একজন কমলালেবু শাহাদুজ্জামান লেখা জীবনানন্দ দাশের কবি হয়ে ওঠার জীবনী গল্প ৷ জীবনানন্দ সম্পর্কে জানতে হলে এ বইটি পড়তে হবে। খুবই করুন বাংলার শুদ্ধতম কবির জীবন। জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান লিখিত প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশের জীবনী ভিত্তিক উপন্যাস “একজন কমলালেবু” আশা করি পাঠকের ভালো লাগবে বইটি ৷ অনেক পাঠক একজন কমলালেবু PDF খুঁজে থাকেন ৷ ইচ্ছা হলে নিচ থেকে বইটির হার্ডকপি অর্ডার করতে পারেন ৷
শাহাদুজ্জামান একজন শক্তিমান কথাসাহিত্যিক। তিনি শুধু মাত্র একজন কমলালেবু লেখেন নি। গবেষণা করেছেন প্রিয় কবির জীবনের উপর, তা বইয়ের পাতাতেই পাঠক টের পাবেন। আর তার সহজ সরল লেখার রীতিতে পাঠক নতুন করে মুগ্ধ হবেন। প্রিয় কবিকে জানতে সকল পাঠককেই এই বই পড়া উচিৎ। জীবনীমূলক সকল বই পেতে ফলো রাখুন আমাকে ৷
একজন কমলালেবু বই বিবরণ
- বইঃ একজন কমলালেবু ৷
- লেখকঃ শাহাদুজ্জামান ৷
- প্রকাশনীঃ প্রথমা প্রকাশন ৷
- পেইজ সংখ্যাঃ ২৪০টি ৷
- ক্যাটাগরিঃ জীবনীভিত্তিক উপন্যাস বই ৷
একজন কমলালেবু শাহাদুজ্জামান বই রিভিউ
“একজন কমলালেবু” কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামানের অন্যতম বই, যেখানে লেখকের প্রিয় সাহিত্যিক “জীবনানন্দ দাশ” এর জীবন আলোচনা করেছেন। বইয়ের শুরুর চিত্রটা তিনি তুলে ধরছেন জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু দিয়ে। একজন ব্যক্তি দুই হাতে, দুই থোকা ডাব নিয়ে বাড়ি ফেরার উদ্দ্যেশে ট্রাম লাইনের পথ ধরে রওনা দেন। কিন্তু বাড়ি ফেরা হয় নি। ট্রামের ক্যাচারে তার শরীর আটকে দলিত হয়ে যায়। ভেঙ্গে যায় কন্ঠ, উরু এবং পাঁজরের হাড়। বাঁচানোর চেষ্টা করা সত্বেও শেষ রক্ষা হয় নি! সব থেকে আশ্চর্যজনক কথা হলো গত একশত বৎসরে ট্রাম দুর্ঘটনায় কলকাতায় মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র ‘এক’। তিনি আর কেউ নন। আমাদের রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ! লেখক এই ঘটনা উল্ল্যেখ এর সাথে বর্ণনা করেছেন, জীবনানন্দ দাশের পুরো জীবনী।
তিনি ছিলেন একেবারে আড়ালের কবি। জীবিত অবস্থায়, কবি হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও। তার মৃত্যুর পর পান্ডুলিপি পাওয়া যায়, অপ্রকাশিত ২১ টি উপন্যাস ও ১০৮ টি ছোট গল্পের। আরো কতো রচনা। যার, একটাও প্রকাশের চেষ্টা করেন নি তিনি। যতটুক প্রকাশ হলো তা একেবারেই অল্প বিস্তার। কিন্তু কেন?! কেনইবা তিনি এত আড়াল থেকে গেলেন পুরো জীবন। কেনই বা তার অকাল মৃত্যু! এটা কি শুধুই মৃত্যু ছিলো! জীবনানন্দ কে নিয়ে লেখকের লেখা শুধুমাত্র একজন কমলালেবুতেই নয়। লেখক এর আগেও তার ‘পশ্চিমের মেঘে সোনার সিংহ’ নামক গল্প গ্রন্থে জীবনানন্দ দাশের জন্মসাল ‘১৮৯৯’ এ নামে একটি গল্প লিখেন। এবং আরো অনেক লেখায় তিনি বাংলার “রূপসী” কবিকে তুলে আনেন।
জীবনানন্দ দাশ তার কবি প্রতিভা পেয়েছিলেন তার মাতা ‘কুসুমকুমারী দাশ’ এর কাছ থেকে। শাহাদুজ্জামান তার শৈল্পিক লেখনী দিয়ে পাঠকের চোখে তুলে ধরেন অন্য এক জীবনানন্দ দাশ কে। এই বই পড়ার পরও পাঠকের মনে থেকে যাবে প্রিয় কবিকে জানার আরও, আরও তৃষ্ণা। লেখক কবির কবিতার লাইন ব্যবচ্ছেদ এর মধ্য দিয়ে পাঠকের চোখে তুলে ধরেন নতুন রহস্য। তিনি শুধু জীবনানন্দকে প্রকাশ করেন নি, পাঠকের কাছে জীবনানন্দ দাশের মননশীলতাও উন্মেচন করেছেন।
লেখক তাঁর সকল সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা এবং গবেষণার মধ্য দিয়ে পাঠকের কাছে কবিকে প্রকাশ করেছেন। জীবনানন্দ দাশ কি ভবিষৎ বলতে পারতেন? তা না হলে মৃত্যুর আগে তিনি ট্রাম দুর্ঘটনা নিয়ে কথাই বা বললেন কেন!? তাঁর এ নিয়ে আগ্রহই বা কেন ছিলো! একজন কমলালেবুতে, শাহাদুজ্জামান তার প্রিয় সাহিত্যিক জীবনানন্দ দাশের জীবনকে এত গভীর ভাবে বুঝাতে চেয়েছেন তা কি শুধু জানা বা জানানোর জন্যই? আমার তা মনে হয় না, এই থেকে তিনি হয়তো জীবনের অর্থই খুজে ফিরেছেন। আমাদের জীবন কি ব্যাখ্যা করা যায়! আমাদের জীবনের রহস্যময়তা আমরা নিজেরাই কি উদ্ধার করতে পারি!
লেখক জীবনানন্দ দাশের জীবন আলোচনা করতে গিয়ে তুলে এনেছেন তখনকার সময়ের অনেক সাহিত্যিক কে। সেসময় জীবনানন্দের সাথে তাদের সখ্যতা, শত্রুতা, পৃষ্ঠপোষকতা সবই উঠে এসেছে গল্প বলার খাতিরেই। লেখক ব্যাক্তি জীবনানন্দ এবং কবি জীবননান্দ দুটোকেই তার কবিতা তার শিল্প দিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। জীবনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা সব কিছু।
এত কিছু জানার পরও পাঠক মন প্রিয় কবি জীবননান্দ দাশের, শেষ সত্যটা আরো বেশি রূপে প্রমাণ চাওয়ার জন্যই হয়তো আরো বেশি আকৃষ্ট হবেন। তার আত্মহত্যা করা কতোটা যুক্তি যুক্ত, সবটুকু লেখক যদিও পাঠকের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। তবুও লেখকের ভাষ্য মতে এটাই সত্যি রূপে, পাঠকের চোখে প্রতীয়মান হয়। পাঠক, জীবনানন্দ দাশের জীবনাচারণ পাঠ করে এ কথা বিশ্বাস করতে বাধ্য হয় যে, কবি সত্যিই ছিলেন অসহায় এবং পুরো নিঃসঙ্গ। এ সবের পর যে কথা আসে তাহলো, বইয়ের নামকরণ।
একজন কমলালেবু শাহাদুজ্জামান বইয়ের নামকরন
কবি জীবনানন্দ তার একটি কবিতায় কমলালেবু হওয়ার মনোবাসনা ব্যক্ত করেন। তবে সেটা তার ২য় বার পৃথিবীতে পর্দা পনের সময়। তাই লেখক জীবনানন্দকে তার জীবনের চাওয়াকে পূর্ণতা দেওয়ার লক্ষে তার গ্রন্থের নামকরন করেন ‘একজন কমলালেবু’।
‘একজন কমলালেবু’ গ্রন্থকে শুধু উপন্যাস বললে ভুল হবে হয়তো। এটা একাধারে কবির আত্মজীবনী, গল্প, উপন্যাস, ব্যাখ্যা গ্রন্থ ও গবেষনা গ্রন্থ। যেখানে উঠে এসেছে কবির কবি জীবন, ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন ওশিক্ষকতার জীবন। কবির প্রেম-ভালবাসা, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনীতি, দেশভাগ, দুর্ভিক্ষ, বিশ্বযুদ্ধ, হিন্দু মুসলিম দ্বাঙ্গা ও সম্পর্কের টানাপোড়ন এর সংমিশ্রনে লেখক শাহাদুজ্জামানের এক অপূর্ব সৃষ্টি ‘একজন কমলালেবু’।
একজন কমলালেবু শাহাদুজ্জামান বই PDF | Ekjon Kamalalebu Book
বইটির পিডিএফ অনেক পাঠক অনলাইনে খুঁজে থাকেন। সম্ভব হলে নিচ থেকে হার্ডকপি অর্ডার করতে পারেন। এতে লেখক ও প্রকাশকদের নতুন বই প্রকাশে উৎসাহ বাড়ে। আমি বলবো একবার হলেও বইটি পড়ুন। বেশি বেশি বই কিনুন, বই পড়ুন। বই মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু এবং অজানাকে জানার সেরা মাধ্যম।
একটু অপেক্ষা করুন, পিডিএফ খোঁজা হচ্ছে...
একটু অপেক্ষা করুন, অর্ডার লিংক তৈরি হচ্ছে...

