অতুলনীয় মহান চরিত্রের অধিকারী খলিফাতুল মুসলিমিন হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর জীবনীগ্রন্থ প্রতিটি মানবের অবশ্যই পড়া উচিত ৷ কেননা নবী-রাসূলগণের পর তারাই ছিলেন সর্বোৎকৃষ্ট মানব ৷ তাদের জীবনাদর্শে রয়েছে শিক্ষনীয় বিষয় ৷ আপনারা অনেকেই হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাঃ এর জীবনী PDF পড়তে চান ৷ তাই আপনাদের পড়ার সুবিধার্থে বইগুলোর পিডিএফ সংগ্রহ করা হয়েছে ৷
আরও পড়ুন,, আর রাহীকুল মাখতুম বই পিডিএফ (নবী মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী বই) ৷ সকল নবি-রাসূল সহ ইসলামিক বই পেতে আমাদের সাথেই থাকুন ৷
হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাঃ এর জীবনী বই PDF (এই পাঁচটি বই পড়ুন)
প্রিয় পাঠক, আপনারা অনেকেই হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাঃ এর জীবনী বই খুঁজে থাকেন ৷ হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাঃ এর জীবনী বই PDF ডাউনলোড করে পড়তে চান ৷ আশা করি আপনাদের উপকারে আসবে ৷ এই পোষ্টে ইসলামের প্রথম খলিফা হলেন হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) জীবনীর উপর ৫টি বই সংগ্রহ করা হয়েছে ৷ বইগুলো পড়ে উনার জীবন, কর্ম, ঘটনা, ইসলামে আসা বিস্তারিত জানতে পারবেন আশা করা যায় ৷
১. আবু বাকর আছছিদ্দিক (রা)
- লেখকঃ ড. আহমদ আলী ৷
- প্রকাশনীঃ বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার ঢাকা ৷
আবূ বাকর (রা.) ছিলেন নাবী-রাসূলগণকে বাদ দিলে সমগ্র ইনসানী দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম আদর্শ মানুষ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় যেমন তিনি সমগ্র মুসলিম সমাজের নিকট উম্মাতের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তিরূপে পরিচিত ছিলেন, তেমনি তাঁর অন্তর্ধানের পরেও গোটা মুসলিম দুনিয়ায় তিনিই ছিলেন অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, – “নাবী-রাসূলগণের পর আবূ বাকর (রা.) অপেক্ষা অন্য কোনো শ্রেষ্ঠতর মানুষের ওপর সূর্য উদিতও হয়নি এবং অস্তও যায়নি।” যে সকল উপাদান মানব চরিত্রকে সুন্দর, উন্নত, মহৎ ও পরিপূর্ণ করে তুলতে পারে, তার সবগুলোই আবূ বাকর (রা.)-এর মধ্যে বিদ্যমান ছিল।
জাহিলী যুগেও তিনি পবিত্রতা, সততা, দানশীলতা, দয়া, সরলতা, ন্যায়পরায়ণতা ও আমানাতদারী প্রভৃতি গুণে বিভূষিত ছিলেন। যে সমাজে মদ্যপান, ব্যভিচার ও পাপাচার সর্বগ্রাসী রূপ ধারণ করেছিল, আবূ বাকর (রা.) সে সমাজের একজন প্রভাবশালী লোক হওয়া সত্ত্বেও এর সমস্ত কলুষ ও পঙ্কিলতা থেকে ছিলেন সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। বস্তুত এ গুণগুলো তাঁর মধ্যে স্বভাবগতভাবেই বিদ্যমান ছিল। উত্তরকালে কুর’আনের নৈতিক শিক্ষা ও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ঘনিষ্ঠ সাহচর্যের ফলে এ গুণগুলো তাঁর চরিত্রে অধিকতর চমকিত হয়ে ওঠে।
কাজেই আবূ বাকর (রা.)-এর জীবনী না পড়লে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনী পাঠ সম্পূর্ণ হয় না। কোনো বস্তুকে সম্পূর্ণরূপে জানতে হলে তার পারিপার্শ্বিকতাও জানতে হয়। সেভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবন ও কর্ম সঠিকভাবে জানতে হলে আবূ বাকর (রা.)-এর জীবন ও কর্মের সাথেও পরিচিত হওয়ার একান্ত প্রয়োজন রয়েছে। হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাঃ এর জীবনী বই পড়তে চাইলে নিচে দেখুন,,
২. হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহ আনহু
- লেখকঃ মুহাম্মদ হুসাইন হায়কল ৷
- অনুবাদকঃ এ. বি. এম. এ. খালেক মজুমদার ৷
- প্রকাশনীঃ আধুনিক প্রকাশনী ৷
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথী, দু’জনের দ্বিতীয়জন-প্রথম খলীফা হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহ আনহুর যথাযোগ্য জীবন চরিত ৷
“হযরত আবু বকর” রাদিয়াল্লাহ আনহু একটি অনুপম জীবনী গ্রন্থ। ইসলামের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফার ব্যক্তিগত জীবনের ছোট বেলা থেকে শুরু করে তাঁর রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক জীবন বিধৃত হয়েছে এতে। একজন ব্যক্তি, একজন ব্যবসায়ী, ইসলাম গ্রহণকারী একজন বয়স্ক প্রথম মুসলমান, রাসূলের একজন নিত্য সহচর, প্রথম খলিফা খলিফাতুর রাসূল হিসাবে হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহ আনহুর সমগ্র জীবনের উপর এ ধরনের যথাযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ জীবন চরিত পৃথিবীর আর কোনো ভাষায় এর আগে এভাবে রচিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। মুহতারাম হুসাইন হায়কল এ বিরল জীবনি গ্রন্থটি রচনা করে নিসন্দেহে একটি বিরল ও সর্বোত্তম খেদমত সম্পাদন করেছেন। হযরত আবু বকর সিদ্দিক জীবনী pdf দেখুন,,
৩. হযরত আবু বকর রাঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
হযরত আবু বক্কর (রাঃ) মক্কাবাসীদের সর্বজনীনভাবে প্রিয় ছিলেন। অভিজাত ব্যক্তিরা তাকে ভালোবাসতেন কারণ তিনি এমন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন যা আরবদের মধ্যে তাদের সম্মান বৃদ্ধি করেছিল। তিনি খুব শিক্ষিত ব্যক্তি ছিলেন বলে বিদ্বানরা তাকে ভালোবাসতেন। তিনি একজন ন্যায্য ও ন্যায়পরায়ণ ব্যবসায়ী হওয়ায় ব্যবসায়ীরা তাকে ভালোবাসতেন। দরিদ্ররা তাকে ভালবাসত কারণ তিনি তাদের প্রতি সর্বদা উদার ছিলেন।
নিম্নলিখিত সংক্ষিপ্ত বইটি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মহান সাহাবী, ইসলামের প্রথম সঠিকভাবে নির্দেশিত খলিফা, আবু বক্কর সিদ্দিক (রাঃ) এর জীবন থেকে কিছু পাঠ নিয়ে আলোচনা করে। হযরত আবু বকর রাঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী বই পিডিএফ নিচে দেখুন ৷
৪. আবু বকর রা. সম্পর্কে ১৫০টি শিক্ষনীয় ঘটনা
- লেখকঃ আহমাদ আবদুল আলী তাহতাভী ৷
- প্রকাশনীঃ ইসলাম হাউজ পাবলিকেশন্স ৷
ইসলামের ইতিহাসে আবু বকর এর জীবনী এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মানবজাতির ইতিহাস আবু বকর-এর মর্যাদা, সম্মান, একনিষ্ঠতা, জিহাদ এবং দাওয়াত এসব বিষয় কখনো ভুলতে পারবে না। এজন্য লেখক আবু বকর-এর জীবনী তাঁর জিহাদ ও চরিত্র এসব বিষয় সংগ্রহ করেছেন। এর মাধ্যমে দায়ী, খতীব, উলামায়ে কেরাম, ইসলামী চিন্তাবিদ ও দ্বীনি ইলম অর্জনকারী ছাত্ররা যেন এর দ্বারা জীবনে উপকৃত হয়। এ সকল বিষয় তাদের জীবনে বাস্তবায়িত করে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা দান করবেন।
সম্মানিত পাঠক! আপনাদের জন্য নবীর পরে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি আবু বকর (রাঃ)-এর জীবনী থেকে ১৫০ টি কাহিনী দলীল প্রমাণ সহকারে এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। যেগুলো জিহাদ চরিত্র ও বন্ধুত্ব এসব ক্ষেত্রে বিশেষ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।
বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন আহমাদ আব্দুল আল আত তাহতাভী উল্লেখযোগ্য সাহাবীদের জীবনী নিয়ে আরবী ভাষায় চমৎকার কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন।
বাংলা ভাষায় সাহাবীদের জীবন সম্পর্কে অনেক বই প্রকাশিত হলেও অন্যতম খলিফা আবু বকর সম্পর্কে এ গ্রন্থটি অনুবাদ করে বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের সামনে পেশ করা হয়েছে। কারণ লেখক এ গ্রন্থে আবু বকর-এর জীবনী থেকে বাছাই করে ১৫০ টি শিক্ষণীয় ঘটনা দলিল প্রমাণসহ উল্লেখ করেছেন যা মানুষের চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা।
আমরা মুসলিম হিসেবে যাদেরকে আদর্শ বা মডেল হিসেবে গ্রহণ করতে পারি তাদের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছেন নবী-রাসূলগণ। তাঁর পর যাদের অনুসরণ করতে হবে তাঁরা হলেন সাহাবায়ে কেরামগণ। নবী বলেন, “তোমরা আমার এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধর।”
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সাহাবায়ে কোরামের আদর্শে আদর্শবান হয়ে দুনিয়া ও আখেরাতে সফল হওয়ার তাঁরফীক দান করুন। আমীন!
৫. গল্পে হযরত আবু-বকর রা.
- লেখকঃ মসউদ উশ শহীদ ৷
গল্পে হযরত আবূ বকর (রা.) হীরে মোতি পান্না সিরিজের দ্বিতীয় গ্রন্থ। এই গ্রন্থের লেখক মসউদ-উশ-শহীদ শিশু কিশোরদের উপযোগী-মুসলিম জাহানের প্রথম খলীফা হযরত আবূ বকর (রা.) এর জীবনের মূল্যবান অনুকরণীয় ঘটনা-সমূহ থেকে খন্ড খন্ড কিছু ঘটনা সহজভাবে গল্পের আকারে উপস্থাপিত করেছেন।
হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি.
তাঁর উপনাম আবু বকর বিন আবু কুহাফা তাইমি। নাম আব্দুল্লাহ বিন উসমান বিন আমের কারশি রাযি.। তিনিই ইসলামের প্রথম খলিফায়ে রাশেদ। যাঁরা সৎকর্মে অগ্রগামী হয়ে গেছেন, তিনি তাদের অন্যমত এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের শ্রেষ্ঠজন। পুরুষদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ঈমান আনেন। দীনের জন্য কায়োমনে চেষ্টা করে গেছেন তিনি।
একজন বীরের মত রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে সবসময় রক্ষা করেছেন। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর দীন ও ধর্মের হিফাজত করেন এবং তাঁকে ঈমান ও ইয়াকিনের নিয়ামত দ্বারা ভূষিত করেন। তিনি ছিলেন মুসলমানদের ইমাম; আর মুনাফিক ও ধর্মত্যাগীদের জন্য নাঙ্গা তলোয়ার। হস্তীবর্ষের আড়াই বছর পর তাঁর জন্ম হয়। যখন তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হন, জুলুম-অত্যাচারের সাথে তখনও তিনি পরিচিত ছিলেন না। জাহেলিয়্যতের অপবিত্রতা হতে অনেক দূরে ছিলেন।
একজন সভ্য আরবের চরিত্রে তিনি ছিলেন চরিত্রবান। প্রকৃত সুনাগরিকের মতই ছিল তাঁর আচার-আচরণ। যে ওয়াদা করতেন, তা কখনও লঙ্ঘন করতেন না। ইসলামের আগ থেকেই তিনি নিজের ওপর শরাব হারাম করে রেখেছিলেন। মানুষের সাথে উদারতা ও বদান্যতা প্রদর্শন করতেন। অভাবীদের খানা খাওয়াতেন; দুর্বলদের মন জয় করার চেষ্টা করতেন। আরবের সকল গোত্র ও উপগোত্রের বংশ-পরম্পরা সম্বন্ধে অবগত ছিলেন। দুর্বলদের জন্য তিনি ছিলেন সদয় এবং সবলদের জন্য ছিলেন সুহৃদ।
তিনি ছিলেন সকল সরদারের সরদার। দিয়তের [রক্তপণ] বিষয় তাঁর ওপর ন্যাস্ত করা হলে মানুষ তা মেনে নিত; তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করত। আর অন্যদের ওপর সোপর্দ করা হলে তাদের লাঞ্ছিত করত। আরবে তিনি ছিলেন উচু মর্যাদার অধিকারী। তিনি কোনও কথা বললে সমাজ তা গ্রহণ করত। তা ছাড়া তিনি ছিলেন একজন অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী; একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি। স্বপ্নের তাবিরেও তিনি ছেলেন বেশ অভিজ্ঞ। উঁচু বংশমর্যাদা ও সৌন্দর্যের কারণে তিনি ‘আতিক’ উপাধিতে পরিচিত ছিলেন। তাঁর ব্যক্তি-সত্তার মধ্যে দোষণীয় কিছু ছিল না।
তিনি ছিলেন খুবই মেধাবী, বুদ্ধিমান ও সঠিক চিন্তাধারার মানুষ। ছিলেন খুবই সুদর্শন ও সুন্দর চেহারার অধিকারী। বর্ণ ছিল সাদা; দেহ ছিল একহারা। চোখদুটো কিছুটা ভেতরে চাপানো ছিল। মুখমণ্ডল মাংসবহুল ছিল না। কপাল ছিল উজ্জ্বল। তাঁর দাড়ি ছিল হালকা। রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর প্রতি তাঁর ছিল প্রগাঢ় ভালবাসা। নিশ্চিন্ত মনে ও নির্দ্বিধায় তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ঈমানদার ছিলেন তিনি।
দীনের সেবা এবং দুর্বল ঈমানদারদের সাহায্যে তিনি তাঁর সম্পদ ওয়াক্ফ করে দেন। মুশরিকদের অত্যাচারে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে যেতেন। তাদের অত্যাচার যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তিনি মক্কা হতে মদিনায় হিজরত করেন। ইবনুদ্দগানার নিরাপত্তায় তিনি মক্কা ফেরত আসেন। এর পর তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাখ্যান করে মহা পরাক্রমশীল আল্লাহর দীনের মর্যাদা রক্ষা করেন। মেরাজের ঘটনায় তিনি রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর সত্যায়ন করেন। এবং তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিহত করেন। এজন্য রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁকে ‘সিদ্দিক’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
তিনি ছিলেন রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বন্ধু ও সাথি। মেয়ে আয়েশা রাযি.কে তিনি রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বিবাহ দেন। সাহরির সময় তিনি রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে হিজরত করেন। গারে-সওরে তিনি ছিলেন পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ‘দু’য়ের-দ্বিতীয়’। রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর সাথে কয়েকটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন; বিপদের মুকাবিলা করেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে শৌর্যবীর্য প্রদর্শন করেন।
বিজয় দ্বারা আল্লাহ তাআলা তাঁকে পুরস্কৃত করেন। তিনি রাত্রিজাগরণ করতেন এবং দিনের বেলায় রোযা রাখতেন। সাধারণ লোকদের সাথে যথেষ্ট বিনয় প্রদর্শন করতেন। দুনিয়ার প্রতি ছিলো অনীহা। ছিলেন দীনের বিষয়ে জ্ঞানী এবং তদানুসারে আমলকারী। এমন কোনও নেক কাজ নেই, যা তিনি করেননি। তাঁর প্রকৃতি ছিল অত্যন্ত কোমল। সহজেই অশ্রু বেয়ে পড়ত। তাঁর চেহারা ছিল উজ্জ্বল। তিনি ছিলেন একজন খোদাভীরু লোক। জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার এবং নেক লোকদের সাথে জান্নাতে যাওয়ার সুসংবাদ নবীজি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁকে দিয়েছেন।
