অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’ বাংলা সাহিত্যের একটি আলোচিত উপন্যাস। বইটির কেন্দ্রে আছে পূর্ব বাংলার গ্রামীণ জীবন। আছে মানুষের সম্পর্ক। আছে প্রকৃতি। আছে দেশভাগের আগের সময়ের সামাজিক বাস্তবতা। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় নীলকন্ঠ পাখির খোঁজে বই PDF খুঁজে থাকেন অনেক পাঠক ৷ প্রিয় পাঠক বইটির পিডিএফ এবং হার্ডকপি নিচে দেখুন এবং পশ্চিমবঙ্গের বই পেতে আমাদের সাথেই থাকুন ৷
উপন্যাসটি শুধু দেশভাগের ঘটনা নিয়ে লেখা নয়। বরং দেশভাগের আগে বাংলার মানুষ কীভাবে জীবন কাটাত, সেটিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরে দেশভাগ সেই পরিচিত জীবনকে কীভাবে বদলে দেয়, তার বেদনাও কাহিনিতে আসে।
নীলকন্ঠ পাখির খোঁজে বই বিবরণ
- বইঃ নীলকন্ঠ পাখির খোঁজে ৷
- লেখকঃ অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় ৷
- প্রকাশনীঃ করুণা প্রকাশনী (ভারত) ৷
- পেইজ সংখ্যাঃ ৩৯৮টি ৷
- ক্যাটাগরিঃ পশ্চিমবঙ্গের উপন্যাস বই ৷
নীলকন্ঠ পাখির খোঁজে উপন্যাসের বিষয়বস্তু
‘নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’ বইয়ের মূল উপজীব্য দেশভাগ। সম্ভ্রান্ত এক ব্রাহ্মণ ঠাকুর পরিবারের দৈনন্দিন জীবনকে ঘিরে উপন্যাসের কাহিনি সাজানো। ‘সোনার দ্যাশে’ প্রবল দাপটের সঙ্গে তারা জীবন কাটিয়ে গেছে। অভাব ছিল না কোনো কিছুরই। অথচ দেশভাগের পর বাংলাদেশ ছেড়ে হিন্দুস্তান চলে গেলে তারাই হয়ে ওঠে পরজীবী। আমাকে দেশ ছাড়তে হয়নি। তবু সোনার কষ্টের মধ্য দিয়ে দেশ ছাড়ার যন্ত্রণা মর্মে মর্মে টের পাই!
অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় এভাবেই সাজিয়েছেন তাঁর ‘নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’-র চরিত্রদের। তাদের ঘিরে চলে নানা ঘটনাপ্রবাহ। একটি সময়ের চিত্র তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন এসব চরিত্র এবং তাদের গল্পের মাধ্যমে। কিন্তু সে গল্প পুরোপুরি গল্প নয়। বাস্তব। সেই বাস্তবকে বুঝতে হলে আমাদের এখন থেকে সত্তর-আশি বছর পূর্বের সময়টাকে জানতে হবে, বুঝতে হবে। পূর্বধারণা না থাকলে এ গল্প বুঝতে এবং তার ভেতরে প্রবেশ করতে কিছুটা কষ্ট হবে।
‘নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’ বইয়ে লেখক কোনো চরিত্রকে ‘মূল চরিত্র’ বা নায়ক করে রাখেননি। এ উপন্যাসে সময় আর প্রকৃতিই নায়ক। চরিত্রগুলো কেবল সেই সময় আর প্রকৃতিকে তুলে ধরে। এ কারণেই পাগল মানুষ, ঈশম কিংবা সোনা—কাউকেই আমরা একচ্ছত্র নায়ক হিসেবে দেখি না। মূলত অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় সে সময়ের বাংলাদেশ, বাংলার মানুষের গল্প বলেছেন। আর এই দেশের, যে অঞ্চলের বর্ণনা তিনি দিয়েছেন, সেখানকার প্রকৃতির কথাও বলেছেন। কেননা প্রকৃতি ছাড়া দেশ যে অপূর্ণ।
এ বই দেশভাগ নিয়েই রচিত। কিন্তু দেশভাগ মানেই যে দাঙ্গা, গান্ধী-জিন্না বিতর্ক আর শরণার্থী নিয়ে জল ঘোলা করতে হবে, তা নয়। দেশভাগ কীভাবে একটি ছোট গ্রামের ওপর প্রভাব ফেলেছিল, সে কথাই পাওয়া যায় এই বইয়ে। এবং তা এসেছিল ধীরে। মন্দিরের পাশে গরু জবাই নিয়ে সংঘর্ষ, মণীন্দ্রনাথের প্রতি ফেলুর আক্রোশ—সে সময়ের কথাই আমাদের বলে। যে ভাঙনটা এসেছিল, তা ধীরে ধীরেই এসেছিল। কেমন করে এসেছিল, সে কথা একদম এড়িয়ে যাননি অতীন। এমনকি বিভাগ-পূর্ব সময়ে যে সামাজিক অবক্ষয়ের কথা মিহির সেনগুপ্ত লিখেছেন ‘বিষাদবৃক্ষ’ বইয়ে, সে চিত্রও পাওয়া যায় ‘নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’ উপন্যাসে।
অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’ উপন্যাসের চরিত্র মণীন্দ্রনাথও প্রতিনিয়ত সেই নীলকণ্ঠ পাখি খুঁজে চলেন। হঠাৎ হঠাৎ তিনি দুহাত ওপরে তুলে তালি বাজাতে থাকেন—যেন আকাশের কোনো প্রান্তে তাঁর পোষা হাজার হাজার নীলকণ্ঠ পাখি হারিয়ে গেছে। তাই তিনি হাতের তালি দিয়ে সেই পাখিদের ফেরানোর চেষ্টা করছেন। মণীন্দ্রনাথের বড় ইচ্ছে, ‘জীবনের হারানো সব নীলকণ্ঠ পাখিরা ফিরে এসে রাতের নির্জনতায় মিশে থাক।’ কিন্তু তিনি এই যে এত তালি বাজিয়ে চলেন—পাখিরা নামে না।
দেশভাগ নিয়ে অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহাকাব্যিক উপন্যাসের চার পর্ব—‘নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’, ‘মানুষের ঘরবাড়ি’, ‘অলৌকিক জলযান’ এবং ‘ঈশ্বরের বাগান’। সম্প্রতি পাঠ করেছি প্রথম পর্ব ‘নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’। কিছু বই আছে, যা ‘ইতিহাসের বিকল্পপাঠ’ হয়ে কালে কালে সমাদৃত হওয়ার মতো। তেমনই এক বই ‘নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’। সময়কে ধরে রাখার এক অনন্য দলিল এই বইটি। বইটি পড়ার সময় আমি যেমন বিভোর ছিলাম, তেমনি পাঠশেষেও সেই ঘোরগ্রস্ততা থেকে মুক্তি পাইনি। প্রায় চারশ পৃষ্ঠার এই বইয়ের প্রায় পুরোটা জুড়ে দেশ আর মাটির অলৌকিক সুন্দর বর্ণনা আর বন্দনা। মণীন্দ্রনাথ যখন আকাশ আর দরগার ভাঙা কাচের স্বচ্ছভাব মথিত করে হেসে উঠে সোনাকে বলেন, “নক্ষত্র দ্যাখো—ঘাস-ফড়িং-ফুল-পাখি দ্যাখো, জন্মভূমি দ্যাখো”, সেই সময়টাতে আকাশজুড়ে থাকা আলোরস্রোতে প্রিয় জন্মভূমিকে আমিও নতুন করে দেখি।
নীলকন্ঠ পাখির খোঁজে বইটি কী নিয়ে লেখা?
বইটির মূল বিষয় দেশভাগ এবং মানুষের হারিয়ে যাওয়া শিকড়।
- পূর্ব বাংলার গ্রামীণ জীবন
- দেশ ও মাটির প্রতি টান
- দেশভাগের বেদনা
- হিন্দু-মুসলিম মানুষের সহাবস্থান
- মানুষের সম্পর্ক ও বিচ্ছেদ
- প্রকৃতি ও জন্মভূমি
- হারিয়ে যাওয়া সময়
- মানুষের স্বপ্ন ও হতাশা
- সামাজিক পরিবর্তন
- স্মৃতি ও শিকড়ের টান
লেখক অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো একটি চরিত্রকে পুরো উপন্যাসের একমাত্র নায়ক করেননি। বিভিন্ন মানুষের জীবন দিয়ে তিনি একটি সময়কে তুলে ধরেছেন। ফলে চরিত্রগুলোর পাশাপাশি সময় এবং প্রকৃতিও কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
নীলকন্ঠ পাখির খোঁজে বই PDF ডাউনলোড (হার্ডকপি অর্ডার করুণ)
বইটির পিডিএফ অনেক পাঠক অনলাইনে খুঁজে থাকেন। সম্ভব হলে নিচ থেকে হার্ডকপি অর্ডার করতে পারেন। এতে লেখক ও প্রকাশকদের নতুন বই প্রকাশে উৎসাহ বাড়ে। আমি বলবো একবার হলেও বইটি পড়ুন। বেশি বেশি বই কিনুন, বই পড়ুন। বই মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু এবং অজানাকে জানার সেরা মাধ্যম।
একটু অপেক্ষা করুন, পিডিএফ খোঁজা হচ্ছে...
একটু অপেক্ষা করুন, অর্ডার লিংক তৈরি হচ্ছে...

