মির্জা গালিবের বই PDF অনলাইনে অনেক পাঠক খুজে থাকেন এবং বই হার্ডকপি কোথায় পাবেন জানতে চান ৷ উর্দু ভাষার শ্রেষ্ঠ প্রেমিক কবি মির্জা গালিব বাংলাদেশেও রয়েছে অনেক জনপ্রিয়তা বিশেষ করে মির্জা গালিব এর শায়েরি, কবিতা, গজল এবং সুন্দর সুন্দর উক্তির অনেকের মন কেরেছে ৷ বাংলাদেশে অনেক লেখক, প্রকাশক মির্জা গালিবের বইগুলো বাংলায় অনুবাদ করেছেন ৷
মির্জা গালিব কে?
উর্দু সাহিত্যের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব, লেখক ও কবি মির্জা গালিব ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের আমলে ঐ সময়ের জনপ্রিয় কবি। বিশেষ করে ওনার সায়েরী ও গজলে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। পরবর্তীতে ঐ শায়েরীগুলো লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। যেমন,
প্রেমে পড়েছো আবার সম্মান চাও,
বিষ খেয়েছো গালিব, আবার বাঁচতেও চাও।
এরকম অসংখ্য ছোট ছোট কবিতা মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
গালিব ছিলেন একজন কোমল হৃদয়ের অতি দয়ালু প্রকৃতির মানুষ ও বহুভাষী এই খ্যাতনামা কবির লেখার ধারা ছিল গজল, কাসিদা, রুবাই ও অন্যান্য এবং লিখার বিষয় ছিল জীবনবোধ, দর্শন, প্রেম, ধর্ম এবং অতীন্দ্রিয়তা।
তাঁর গজলে উঠে এসেছে দর্শন, জীবনবোধ ও রহস্য ময়তা আবার কোথাও কোথাও বাস্তববাদ, ভোগবাদ ও প্রেম। তাঁর কবিতায় প্রেম এসেছে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় প্রতীকী হয়ে।
অনেক পাঠক মির্জা গালিবের বই খুজে থাকেন, তাদের জন্য কিছু বই লিষ্টে নিয়ে আসলাম আশা করি ভালো লাগবে ৷

মির্জা গালিবের বই রিভিউ, হার্ডকপি ও পিডিএফ | Mirza Ghalib Books
১. মির্জা গালিব এর শায়েরি
- বইঃ মহব্বত কি শায়েরি ৷
- লেখকঃ মির্জা গালিব ৷
- অনুবাদকঃ মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ ৷
- প্রকাশনীঃ ভাষাপ্রকাশ ৷
মহব্বত কি শায়েরি হলো উর্দু সাহিত্যের কিংবদন্তি কবি মির্জা গালিব-এর প্রেমভিত্তিক অসাধারণ শায়েরির একটি সংকলন। এই বইয়ে ভালোবাসার অনুভূতি, বিরহের কষ্ট, না-পাওয়ার বেদনা এবং জীবনের গভীর দর্শন খুব সুন্দরভাবে কবিতার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে ৷ পড়ুন মির্জা গালিব এর শায়েরি পিডিএফ ও হার্ডকপি ৷
উর্দঃ ইল্ক মুঝকো নেহি
বেহেস্ত হি সহিহ,
মেরি বেহেস্ত,
তেরি শোহরত হি সহিহ।
বাংলাঃ প্রেম যদি একে না-ই বলো
পাগলামিই মানি,
আমার পাগলামি—তোমার খ্যাতির কারণ
এ কথাও মানি।
উর্দঃ ম্যায়নে মানা কে— কুছ নেহি গালিব;
মুক্ত হাথ আয়ে, তো বুরা কিয়া হ্যায়।
বাংলাঃ মানলাম-গালিবের কোনো মূল্যই নেই;
কিন্তু যে তার হৃদয়টা একেবারে বিনামূল্যে পেয়েছে,
তার গ্রহণ করতে অসুবিধা কী?
২. মির্জা গালিবের কবিতা অনুবাদ
উর্দু ভাষার শ্রেষ্ঠ প্রেমিক কবি মির্জা গালিব। প্রেমজীবনের অনন্য অনুষঙ্গ যার কাব্যমালা। গালিবের কবিতায় ভালোবাসার রং সুনিপুণভাবে ফুটে উঠেছে, যা রীতিমতো ভাবিয়ে তোলে প্রেয়সীকে। তিনি বলেছেন-তুমি বলেছিলে, আমার হৃদয়টি খুঁজে পেলেও সেটি আর ফেরত দেবে না; ইচ্ছাপূরণের জন্য কোথায় হৃদয় হারাব বল? প্রিয়তমা বলছে, প্রিয়তমের হৃদয়টি আর ফেরত দেওয়া হবে না; অথচ প্রিয়তম বলছে, তার তো হৃদয় হারানোর মতো হৃদয়ই নেই। সুতরাং তার আশা পূরণ হয়েই গেছে ধরে নেওয়া যায়।
শব্দে শব্দে গালিব এমন প্রেমকথা বলেছেন, যা সত্যিকার প্রেমিকমাত্রই উপলব্ধি করবেন। গালিব সবাইকে সমান অন্তরঙ্গতায় ভাবিয়ে তুলেছেন। তিনি জানতেন, কী করে কেউ অন্তর্বেদনায় আচ্ছন্ন থাকতে পারে! যখন হৃদয়ই হারিয়ে যায়, তখন তা প্রেমিকমনের আকুতি নিয়েই ঝরে পড়ে। ভালোবাসার প্রকাশ তিনি নানাভাবে করেছেন; যা সবার অনুভূতির প্রকাশ। যদিও যন্ত্রণা জীবন-সংহারী হয়ে গেছে, ভালোবাসার জন্য দুঃখও নেই, তবে বেঁচে থেকে কষ্টযাপনই হোক। তার কবিতায় এমন কিছু না কিছু মেলে, যা হৃদয়ে আঘাত করে।
উর্দু কাব্যজগতে তার আসনটি সবচেয়ে উচ্চস্থানে-এ কথা অনস্বীকার্য। ভারতীয় উপমহাদেশের সাহিত্যজগতে তাকে নিয়ে রয়েছে অসংখ্য রচনা। গালিবের প্রায় সবগুলো কবিতাই ‘গজল’ ঘরানার। গজল শব্দের অর্থ প্রেমসংগীত। মরুভূমির ঊষর বিরানপ্রান্তরে চড়ে বেড়ানো মায়াবী চোখের হরিণী, যার আরবি নাম গাজালা। তাড়া খেয়ে দিগ্বিদিক ছুটে যখন সে কোণঠাসা, যখন বুঝতে পারে-পালাবার আর কোনো পথ নেই, তখন তার বুক চিরে যে আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়ে, শব্দগতভাবে তাকেই গজল বলে। গালিবের গজলের ছত্রে ছত্রে রয়েছে সেই আর্তনাদ, সেই মায়াবী হরিণীর ছোটাছুটি।
প্রিয় পাঠক আপনি যদি মির্জা গালিবের কবিতা অনুবাদ পিডিএফ অথবা হার্ডকপি পেতে চান তাহলে তাহলে ভিজিট করুন ৷
৩. মীর্জা গালিব — গৌরাঙ্গগোপাল সেনগুপ্ত (অনুবাদক)
Please Wait...
৪. ইরশাদ ই গালিব — হাসিবুল হোসাইন

মির্জা আসাদুল্লাহ বেগ খাঁ, কবিনাম মির্জা গালিব। মির্জা গালিবের জন্ম ১৭৯৭ সালে আগ্রার একটি মোগল পরিবারে, যারা সেলজুক রাজাদের পতনের পর সমরকন্দে চলে গিয়েছিল। তাঁর পিতামহ মির্জা কোকান বেগ ছিলেন একজন সেলজুক তুর্ক এবং সুলতান বারকিয়ারুকের বংশধর, যিনি আহমদ শাহের শাসনকালে (১৭৪৮-৫৪) সমরকন্দ থেকে ভারতে এসেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত আগ্রায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন। তাঁর চার ছেলে এবং তিন মেয়ে ছিল। তাঁর বিরাট পরিবারের মধ্যে তাঁর দুই পুত্র আবদুল্লাহ বেগ খান ও নসরুল্লাহ বেগ খান তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে সৈনিকের পেশা গ্রহণ করেছিলেন বিভিন্ন শাসকের অধীনে। তরুণরা মির্জা গালিবের বই খুব পছন্দ করে ৷
মির্জা গালিবের ইরশাদ ই গালিব বই পড়ুন ৷
৫. রুবাইয়াৎ ই মির্জা গালিব বই

“রুবাইয়াত-ই-মির্জা গালিব”—এই বইটি মূলত উর্দু ও ফারসি সাহিত্যের মহান কবি মির্জা গালিব-এর চতুর্পদী কবিতাগুলোর (রুবাই) একটি সংকলন। যদিও গালিব সর্বাধিক পরিচিত তাঁর গজল ও চিঠিপত্রের জন্য, তবে তাঁর রুবাইয়াতও ভাবগম্ভীরতা, গভীর জীবনদর্শন, প্রেম, বেদনা এবং ঈশ্বর নিয়ে আত্মসংলাপের অপূর্ব নিদর্শন।
তাঁর কবিতার ভাষা গম্ভীর হলেও অত্যন্ত শিল্পসমৃদ্ধ—উর্দু ও ফারসি শব্দের অনন্য সমন্বয়ে তা হয়ে উঠেছে এক অনবদ্য কাব্যশৈলী। বাংলা অনুবাদের মাধ্যমে এই রুবাইগুলো আরও সহজভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছে গেছে, যা গালিবের ভাবনা ও অনুভূতিকে নতুনভাবে বুঝতে সাহায্য করে। বইটির হার্ডকপি অর্ডার করুন ৷ মির্জা গালিবের বই কবিতা, গজল শব্দে শব্দে ফুটে উঠা চমৎকার শায়েরি ৷
৬. মির্জা গালিবের গজল
উর্দু ও ফারসি থেকে ভাষান্তর মির্জা গালিবের বই “মির্জা গালিবের গজল” অনুবাদক জাভেদ হুসেন এবং প্রকাশক প্রথমা প্রকাশন ৷
“মির্জা গালিবের গজল” একটি অসাধারণ সাহিত্যকর্ম যা বাংলার পাঠকদের জন্য মির্জা গালিবের গভীর অনুভূতি ও দার্শনিক চিন্তা প্রকাশ করেছে। গালিবের গজলসমূহ প্রেম, দুঃখ, জীবন ও শাশ্বত বাস্তবতার নিখুঁত মেলবন্ধন। তার লেখনীতে রয়েছে এক ধরনের মধুর বেদনা ও বিষাদ, যা পাঠককে আত্মমগ্ন করে রাখে। বইটির ভাষা ও শব্দচয়নে রয়েছে এক অনন্য সুর, যা পাঠককে এক নতুন অনুভূতির সঙ্গে পরিচিত করায়। মির্জা গালিবের গজল প্রেমিক এবং সাহিত্যের দর্শনপ্রেমীদের জন্য একটি অমূল্য রচনা।



