পিডিএফ পড়.কম

দরূদ পাঠের মজা বই রিভিউ, পিডিএফ | মাহমুদ বিন নূর বই

লেখার সাইজA
A
Rate this post

দরূদ পাঠের মজা বইটির লেখক মাহমুদ বিন নূর এবং বইটি প্রকাশিত হয়েছে রাইয়ান প্রকাশন থেকে ৷ এই বইটা আপনি দুরুদ পাঠের গাইডেন্স হিসেবে নিতে পারেন। এই বইয়ে পাবেন-কুরআন-হাদিসের আলোকে দরূদের মর্যাদা। পাবেন দরূদের অজানা ফজিলত, জীবন বদলে দেওয়া বাস্তব কিছু ঘটনা, দরূদ পাঠের সঠিক পদ্ধতি, বিভিন্ন দরূদ ও তার ব্যবহারিক দিক, এবং নিয়মিত আমলের কিছু সহজ পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা।

আপনি যদি ব্যক্তিগতভাবে আত্মিক উন্নয়ন ও হৃদয়ের প্রশান্তি খুঁজতে চান তাহলে পড়তে পারেন দরূদ পাঠের মজা বইটি ৷ দরূদের সাথে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত। আল্লাহর নির্দেশ, নবীজি(সাঃ)-এর প্রতি ভালোবাসা, আর জীবনের নানা প্রয়োজনে বরকত পাওয়ার আশায় আমরা দরূদ পাঠ করি। সেই অর্থে দরূদ আমাদের এক নীরব ও উপকারী সঙ্গী।

আপনারা অনেকেই মাহমুদ বিন নূর লেখা দরূদ পাঠের মজা বই PDF ও হার্ডকপি খুঁজে থাকেন ৷ তাছাড়া লেখকের অন্যান্য বই যেমনঃ হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের কথা পিডিএফ, নফসের বিরুদ্ধে লড়াই বই খুঁজে থাকেন ৷ বইগুলোর পিডিএফ পাশাপাশি হার্ডকপি অর্ডার করার সুযোগ রয়েছে ৷ এধরনের ইসলামিক বই পেতে ফলো রাখুন পিডিএফপড়.কম

দরূদ পাঠের মজা বই বিবরণ

  • বইয়ের নামঃ দরূদ পাঠের মজা
  • লেখকঃ মাহমুদ বিন নূর ৷
  • প্রকাশনীঃ রাইয়ান প্রকাশন ৷
  • প্রকাশঃ ২০২৬ ৷
  • পেইজ সংখ্যাঃ ১৯২টি ৷
  • ক্যাটাগরিঃ দোয়া-দরূদ বই ৷

সূচিপত্র

সূচিপত্র | দরূদ পাঠের মজা বই
সূচিপত্র | দরূদ পাঠের মজা বই
সূচিপত্র | দরূদ পাঠের মজা বই

দরূদ পাঠের মজা বই রিভিউ

“দরূদ পাঠের মজা” মূলত একটি আত্মশুদ্ধি ও আমলভিত্তিক বই, যা প্রতিটি মুসলমানের জন্য দরকারি বই। এটি পাঠকের মনে নবীজির প্রতি ভালোবাসা বাড়াবে এবং নিয়মিত দরূদ পাঠে উদ্বুদ্ধ করে। তাই যারা আধ্যাত্মিক উন্নতি চান, তাদের জন্য এই বইটি অবশ্যই পড়ার মতো।

লেখকের বক্তব্য অনুযায়ী, দরূদ শুধু একটি আমল নয়; এটি আল্লাহর রহমত পাওয়ার সহজ মাধ্যম এবং নবীজির সাথে হৃদয়ের ভালোবাসা তৈরির সেরা সংযোগ। তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখিয়েছেন, দরূদ পাঠের মাধ্যমে জটিল সমস্যাও সহজ হয়ে যায় এবং অপ্রত্যাশিত কল্যাণ লাভ হয়।

বইটিতে দরূদের সংজ্ঞা, উৎপত্তি, ফজিলত, সঠিক পদ্ধতি এবং দরূদের বিভিন্ন বাস্তব সুফল অত্যন্ত সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে যারা নবীর প্রেমে দরূদ পড়তে ভালোবাসেন তাদের জন্য বইটি গুরুত্বপূর্ণ ৷

পাঠকের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

এই রিভিউটি শুধুমাত্র বইটি সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যে লেখা। একটি পূর্ণাঙ্গ বই পড়ার আনন্দ ও গভীরতা কখনোই একটি রিভিউ দিয়ে পুরোপুরি বোঝানো সম্ভব নয়। তাই অনুরোধ থাকবে—রিভিউ পড়ে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো বইটি পড়ে দেখুন। এছাড়া, এখানে অনিচ্ছাকৃত ভুল থাকতে পারে; ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

দরূদ ও দরূদের পরিচয়

দরূদ-আমাদের কাছে বহুলপরিচিত একটি শব্দ। শৈশব থেকেই প্রত্যেক মুসলমান এই দরূদের সাথে পরিচিত। প্রতিদিন আমরা দরূদ পাঠ করি। বিভিন্ন সময় ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলি। নামাজে বলি, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নাম শুনলে বলি, দোয়া করার আগেও বলি। কিন্তু, দরূদের সাথে আমরা পরিচিত হলেও, অনেকেই এর আসল অর্থটা জানি না। জানি না, দরূদ শব্দটার আসল মানে কী।

বইয়ের ভেতরে প্রবেশ করার আগে, প্রথমেই আমরা জেনে নেব, দরূদ কী ও দরূদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় কী।

দরূদ শব্দের উৎপত্তি

‘দরূদ’ শব্দটি ফার্সি। অনেকেই দরূদ শব্দটাকে আরবি ভাবতে পারেন। তবে এটি আরবি নয়, ফার্সি। আর ফার্সি ভাষায় ‘দরূদ’ মানে হলো-সালাম, শান্তি কিংবা দোয়া। তবে আরবিতে এর প্রকৃত শব্দ হলো- ‘সালাত’ )صَلَاةَ( এবং ‘সালাম’ ا (سلام)

আমরা যখন বলি-‘আল্লাহুম্মা সল্লি আ’লা মুহাম্মাদ’- এখানে ‘সল্লি’ শব্দটিই ‘সালাত’ থেকে এসেছে। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে, ‘সালাত’ তো নামাজকেও বলা হয়। তাহলে দরূদের ক্ষেত্রে ‘সালাত’ কেন ব্যবহার করা হয়?

আসলে, ‘সালাত’ শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। আরবি ভাষায় ‘সালাত’ )صَلاة( শব্দটির মূল অর্থ হলো-দোয়া করা, রহমত চাওয়া, প্রশংসা করা এবং সম্মান প্রকাশ করা।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম লিখেছেন-সালাত শব্দটি ব্যবহারের দিক থেকে এর অর্থে পরিবর্তন আনে। যেমন:

  • আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত মানে: রহমত, বরকত এবং সম্মান।
  • ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে সালাত মানে: দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা।
  • মানুষের পক্ষ থেকে সালাত মানে: দোয়া, প্রশংসা ও সম্মান প্রকাশ।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, আল্লাহ যখন রাসূলুল্লাহ-এর উপর ‘সালাত’ পাঠ করেন, তখন এর অর্থ দাঁড়ায়-তিনি তাঁকে রহমত ও সম্মান দান করছেন। ফেরেশতারা যখন সালাত পাঠ করেন, তখন তাঁরা তাঁর জন্য দোয়া করেন। আর আমরা যখন সালাত (দরূদ) পাঠ করি, তখন আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেন তিনি রাসূলুল্লাহ-কে রহমত, সম্মান ও উচ্চ মর্যাদা দান করেন।

‘সালাম’ শব্দের অর্থ

‘সালাম’ (سّلام) শব্দের অর্থ হলো-শান্তি, নিরাপত্তা, কল্যাণ কামনা করা ইত্যাদি।

আমরা দরূদ পাঠে যখন বলি: ‘ওয়া সাল্লিম’ অর্থাৎ ‘এবং সালাম প্রেরণ করুন’, তখন আমরা বলছি-‘হে আল্লাহ, আপনি আপনার রাসূলের উপর শান্তি, নিরাপত্তা ও সকল প্রকার কল্যাণ বর্ষণ করুন।’ যেমন তাশাহহুদে এসেছে:

السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

“হে নবী, আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।”

অর্থাৎ, আমরা আল্লাহর কাছে আবেদন করছি, যেন তিনি তাঁর প্রিয় রাসূল-কে আরও বেশি মর্যাদা দান করেন; তাঁকে আরও বেশি সম্মানিত করেন এবং তাঁর উপর অত্যাধিক শান্তি বর্ষণ করেন।

একটি প্রশ্ন আসতে পারে, রাসূলুল্লাহ তো ইতিমধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বোচ্চ সম্মানিত। তিনি তো জান্নাতে। তাহলে আমরা কেন তাঁর জন্য দোয়া করব?

এই প্রশ্নের উত্তর ইমাম নববি বলেছেন-“দরূদ পাঠ করা মানে এই নয়-রাসূলুল্লাহ-এর কোনো ঘাটতি তাঁর শরহু সহিহ মুসলিম গ্রন্থে দিয়েছেন। তিনি আছে।

অর্থাৎ, নবীজির কোনো ঘাটতির জন্য আমরা দরূদ পাঠ করছি না। আমাদের দরূদ পাঠ করার মানে হলো:

  • আল্লাহর নির্দেশ পালন করা।
  • নবীজির প্রতি আমাদের ভালোবাসা প্রকাশ করা।
  • আল্লাহর কাছে তাঁর মর্যাদা আরও বৃদ্ধির দোয়া করা।
  • আমাদের নিজেদের জন্য সওয়াব ও বরকত লাভ করা।

আরেকটু ব্যাখ্যা করি, তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে। মনে করুন, আপনার পিতা-মাতা জীবিত আছেন। তাঁরা সুস্থ আছেন। তবুও আপনি তাঁদের জন্য দোয়া করেন-‘হে আল্লাহ, আপনি তাঁদের হায়াত বৃদ্ধি করুন। তাদের সুস্থতা দিন। তাদের জান্নাত নসিব করুন ইত্যাদি।’ এই যে এইভাবে তাদের জন্য দোয়া করেন, এটি কি তাঁদের অসম্মান, বা এইটা কি তাদের কোনো ঘাটতির কারণে? না, এটি অসম্মান নয়; বরং এটি আপনার ভালোবাসার প্রকাশ। ঠিক তেমনি রাসূলুল্লাহ-এর জন্য দরূদ পড়াও আমাদের ভালোবাসার প্রমাণ।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কৃতজ্ঞতা। রাসূলুল্লাহ আমাদের জন্য তাঁর পুরো জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি আল্লাহর বাণী আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর কষ্ট, তাঁর ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা ইসলাম পেয়েছি।

সুতরাং, যেই নবী আমাদের জান্নাতের পথ দেখিয়ে গেছেন, আমাদের জন্য কেঁদেছেন, আমাদের জন্য সুপারিশ করার অপেক্ষায় আছেন-আমরা কি সেই নবীজির কৃতজ্ঞতা আদায় করব না? যদি কৃতজ্ঞতা আদায় করি, তবে কীভাবে করব? নবীজির প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায়ের সবচেয়ে উত্তম উপায় হলো-তাঁর উপর দরূদ পাঠ করা। (কৃতজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসছে, ইনশাআল্লাহ)

আমরা দরূদের পরিচয় পেলাম, এবার জানব দরূদ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, আমরা কেন দরূদ পাঠ করব।

আমাদের দরূদ পাঠের নির্দেশ

১. প্রথমত এটি আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ দিয়েছেন, এজন্য আমরা দরূদ পাঠ করব। আল্লাহ যে বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তা কখনও গুরুত্বহীন হতে পারে না।

২. দরূদ নবীজির প্রতি আমাদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। নবীজিকে আমাদের ভালোবাসতে হবে। হাদিসে এসেছে, কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সবকিছু থেকে তার প্রিয় নবীকে বেশি মহব্বত করবে। আর দরূদ, নবীজির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম উপায়।

৩. দরূদ পাঠে আমাদের উপর রহমত বর্ষণ হয়, আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি হয়, আমাদের গুনাহও মাফ হয়। এ ছাড়া আমাদের নেকীর পাল্লাও এই দরূদের মাধ্যমে ভারী হতে থাকে।

৪. মুমিনের জন্য জান্নাত যাওয়ার অন্যতম সহযোগী হচ্ছে নবীজির শাফায়াত। আর দরূদ পাঠে নবীজির শাফায়াত মিলবে। আর শাফায়াত মিললে সহজেই জান্নাত মিলবে। সেই হিসেবে, দরূদকে জান্নাতের চাবিও বলা যায়।

মোটকথা, দরূদ পাঠের নির্দেশ তো আমরা পেয়েছি। এর পাশাপাশি অনেক ফাজায়েলও আছে। এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসছে, ইনশাআল্লাহ।

দরূদ পাঠের মজা বই পিডিএফ (হার্ডকপি) | মাহমুদ বিন নূর বই

বইটির পিডিএফ অনেক পাঠক অনলাইনে খুঁজে থাকেন। সম্ভব হলে নিচ থেকে হার্ডকপি অর্ডার করতে পারেন। এতে লেখক ও প্রকাশকদের নতুন বই প্রকাশে উৎসাহ বাড়ে। আমি বলবো একবার হলেও বইটি পড়ুন। বেশি বেশি বই কিনুন, বই পড়ুন। বই মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু এবং অজানাকে জানার সেরা মাধ্যম।

15

একটু অপেক্ষা করুন, পিডিএফ খোঁজা হচ্ছে...

একটু অপেক্ষা করুন, অর্ডার লিংক তৈরি হচ্ছে...

BoiLover

Boi𝗟𝗼𝘃𝗲𝗿~বইলাভার

Join Telegram

সাম্প্রতিক বই ইসলামিক বই উপন্যাস বই বইমেলা ২০২৬ সকল ক্যাটাগরি সম্মানিত লেখকগণ আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ