মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আত্তার ফার্সি ভাষায় রচিত পান্দে নামা কিতাব বাংলা PDF ডাউনলোড করে অনেক পাঠক অফলাইনে পড়তে ইচ্ছুক ৷ পান্দে নামা শায়েখ ফরীদ উদ্দীন আত্তার (রহ.)-এর একটি কিংবদন্তি রচনা। ফার্সি ভাষায় কবিতাকারে রচিত এই কিতাবটি একটি কালজয়ী আধ্যাত্মিক ও নীতিবাক্যমূলক গ্রন্থ। ফার্সি ভাষায় ‘পান্দ’ অর্থ উপদেশ এবং ‘নামা’ অর্থ গ্রন্থ বা চিঠি। সুতরাং, পান্দনামা শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো উপদেশনামা বা উপদেশের গ্রন্থ। চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য এতে আত্মার খোরাক রয়েছে।
কিতাবটিতে আত্মশুদ্ধি, দুনিয়ার প্রতি মোহ ত্যাগ, বিনয়, দানশীলতা, আল্লাহর প্রতি প্রেম ও ভয় (তাকওয়া) এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়ার নানা উপায় আলোচনা করা হয়েছে। হিংসা, অহংকার ও কৃপণতার মতো অন্তরের রোগ থেকে মুক্তি এবং ধৈর্য, বিনয় ও অল্পেতুষ্টির মতো গুণাবলি অর্জনের দিকনির্দেশনা রয়েছে এতে। একজন মুমিনের দৈনন্দিন জীবনের আদব, শিষ্টাচার ও নৈতিকতা কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
দীর্ঘ সাতশ’ বছর যাবৎ এশিয়া মাইনর ও উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে পান্দনামা ব্যাপকভাবে পঠিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে আধ্যাত্মিক সাধকদের নিকট এ গ্রন্থ বিশেষভাবে সমাদৃত। কওমি মাদরাসার প্রাথমিক স্তরেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পড়ানো হয়। কিতাবটি ফারসি ভাষায় হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও কওমি ধারার ছাত্রদের পড়তে বিরম্বনার শিকার হতে হয়। তাই ফারসি শেয়েরের বাংলা উচ্চারণ, উর্দু ও বাংলা অনুবাদ, প্রয়োজনীয় শব্দের তাহকীক, টিকা, শব্দের ব্যবহার এবং কুরআন-সুন্নাহর প্রয়োজনীয় উদ্ধৃতি ও ব্যাখ্যাসহ সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সুলতানুল আরেফীন শায়খ ফরীদ উদ্দীন আত্তার রহিমাহুল্লাহ -এর অনবদ্য কাব্যগ্রন্থ ‘পান্দেনামা’ যুগ যুগ ধরেই দরসে নেজামীতে পাঠ্যভূক্ত। সুর ও ছন্দের অপূর্ব মিশেলে তৈরি এ গ্রন্থটি ফার্সী ভাষায় রচিত হওয়ায় বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য এর একটি সুখপাঠ্য সরল অনুবাদগ্রন্থ প্রয়োজন। এই অনুবাদ গ্রন্থটি এমনি একটি প্রয়াস।
মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আত্তার রহিমাহুল্লাহ -এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
নাম ও জন্ম
শায়খ ফরীদ উদ্দীন আত্তার রহিমাহুল্লাহ ৫১৩ হিজরীর শাবান মাসে বর্তমান ‘নিশাপুর’ জেলার ‘গাদানক’ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তখন ছিল সুলতান সানজরের শাসনামল। তাঁর পূর্ণ নাম- মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর ইবরাহীম ইবনে ইসহাক। উপাধি- ফরীদ উদ্দীন। কুনিয়াত বা উপনাম- আবু হামেদ, আবু তালেব ।
শিক্ষা ও কর্মজীবন
তিনি নিজ এলাকাতেই প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। অতঃপর উচ্চ শিক্ষা অর্জনে মনোযোগী হোন এবং নানাহ বিষয়ে বুৎপত্তি অর্জনের পাশাপাশি চিকিৎসা শাস্ত্রও আয়ত্ব করেন। তাঁর পিতা আতরের ব্যবসা করতেন। এ কারণে শৈশবে তিনি আতরের ব্যবসায় পিতাকেও সাহায্য করতেন। প্রয়োজনীয় শিক্ষা লাভের পর তিনি আতরের ব্যবসায় পূর্ণ আত্মনিয়োগ করেন। আর এজন্যই তিনি ‘আত্তার’ নামে খ্যাত হোন।
আধ্যাত্মিক জীবন
শায়খ ফরীদ উদ্দীন আত্তার রহিমাহুল্লাহ প্রথমে শায়খ রুকনুদ্দীন রহিমাহুল্লাহ-এর নিকট বাইআত গ্রহণ করেন। কারো কারো মতে তিনি কুতবে আলম শায়খ হায়দার রহিমাহুল্লাহ -এর নিকট বাইআত লাভ করেন। সে সময় তিনি ‘হায়দারনামা’ কিতাবটিও রচনা করেছেন। তারপর শায়খ নাজমুদ্দীন কুবরা রহিমাহুল্লাহ -এর বিশিষ্ট খলীফা শায়খ মাজদুদ্দীন খাওয়ারজেমী রহিমাহুল্লাহ-এর নিকট বাইআত হোন এবং আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে তিলে তিলে গড়ে তোলেন। বিশিষ্ট আলেমদের মতে আল্লামা রূমী রহিমাহুল্লাহ প্রথমে হযরত আত্তার রহিমাহুল্লাহ-এর নিকট বাইআত ছিলেন। এরপর আল্লামা শামসুত-তিবরিজ-এর নিকট বাইআত হোন। এজন্য ‘পান্দেনামা’ কিতাবে ‘হে বৎস’ বা ‘হে প্রিয়’ বলে আল্লামা রূমী রহিমাহুল্লাহকে বুঝিয়েছেন।
কর্মজীবন পরিবর্তনের বিশেষ ঘটনা
শায়খ ফরীদ উদ্দীন আত্তার রহিমাহুল্লাহ একদিন স্বীয় দোকানে আতর বেচাকেনা করছিলেন, এমতাবস্থায় একজন ভিক্ষুক এসে বললো, আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে কিছু ভিক্ষা দিন। এভাবে চাওয়া সত্ত্বেও তিনি তার প্রতি কোন ভ্রূক্ষেপ করলেন না। এক পর্যায়ে ভিক্ষুক বললো, কি আশ্চার্য মানুষ! আপনি কোন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবেন? উত্তরে আত্তার রহিমাহুল্লাহ বললেন, তোমার যে অবস্থায় মৃত্যু হবে, আমারও সে অবস্থাতেই মৃত্যু হবে। তা শুনে ভিক্ষুক বললো, তুমি কি ঠিক আমার মত মরতে পারবে? এই বলে স্বীয় পেয়ালা এক পাশে রেখে শুয়ে পড়ল এবং উচ্চস্বরে আল্লাহু আকবার বলতে বলতে আল্লাহর দরবারে চলে গেল। ভিক্ষুকের এই অবস্থা দেখে তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য সব আল্লাহর রাস্তায় দান করে আল্লাহকে পাওয়ার কঠোর ধ্যান-সাধনার পথ গ্রহণ করলেন। যার ফলে তিনি তৎকালীন যুগের অদ্বিতীয় বুযুর্গে পরিণত হন।
রচনাবলী
তিনি আরবী এবং ফারসী ভাষার পণ্ডিত ছিলেন। শরীয়ত ও মারেফাতের উপর তাঁর লেখা প্রায় ১১৩ টি কিতাব রয়েছে। তন্মধ্যে বিশেষ কিছু উল্লেখ করা হলো, ১. পান্দে নামা কিতাব। ২. শাহনামা। ৩. ওসিয়তনামা। ৪. হায়দারনামা ৫. হুলিয়ানামা। ৬. তাযকিরাতুল আওলিয়া, ইত্যাদি।
ইন্তেকাল
তিনি ইতিহাসের এক বর্বর তাতারের হাতে ৬২৯ হিজরীতে শহীদ হোন। শাহাদাতের সময় তাঁর বয়স ছিল অনুমানিক ১১৬ বসর। তাঁকে ‘নিশাপুরে’ সমাহিত করা হয়। তাঁর উপর আক্রমণকারীরা পরবর্তীতে অনুতপ্ত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এবং সারা জীবন হযরতের কবরের পাশে সময় কাটায়।
বিভিন্ন প্রকাশনীর পান্দে নামা কিতাব বাংলা
১. বইঃ ছন্দে বাংলা পান্দে নামা – (ফার্সি-বাংলা)
- অনুবাদকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান(নড়াইলী) ৷
- প্রকাশনীঃ ইসলামিয়া কুতুবখানা ৷
- পড়ার সুবিধাঃ বইটিতে ফার্সি ভাষা ও বাংলা অর্থসহ আছে ৷ যারা ফার্সি যানে তাদের জন্য সুবিধা ৷
২. বইঃ পান্দে নামা বাংলা
- অনুবাদক ও প্রকাশনীঃ কুতুবখানায়ে রশিদিয়া ৷
- সুবিধাঃ ফারর্সি – বাংলা উচ্চারণসহ ৷
৩. বইঃ কছদে ত্বলেবাঁ শরহে বাংলা পান্দেনামা
- অনুবাদকঃ মাওলানা মোহাম্মাদ আব্দুন নূর সিরাজী ৷
- সম্পাদকঃ মাওলানা মোহাম্মাদ আব্দুন নূর সিরাজী ৷
- প্রকাশনীঃ আশরাফিয়া বুক হাউস ৷
- সুবিধাঃ ফারসী শেয়েরের বাংলা উচ্চারণ, উর্দু ও বাংলা অনুবাদসহ প্রয়োজনীয় শব্দের তাহকীক, টিকা, শব্দের ব্যবহার এবং কুরআন সুন্নাহর প্রয়োজনীয় উদ্ধৃতি ও ব্যাখ্যা সম্বলিত ৷
৪. বইঃ পান্দ নামা ৷
- অনুবাদকঃ হারুনুর রশীদ ৷
- প্রকাশনীঃ নিউ কুতুবখানা আশরাফিয়া ৷
- সুবিধাঃ ফারর্সি-ফার্সি বাংলা উচ্চারণ, বাংলা অর্থ, বাংলা শব্দার্থ, ব্যাখ্যাসহ ৷
শায়খুল আউলিয়া শেখ ফরীদ উদ্দীন আত্তার (র.) কর্তৃক ফার্সী ভাষায় রচিত “পান্দনামা” কিতাবখানা অসংখ্য নসীহত ও উপদেশাবলীতে ভরপুর একটি প্রসিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ। যে সকল উপদেশ কুরআন, হাদীস এবং বুযর্গানে দ্বীন ও নেক বান্দাগণের আমল ও উপদেশ থেকে চয়ন করেছেন।
৫. বইঃ পান্দেনামা ৷
- অনুবাদকঃ মাহমুদুল হাসান নিজামী ৷
- প্রকাশনীঃ রোদেলা প্রকাশনী ৷
- সুবিধাঃ বাংলা উচ্চারণসহ অনুবাদ ৷
পারস্য সাহিত্যের বিশ্বজয়ী এক কবির নাম শেখ ফরিদ উদ্দিন আত্তার। কবিতাকে দার্শনিক সত্তায় আধ্যাত্মিক বলয় নির্মাণে ছান্দিক রূপ দিয়েছেন তিনিই প্রথম। জীবনমুখী কাব্য- মানুষের কল্যাণে কবিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ সর্ব প্রথমই দিয়েছেন কবি আত্তার। আত্মগঠন ও সমাজ নির্মাণ রাষ্ট্র কাঠামো মানবিকতা কবিতার কাছে সমর্পণ দিয়েছেন তিনিই প্রথম।
কবিতা যে হতে পারে সমাজ নির্মাণের উপাত্ত তা পান্দে নামা কিতাব পড়লেই বুঝা যাবে স্পষ্ট। কবিতা যে ইতিহাসের প্রতিচিত্র হতে পারে তা কবি আত্তারের পান্দেনামাই সাক্ষী। এক হাজার বছর আগেও এত শক্তিশালী সাহিত্য ছন্দ মাত্রার নিখুঁত ব্যবহার অকল্পনীয় ৷
৬. বইঃ সহজ পান্দ নামা ৷
- অনুবাদকঃ মাওঃ মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান যশোরী ৷
- প্রকাশনীঃ আল-আকসা লাইব্রেরী ৷
- সুবিধাঃ ফার্সি-তাহকীক-বাংলা অনুবাদ-ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ৷
[ সবগুলো বইয়ের হার্ডকপি নিচে পাবেন]
পান্দে নামা কিতাব বাংলা PDF ডাউনলোড
পান্দেনামা মানে উপদেশ নামা মহাকবি ফরিদুদ্দীন আত্তার কবিতাকে মানবিক কল্যাণের উৎপেক্ষীয় উপসর্গ হিসাবে উপস্থাপন করেছেন। নান্দনিকভাবে সাহিত্যের ইতিহাসে নিশাপুরের কবিতার সহযাত্রী পারস্য সাহিত্যের আধ্যাত্মিকতার রূপকার কবি ফরিদুদ্দীন আত্তার বিশ্বের ইতিহাসে এক অনন্য নাম। জীবনমুখী কবিতায় তিনি মানুষকে সাজাতে চেয়েছেন কবিতার ছন্দে ছন্দে। পান্দেনামা কাব্য গ্রন্থটি ফরিদুদ্দীন আত্তার-এর অমর সৃষ্টি। যা যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিনই পান্দেনামা গ্রন্থটির আবেদন দিন দিন বাড়তে থাকবে। পান্দে নামা কিতাব বাংলা PDF ডাউনলোড ও হার্ডকপি নিচে দেখুণ ৷
বইটির পিডিএফ অনেক পাঠক অনলাইনে খুঁজে থাকেন। সম্ভব হলে নিচ থেকে হার্ডকপি অর্ডার করতে পারেন। এতে লেখক ও প্রকাশকদের নতুন বই প্রকাশে উৎসাহ বাড়ে। আমি বলবো একবার হলেও বইটি পড়ুন। বেশি বেশি বই কিনুন, বই পড়ুন। বই মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু এবং অজানাকে জানার সেরা মাধ্যম।
একটু অপেক্ষা করুন, পিডিএফ খোঁজা হচ্ছে...
একটু অপেক্ষা করুন, অর্ডার লিংক তৈরি হচ্ছে...


