‘মোগল হেরেমের অন্তরালে’ তরুণ লেখক আনিস সিদ্দিকীর একাদশতম গ্রন্থ। ইতোপূর্বে প্রকাশিত তার ‘সংগ্রামী সুকর্ন’ ‘যখন আমি রানি ছিলাম’ ইত্যাদি গ্রন্থগুলি পাঠক সমাজে বিশেষভাবে সমাদৃত এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়ও সহৃদয়তার সঙ্গে সমালোচিত হয়েছে। মোগল হেরেমের অন্তরালে বই PDF ডাউনলোড করে অনেক পাঠক অফলাইনে পড়তে ইচ্ছুক ৷
আমাদের বর্তমান সমাজের তরুণদের মধ্যে ইতিহাসপাঠ বিমুখতা বড় বেশি নজরে পড়ছে। অথচ এটি সর্ববাদীসম্মত যে, কোনো জাতি যদি বড় হতে চায় তবে তাকে ইতিহাসের পাঠ অবশ্যই নিতে হবে। অতীত ইতিহাস আমাদের সামনে শুধু অতীত ঐশ্বর্যের মণিমালাই তুলে ধরে না বরঞ্চ কোথায় আমাদের গলদ ছিল, ভ্রান্তি ও বিভ্রম ছিল তাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এটাকেই বলা হয় ‘ইতিহাসের শিক্ষা’।
আনিস সিদ্দিকীর এই বইগুলো বিশেষ করে ‘মোগল হেরেমের অন্তরালে’ পড়ে পাঠক সম্প্রদায় ইতিহাসের অনেক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাথে পরিচিত হবেন। এর খণ্ডাংশ কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাঠকদের জানা থাকলেও পরিপূর্ণ চিত্রটি সম্ভবত জানা ছিল না। এ চিত্রের সঙ্গে পাঠক সম্পূর্ণ একমত হবেন তাও ভরসা করে বলতে পারি না। ইতিহাস শুধু ইতিহাসই। কিন্তু ঐতিহাসিক উপন্যাস ইতিহাসের পৃথিবীতে অবস্থান করে কল্পনার রং মিশিয়ে এক নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করে। মনে হয় এদের বুঝি চিনি-তবে এত কাছের মানুষ হিসেবে বুঝি চিনতাম না।
বই বিবরণ
- বইঃ মোগল হেরেমের অন্তরালে ৷
- লেখকঃ আনিস সিদ্দিকী ৷
- প্রকাশনীঃ ঐতিহ্য ৷
- পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৫০টি ৷
- ক্যাটাগরিঃ ঐতিহাসিক উপন্যাস বই ৷
মোগল হেরেমের অন্তরালে বই থেকে একটু পড়ুন
সম্রাট জাহাঙ্গীরের বিমাতা বৃদ্ধা সলীমা বেগম ছিলেন তখন মোগল হেরেমের সর্বময় কর্ত্রী। তাঁর আদেশ-নিষেধে সবাইকে অন্দরমহলে কাজ করতে হতো-চলতে-ফিরতে হতো। তাঁর বিনানুমতিতে পান থেকে চুন খসার উপায় ছিল না।
শুধু অন্দরমহলে কেন, রাজদরবারেও তাঁর প্রভাব কম ছিল না। স্বয়ং সম্রাটও তাঁর মতামতের উপর গুরুত্ব প্রদান করতেন। তাঁকে সত্যিকার ‘গাইড’ মনে করতেন।
এই সলীমা বেগমের বদৌলতেই নূরজাহান এক নব-রর্ষের উৎসবে সম্রাটের দৃষ্টিপথে পড়েন। পরিশেষে বিস্মৃতিময় স্মৃতি মন্থন ক’রে সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁর প্রেমে নতুন করে আবদ্ধ হন এবং তাঁকে সম্রাজ্ঞীর গৌরব দান করেন।
সে নববর্ষের আনন্দ-উৎসবের কথা জানতে হলে আমাদের যেতে হবে কয়েকটা বছর পিছিয়ে।
নূরজাহানের পিতা পারস্যের অধিবাসী মীর্জা গিয়াস বেগ নিতান্ত ভাগ্যান্বেষণে সপরিবারে দিল্লিতে আগমন করেন। নূরজাহান তখন কিশোরী। তার নাম তখন মেহেরুন্নেসা। অপরূপ রূপসুষমা ও অদ্ভুত প্রতিভার অধিকারিণী ছিলেন এই কিশোরী।
সম্রাট আকবর তাঁর দরবারে একটা সাধারণ চাকরিতে নিযুক্ত করেন মির্জা গিয়াস বেগকে এবং তার আর্জি মোতাবেক শাহী হেরেমের একাংশ প্রদান করেন তার পরিবার-পরিজনের অস্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য। মনের আনন্দে প্রবাসী মির্জা গিয়াস বেগ মোগল হেরেমের সেই নির্দিষ্ট অংশে সপরিবারে অবস্থান করতে থাকেন। কিন্তু তাঁর কন্যা মেহেরুন্নেসার রূপলাবণ্য সাময়িকের জন্য গিয়াস বেগ ও সম্রাট আকবরের মানসিক দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কারণ, একদিন শাহ্জাদা সেলিম (জাহাঙ্গীর) গোধূলিলগ্নে একাকী গুল বাগিচায় ভ্রমণ করার সময় অকস্মাৎ সাক্ষাৎলাভ করেন মেহেরুন্নেসার। কিশোরী মেহেরুন্নেসাকে আধো আলো আধো আঁধারে নির্জন বনানীর মধ্যে দেখে অবাক হয়ে যান তিনি। মানুষ যে এত সুন্দর হতে পারে শাহজাদা সেলিমের তা জানা ছিল না। আপন চক্ষুকে তিনি বিশ্বাস করতে পারলেন না; অপ্সরী বলে ভ্রম হলো তাঁর। তিনি ধীরে ধীরে কাছে গিয়ে নিজেকে সংবরণ করতে না পেরে বাহুবন্ধনে জড়িয়ে ধরলেন মেহেরুন্নেসাকে। কিশোরী শাহজাদার এই অপ্রত্যাশিত ব্যবহারে হতভম্ব হয়ে গেল। সম্বিত ফিরে পেতেই সে শাহজাদার বাহুবন্ধন থেকে মুক্ত হবার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু বিফল হলো সে।
শাহজাদা নিজেই তাকে মুক্তি দিলেন। মুহূর্তে কিশোরী দ্রুত পদ সঞ্চালনে অদৃশ্য হলো সেস্থান থেকে।
রাত্রে শাহজাদার সুনিদ্রা হলো না। অনেক ভাবনা-চিন্তার পর তিনি প্রভাতে অন্দরমহলের সর্বত্র অনুসন্ধান করতে লাগলেন কিশোরী মেহেরুন্নেসাকে। কিন্তু কোথাও তার সাক্ষাৎ মিলল না। নিরাশায় মুষড়ে পড়লেন শাহজাদা সেলিম। ভয়ানক উতলা হয়ে নির্বোধের ন্যায় ছুটাছুটি করতে লাগলেন অস্বাভাবিকভাবে। দৃষ্টি এড়াল না কারো। অবশেষে তাঁর বিমাতা সলীমা বেগম আহ্বান করলেন তাঁকে আপন কক্ষে। বসালেন নিজ বিছানার উপরে। তারপর বললেন, তুমি কি খুঁজছ, কাকে অনুসন্ধান করছ তা কারো জানতে বাকি নেই। তোমার রকম-সকম দেখে সবাই মুখ টিপে, হাসছে। এমন ছেলেমানুষী করা তোমার উচিত হয় না। কয়েক বছর পরে তুমিই হবে ভারতের সম্রাট, দিল্লির ঐতিহ্যবাহী সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। একটা সামান্য কিশোরীর জন্য এতখানি উতলা হওয়া তোমার শোভা পায় না।
মোগল হেরেমের অন্তরালে বই PDF ডাউনলোড
বইটির পিডিএফ অনেক পাঠক অনলাইনে খুঁজে থাকেন। সম্ভব হলে নিচ থেকে হার্ডকপি অর্ডার করতে পারেন। এতে লেখক ও প্রকাশকদের নতুন বই প্রকাশে উৎসাহ বাড়ে। আমি বলবো একবার হলেও বইটি পড়ুন। বেশি বেশি বই কিনুন, বই পড়ুন। বই মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু এবং অজানাকে জানার সেরা মাধ্যম।
একটু অপেক্ষা করুন, পিডিএফ খোঁজা হচ্ছে...
একটু অপেক্ষা করুন, অর্ডার লিংক তৈরি হচ্ছে...

