগ ব্যবস্থার নকশা এবং নির্মাণ কার্যকলাপ বজায় রাখাই হলো যোগাযোগ প্রযুক্তি। অর্থাৎ প্রয়োজনের সময় সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা-ই তথ্য প্রযুক্তির কাজ। আর তথ্যের এই আদান-প্রদান হয় যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে। তাই তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তির একে অপরের পরিপূরক।
