ভিক্টর হুগোর লা মিজারেবল বাংলা অনুবাদ করেছেন সুধাংশুরঞ্জন ঘোষ এবং বইটি প্রকাশ করেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। দারিদ্র্য, অন্যায়, ভালোবাসা, ক্ষমা ও মানুষের মানবিকতার গল্প নিয়ে লেখা এই পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসটি বিশ্বসাহিত্যের এক অবিস্মরণীয় সৃষ্টি। ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত এই উপন্যাস বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। লা মিজারেবল বাংলা অনুবাদ পিডিএফ অনেকে অনলাইনে খুঁজে থাকেন ৷
একটি পূর্নাঙ্গ উপন্যাস। রোমাঞ্চ, থ্রিল, ট্রাজেডি সবই আছে বইটির মধ্যে। এই বইটি পড়ার সময় একজন পাঠক পরিচিত হবেন ষোড়শ, সপ্তদশ শতকের পাশ্চাত্য পরিবেশের সাথে।
আপনি কি জানতে চান, একজন মানুষ কীভাবে অতীত অপরাধের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে নতুন জীবনের পথ খুঁজে পেতে পারে? আপনি কি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, ক্ষমা ও সহমর্মিতা কীভাবে একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে তা জানতে চান? আপনি কি দারিদ্র্য, শ্রেণিবৈষম্য ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের মধ্যে মানুষের জীবনসংগ্রামের ছবি দেখতে চান? তাহলে লা মিজারেবল বাংলা আপনার জন্য এক গভীর জীবনবোধপূর্ণ পাঠ।
লা মিজারেবল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বই বিবরণ
- বইঃ লে মিজারেবল ৷
- লেখকঃ ভিক্টর হুগো ৷
- অনুবাদকঃ সুধাংশুরঞ্জন ঘোষ ৷
- প্রকাশনীঃ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ৷
- পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৮০০টি ৷
- ক্যাটাগরিঃ অনুবাদ উপন্যাস বই ৷
লা মিজারেবল রিভিউ
ভিক্টর হুগোর লা মিজারেবল মূলত দারিদ্র্য, অন্যায়, ভালোবাসা, ক্ষমা ও মানুষের মানবিকতার গল্প। কাহিনির কেন্দ্রীয় চরিত্র জাঁ ভলজাঁ। সামান্য একটি রুটি চুরির অপরাধে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সমাজে ফিরে এলেও অতীত তাকে সহজে ছাড়ে না। উনিশ বছরের কারাদণ্ড শেষে তার সামনে আসে এক নিষ্ঠুর সমাজ ও রাষ্ট্রশক্তি। কিন্তু বৃদ্ধ বিশপ মিরিয়েলের অপরিসীম দয়া তার মনের বিদ্রোহ ও ঘৃণার গরল নিঃশেষে অপসারিত করে। হতাশা আর মৃত্যুর অন্ধকারের মাঝে সে খুঁজে পায় এক সৃষ্টিশীল আশাবাদ।
জাঁ ভলজাঁর জীবনের বিবর্তনই উপন্যাসটির অন্যতম বড় আকর্ষণ। সে জীবনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে চারটি চরিত্রের সংস্পর্শে আসে—বৃদ্ধ বিশপ মিরিয়েল, ইনসপেক্টার জেভার্ত, ফাতিনের মেয়ে কসেত্তে এবং তার প্রেমিক যুবক মেরিয়াস। প্রত্যেকেই তার আত্মিক সংকটকে ঘনীভূত করে। বদলে দেয় তার জীবনের মোড়। একজন অপরাধী থেকে একজন মানবিক মানুষের হয়ে ওঠার এই যাত্রা পাঠকের মনে গভীর রেখাপাত করে।
অন্যদিকে ইনসপেক্টার জেভার্তের কর্মনিষ্ঠা ও কঠোর নীতিবোধও মুগ্ধ করে। সে জাঁ ভলজাঁকে সারাজীবন অপরাধী হিসেবেই দেখতে থাকে। ভলজাঁ যখন সম্পদ ও সম্মানে প্রতিষ্ঠিত, তখনও নিজের অতীত পরিচয় গোপন করে অন্যের জীবন রক্ষা করার সুযোগ তার সামনে আসে। সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে তার যে আত্মিক সংকট তৈরি হয়, তা উপন্যাসের কাহিনীকে আরও গভীর করে তোলে।
লা মিজারেবল রিভিউ করতে গেলে কসেত্তের কথা আলাদা করে বলতে হয়। আশ্রয়হীন, আত্মীয়স্বজনহীন জীবনে কসেত্তে ভলজাঁর জন্য নিয়ে আসে সবুজ সজল এক আশ্বাস। জীবনের নতুন অর্থ ও মূল্যবোধ খুঁজে পায় সে কসেত্তের মধ্যে। আবার কসেত্তের ভালোবাসার মানুষ মেরিয়াসের জন্য নিজের সর্বাত্মক ভালোবাসাকেও আত্মত্যাগের এক বিরল মহিমায় তুলে ধরে ভলজাঁ। তাই এই উপন্যাস শুধু দুঃখের কাহিনী নয়; এটি মানুষের আত্মত্যাগ, সত্য, ন্যায় ও পরম আত্মোপলব্ধিরও গল্প।
লা মিজারেবল বইটির বিষয়বস্তু ও কাহিনী
লা মিজারেবল বই-এর শুরু দিগনের বৃদ্ধ বিশপ মিরিয়েলকে ঘিরে। তাঁর জীবন পুণ্যময়। তাঁর প্রদত্ত দুটি রুপোর বাতিদান পরবর্তীতে জাঁ ভলজাঁর জীবনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বিশপের আত্মিক উপস্থিতির প্রতীক হয়ে এই বাতিদান-দুটির আলো সারাজীবন ভলজাঁকে পথ দেখিয়ে যায়।
জাঁ ভলজাঁ উনিশ বছর কারাভোগ করে সমাজে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজ তাকে সহজে গ্রহণ করে না। তার মনে জমে ওঠে ঘৃণা ও বিদ্রোহ। তখন বিশপ মিরিয়েলের দয়া তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর সে নতুন জীবনের পথে এগিয়ে যায়। সম্পদ ও যশ অর্জন করে। মেয়র হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু অতীত বারবার তার সামনে ফিরে আসে।
ইনসপেক্টার জেভার্ত তাকে অনুসরণ করতে থাকে। শ্যাম্পম্যাথিউ নামে এক লোককে জাঁ ভলজাঁ ভেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে জানতে পেরে আবার আত্মিক সংকটে পড়ে সে। নিজের বর্তমান জীবন ধরে রাখবে, নাকি অন্য একজন নিরপরাধ মানুষের জায়গায় নিজেকে প্রকাশ করবে—এই দ্বন্দ্ব তাকে আবার সত্য ও ন্যায়ের পথে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ফাতিনের অন্তিম ইচ্ছা পূরণের জন্য ভলজাঁ কসেত্তেকে থেনার্দিয়েরের হোটেল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। কসেত্তে তার জীবনে নতুন অর্থ এনে দেয়। কিন্তু কসেত্তে যখন মেরিয়াসকে ভালোবাসে, তখন ভলজাঁর জীবনে আবার আসে মর্মবেদনা। পরে ব্যারিকেডে আহত মেরিয়াসকে উদ্ধার করে সে কসেত্তের হাতে তুলে দেয়। সারাজীবনের সঞ্চিত অর্থও তাদের দেয়। শেষ পর্যন্ত ন্যায় ও সত্যের খাতিরে আত্মত্যাগের পথ বেছে নেয় ভলজাঁ।
উপন্যাসে দারিদ্র্য, দুঃখ-দৈন্য, শ্রেণিবৈষম্য এবং মানুষের জীবনের সংগ্রামের ছবিও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। থেনার্দিয়ের ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের মধ্য দিয়ে দারিদ্র্যের অভিশাপজনিত মানুষের দেহগত ও মনোগত বিকৃতির চিত্র দেখা যায়। আবার ওয়াটার লু যুদ্ধের বিস্তারিত বর্ণনার মধ্য দিয়ে ইতিহাস ও মানুষের ভাগ্যের সঙ্গে কাহিনীর যোগ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে এটি রোমাঞ্চ, থ্রিল ও ট্রাজেডিতে পূর্ণ একটি বিস্তৃত কাহিনী।
লা মিজারেবল বাংলা অনুবাদ পিডিএফ ডাউনলোড
বইটির পিডিএফ অনেক পাঠক অনলাইনে খুঁজে থাকেন। সম্ভব হলে নিচ থেকে হার্ডকপি অর্ডার করতে পারেন। এতে লেখক ও প্রকাশকদের নতুন বই প্রকাশে উৎসাহ বাড়ে। আমি বলবো একবার হলেও বইটি পড়ুন। বেশি বেশি বই কিনুন, বই পড়ুন। বই মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু এবং অজানাকে জানার সেরা মাধ্যম।
একটু অপেক্ষা করুন, পিডিএফ খোঁজা হচ্ছে...
একটু অপেক্ষা করুন, অর্ডার লিংক তৈরি হচ্ছে...

