গোলাম মোস্তফা লেখা বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী বই PDF অনেক পাঠক খুঁজে থাকেন ৷ কবি গোলাম মোস্তফার “বিশ্বনবী” এক অসাধারণ সফল গ্রন্থ।এগ্রন্থে আবেগ,বিশ্বাস আর যুক্তি যেভাবে এক সূতায় গ্রথিত হয়েছে তার তুলনা আমাদের গদ্য সাহিত্যে বিরল। গ্রন্থের ভাষা চিত্তের আনন্দকে যেরূপ জাগ্রত করে তা বর্ণনাতীত।
বাংলা সীরাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে কবি গোলাম মোস্তফার “বিশ্বনবী” সর্বোচ্চ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এর ভাব যেমন উচ্চস্তরের; ভাষাও তেমনি গতিশীল ও প্রাঞ্জল। গোলাম মোস্তফা একাধারে কবি, বাকশিল্পী ও ভক্ত। তাঁর লেখায় ভক্তিপ্রবণ বাঙালি অন্তরের মর্মকথাই প্রতিধ্বনিত হয়েছে। নবীর প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাই বইটিকে অসাধারণ জনপ্রিয় করে তুলেছে।
প্রিয় পাঠক, আপনি যদি সীরাতে রাসূল সাঃ জীবনীমূলক বই খুঁজে থাকেন তাহলে এই দশটি বই আপনার জন্য ৷ এরকম ইসলামিক বই পেতে সবসময় ফলো রাখুন পিডিএফপড়.কম ৷
বই বিবরণ
- বিশ্বনবী (হযরত রসূল (স:) এর জীবনী) ৷
- লেখকঃ গোলাম মোস্তফা (বাঙালি কবি) ৷
- প্রকাশনীঃ আহমদ পাবলিশিং হাউজ ৷
- সংস্করণঃ ২০১৩
- ক্যাটাগরিঃ সীরাতে রাসূল ﷺ বই ৷
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী বইয়ের রিভিউ
যুগে যুগে এই পৃথিবীর বুকে আগমন হয়েছে অসংখ্য মহাপুরুষদের । যাদের পবিত্র পদচারণায় আরাে পবিত্র হয়ে উঠেছিল পৃথিবী । আরবের বুকে আলাের ঝর্ণাধারার মত এক রাতে পৃথিবীতে আসেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ , যিনি নিয়ে এসেছিলেন মানবজাতির জন্য পৃথিবীর সমস্ত কল্যাণ ও আশীর্বাদ … তিনি মানবজাতির চরম ও পরম আদর্শ , স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি # হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ )
খ্যাতনামা লেখক ও কবি গােলাম মােস্তফা ‘ রচিত # বিশ্বনবী বইটি হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) এর জীবনী । লেখকের নিজের মনে কত আবেগ আছে , ভালবাসা আছে , হযরতের জন্য কত শ্রদ্ধাবােধ আছে , তা অত্যন্ত সুন্দর করে লেখনীর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন বিখ্যাত এই গ্রন্থটিতে ।
বইটি সম্ভবত দুটি খন্ডে বিভক্ত ছিল , এখন একই মলাটে দুটি খন্ডই আবদ্ধ । যেহেতু এটি মুহাম্মদ ( সাঃ ) এর জীবনী , সেহেতু বুঝে নিতেই হবে বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা কম নয় । প্রথম খন্ডে ৫৮ টি পরিচ্ছেদ এবং দ্বিতীয় খন্ডে ১৪ টি পরিচ্ছেদ সংবলিত সুদীর্ঘ । একটি গ্রন্থ । তবে পড়া শুরু করলে শেষ না করে হাত থেকে রাখতেই পারবেননা ! সেটার শতভাগ নিশ্চয়তা রইল ।
৫৭০ খৃস্টাব্দের রবিউল আউয়াল মাসের বারাে তারিখ আরবের এক ছােট্ট কুটিরে মা আমিনার কোল জুড়ে আসেন জগতের শ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মদ ( সাঃ ) । সমস্ত পৃথিবী সেই খুশিতে ছিল আত্মহারা । আরবের সেই রাতে আগমনকারী মহাপুরুষের আগমনের আনন্দে আকাশ থেকে জমিন পর্যন্ত পৃথিবীর প্রত্যেকটি মাখলুকাত যে আনন্দ উদযাপন করে তার সুন্দর বর্ণনা লেখক বইয়ে তুলে ধরেছেন । বাবা ‘ আব্দুল্লাহ ‘ হযরতের জন্মের আগেই মারা যান ।
শিশু নবী এতিম হয়ে আসেন পৃথিবীতে । আরবের সম্রান্ত ‘ কোরাইশ ‘ বংশের তার জন্ম । দাদা ‘ আব্দুল মুত্তালিব ‘ আদরের নাতিটির নাম রাখেন # মুহাম্মদ । মুহাম্মদ ( সাঃ ) এর জন্মের কয়েকদিন পরেই মরুভূমি থেকে বেদুইন ধাত্রীরা সম্রান্ত পরিবারের শিশুদের সন্ধানে মক্কায় আসেন । তখনকার নিয়ম ছিল এই যে , ধাত্রীগণ আরবের শিশুদের লালনপালন করতেন ও দুধ পান করাতেন । মা ‘ হালিমা ‘ আসেন মক্কায় , এবং নিয়ে যান পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিশুটির লালনপালনের ভার !
শিশু নবী বড় হতে থাকেন হালিমার কুটিরে । সেখানে মেষ চরাতেন তিনি । এই মেষ চরানাের সময়েই একদিন আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীর সামনে আসেন জিবরাইল ফেরেশতা । সে সময় ঘটে যায় এক অবাক ঘটনা , যে ঘটনার ব্যাখ্যা পরবর্তিতে অনেকে অনেক ভাবেই দিয়েছেন …
মুহাম্মদ ( সাঃ ) যখন ফিরে আসেন নিজ জন্মভূমি মক্কায় মা আমিনার কাছে তার কিছুদিন পরই ইহলােক ত্যাগ করেন মা আমিনা । পুরােপুরি এতিম হয়ে যান মহানবী ! দাদা আব্দুল মুত্তালিবও মারা যান তখন । হযরতের রক্ষণাবেক্ষণের ভার নেন চাচা আবু তালিব ‘ । ধীরে ধীরে বড় হতে থাকেন শিশু নবী ।
আরবে তখন ‘ ওকাজ ‘ মেলা নামক এক মেলা বসতাে , যেখানে অনেক অনৈতিক কর্মকান্ড চলত , মেলার সুযােগে যুদ্ধ লেগে যেত । মুহাম্মদ ( সাঃ ) এর মিমাংসার জন্য বেছে নিলেন সুন্দর একটি পন্থা ! একটি সংগঠন করলেন , যার কর্মসূচি এতই সুন্দর যে অনেক বিধর্মীও এর প্রশংসা না করে পারবেননা । এই সংগঠনটিই ছিল ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সংগঠন # হিলফউল ফুযুল ।
তরুণ নবী এমন অনেক জনহিতকর কাজ করে যান , কাবাঘরের সংস্কার করে ” হাজরে আসওয়াদ ” নামক কালাে পাথর নিয়ে বিবাদের মিমাংসা করেন অপূর্ব । বুদ্ধিমত্তায় ! আর তার জন্যই লােকে ভালবেসে নাম দিলেন # আল আমিন বা # সত্যবাদী !
আরবে তখন অন্ধকার যুগ ! অসংখ্য অনৈতিক কাজ সংঘটিত হত তখন আরবে । জিনা , ব্যভিচার , যুদ্ধ – বিগ্রহ , মানুষ হত্যা , কন্যা শিশু হত্যা এবং কন্যা সন্তানকে জীবিত কবর দেয়া সহ বিভিন্ন অন্যায়ে আচ্ছন্ন ছিল সমগ্র আরব । মুহাম্মদ ( সাঃ ) এর আগমনে ধীরে ধীরে কেটে যেতে থাকে আঁধার , আসে আলাের বন্যা ! দূর হতে থাকে অনৈতিক কর্মকান্ড ।
