Oshomapto Attojiboni Book by Bongobondhu Sheikh Mujibur Rahman. You want to read pdf book and free download from Pdfporo.
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বই বিবরণ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর অন্যান্য বইগুলো,,
- বাংলাদেশ-শেখ মুজিবুর রহমান
- কারাগারের রোজনামচা
- আমার দেখা নয়াচীন
- আমার কিছু কথা
- জয়বাংলা -সাক্ষাৎকার (১৯৭০-১৯৭৫)
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বই
এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জীবন কথামূলক গ্রন্থ ” অসমাপ্ত আত্মজীবনী । ” ১৯৬৬-১৯৬৯ সালে কারাগারে রাজবন্দী থাকাকালীন সময়ে তিনি এই বই লিখেছেন । আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কন্যা ২০০৭ সালে কারাবন্দী অবস্থায় এই বইয়ের ভূমিকা লিখেন এবং মুক্তি পেয়ে বই প্রকশনার পদক্ষেপ নেন । তথ্যবহুল লেখায় বঙ্গবন্ধুর ছোটবেলা , পাকিস্তান আন্দোলন , ভাষা আন্দোলন , বাঙালির স্বাধীনতা , স্বাধীকার আন্দোলন , গণতান্ত্রিক সংগ্রামের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নানা চক্রান্ত ইত্যাদি বিভিন্ন ঘটনা জানা যায় এই বই থেকে এবং এই বইতে কায়েমী স্বার্থবাদীদের নানা ষড়যন্ত্র এবং শাসনের নামে শোষণের অপচেষ্টা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরেছেন তিনি ।
বন্ধুবান্ধব , সহকর্মী এবং সহধর্মিণীর অনুরোধেই হাতে কলম তুলে নেন বঙ্গবন্ধু । বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয় টুঙ্গিপাড়ার শেখ বংশে । এই বংশের গোড়াপত্তন করেছেন , শেখ বোরহানউদ্দিন নামে এক ধার্মিক পুরুষ । শেখ বংশ বিরাট সম্পদের মালিক থেকে কিভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে গেলো এই কাহিনি বাড়ির মুরব্বিদের থেকে তাঁর জানা হলেও , খুব সুন্দর করে তিনি বর্ণনা করেছেন । ১৯২০ সালে ১৭ ই মার্চ জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু । মজার ব্যাপার হলো তাঁর দাদা ও নানার ঘর পাশাপাশি কারণ বঙ্গবন্ধুর মা সায়েরা খাতুন , তাঁর বাবার চাচাতো বোন । ১৯৩৪ সালে তিনি বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হয়ে যান ।
১৯৩৬ সালে আবার চোখে গ্লুকমা নামে রোগের কারণে অপারেশন করতে হয় । ১৯৩৭ সালে তিনি পুনরায় লেখাপড়া শুরু করলেন গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে । ১৯৩৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ . কে . ফজলুল হক এবং শ্রমমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এগজিবিশন উপলক্ষে গোপালগঞ্জ আসলেন । মিশন স্কুল পরিদর্শন কালে বঙ্গবন্ধু মিশন স্কুলের ছাত্র হওয়ায় , সম্বর্ধনা দিতে গিয়ে পরিচয় হয় তাঁদের । এই পরিচয়ের সূত্র ধরেই শহীদ সাহেবকে নিয়মিত চিঠি লিখতেন বঙ্গবন্ধু । also
১৯৪১ সালের মধ্যে তিনি রাজনীতিতে পুরোপুরি জড়িয়ে পড়েন । ম্যাট্রিক পরিক্ষার সময় ও সভা , বক্তৃতা এসবে যেতেন । ফলস্বরূপ রেজাল্ট মনমতো হয় নি।তাই আবার পড়া শুরু করলেন এবং দ্বিতীয় বিভাগে পাস করে ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন । এই কলেজ ছিল বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র । ১৯৪৩ সালে তিনি প্রাদেশিক মুসলিম লীগ কাউন্সিল এর সদস্য হন । এই সময় দুর্ভিক্ষ আরম্ভ হয় , বইতে বঙ্গবন্ধু এই করুণ ঘটনার বর্ণনা উপস্থাপন করেন।তিনি লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে দুর্ভিক্ষ পীড়িতদের সেবায় দিন রাত কাজ করেছেন । পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সভা , বক্তব্য , বিভিন্ন কাজ করে গেছেন দিনরাত ।
বঙ্গবন্ধুর বাবা – মা রাজনীতি তে কখনোই আপত্তি করেন নাই , এভাবেই ছোট্ট মুজিব নিজের সাহসীকতা , বুদ্ধিদীপ্ততা , অক্লান্ত পরিশ্রম ও তেজ এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হবার পথে এগিয়ে গেছেন।বঙ্গবন্ধুর বাবা বলতেন ; ” বাবা রাজনীতি কর আপত্তি করবো না পাকিস্তানের জন্য সংগ্রাম করছো এ তো সুখের কথা , তবে লেখাপড়া করতে ভুলিও না । ‘ Sincerity of purpose and honesty of purpose ‘ থাকলে জীবনে পরাজিত হবা না । ” তিনি বাবার আদর্শে কাজ করে গেছেন এবং সফল হয়েছেন । তখনকার সময়ে বঙ্গবন্ধুকে বাধা দেওয়ার জন্য অনেক মানুষ আহ্বান করতো।কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বাবা বলতেন , ” দেশের জন্য কাজ করছে অন্যায় তো করছে না।যদি জেল খাটতে হয় খাটবে , আমি দুঃখ পাবো না । পাকিস্তান না আনতে পারলে মুসলমানদের অস্তিত্ব থাকবে না । ” তিনি বাবার সাথে রাজনৈতিক আলোচনা করতেন ।
বঙ্গবন্ধু ধারাবাহিকভাবে এই বইতে ৪৬ এর দাঙ্গা , ৪৭ এর দেশভাগ , বায়ান্ন’র রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন , আদমজী জুট মিলের দাঙ্গা , আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন , ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ গঠন , যুক্তফ্রন্ট গঠনের পর ১৯৫৪ সালের নির্বাচন এসব এর ঘটনা ও তাঁর প্রতিবাদ সবকিছু খুব সাবলীল ভাষায় সচ্ছ ভাবে বর্ণনা করেছেন।এসব পড়লে পাঠক মন ঐ দৃশ্য কল্পনা করতে পারবে । বঙ্গবন্ধু দেশের জন্য বিভিন্ন কাজে দেশ বিদেশে ভ্রমণ করেছেন । পশ্চিম পাকিস্তান , চীন ও ভারত ভ্রমণের পুরো বর্ণনা তিনি সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন ।
দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবনের প্রায় সময় কেটেছে কারাগারে । রমাপদ নামক এক লোককে ছোরা দিয়ে হত্যার চেষ্টা নামক মিথ্যা মামলায় জীবনের প্রথম জেল হয় তাঁর । এরপর পাকিস্তান আমলের ২৩ বছরের ১২ বছরই কারাগারে কেটেছে বঙ্গবন্ধুর । তাও তিনি থেমে থাকেন নি , তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ,, একাগ্রতা , দেশপ্রেম , চিন্তা চেতনার দ্বারাই বাঙালি পায় স্বাধীনতা ।
১৯৫২ সালে জেলে বন্দী অবস্থায় বঙ্গবন্ধু সিদ্ধান্ত নেন জেলের বাইরে যাবেন , বলেন , ” Either I will go out of the jail or my deadbody will go out ” তিনি ও মহিউদ্দিন সরকারের কাছে দরখাস্ত দ্রন , ১৫ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে মুক্তি দেওয়া না হলে তারা অনশন শুরু করবেন । ২৭ তারিখ ডেপুটি জেলার এসে জিজ্ঞেস করলো তাঁকে মুক্তি দিলে খাবেন কি না ? তিনি শরীরের এই খারাপ অবস্থা নিয়ে উত্তর দিলেন , ” মুক্তি দিলে খাবো , না দিলে খাব না।তবে আমার লাশ মুক্তি পেয়ে যাবে ।
” এরপর বঙ্গবন্ধুর মুক্তির অর্ডার আসলো , কিন্তু মহিউদ্দিনের আসলো না । বাড়ি ফেরার পরের খুবই একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা বর্ণনা করে বলেন , ” একদিন আমি আর রেণু ( স্ত্রী ) বিছানায় বসে গল্প করছিলাম।হাচু ( শেখ হাসিনা ) ও কামাল নিচে খেলছিল।হাচু মাঝে মাঝে খেলা ফেলে আমার কাছে আসে আর আব্বা আব্বা বলে ডাকে । ” তিনি যখন জেলে যান তখন অর বয়স মাত্র কয়েক মাস।রাজনৈতিক কারণে বিনা বিচারে বন্দি রেখে ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে দূরে রাখা কতটা জঘন্যতম কাজ ।
এই বইতে রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি তিনি সংসারের সব সদস্যর সমর্থন , সহযোগিতা খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন । বিশেষ করে বেগম ফজিলাতুন্নেছার অবদান ও অনেক । দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের তিনি যেমন বিভিন্ন বিষয়ে মানুষের উৎসাহ ও সহযোগিতা পেয়েছেন , তেমনি মানুষের কাছ থেকে বঞ্চিত হয়ার ও অনেক ঘটনা রয়েছে । মানুষের মুক্তির জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে গেছেন ।
