পিডিএফ পড়.কম

তিথির নীল তোয়ালে উপন্যাস PDF ও রিভিউ | হুমায়ূন আহমেদ বই

লেখার সাইজA
A
Rate this post

তিথির নীল তোয়ালে উপন্যাস PDF হুমায়ূন আহমেদ লেখা প্রিয় পাঠক খুঁজে থাকেন ৷বইটির পিডিএফ সংগ্রহ করা হয়েছে ৷ নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। তার প্রতিটি উপন্যাসে নতুন করে উপস্থিত হয় প্রতিটি গল্প, মোহাবিষ্টে আপ্লুত হয় পাঠক। ১৯৯৩ সালে প্রথম প্রকাশিত এবং ২০১২ সালে ১৫শ মুদ্রণ অতিক্রম করা তিথির নীল তোয়ালে উপন্যাসটি তার খুব যত্নে তৈরী করা ভালবাসার এক অনবদ্য স্মারক।

বাংলা সাহিত্যের এক কিংবদন্তী হুমায়ূন আহমেদ। বিংশ শতাব্দীর বাঙালি লেখকদের মধ্যে তিনি অন্যতম স্থান দখল করে আছেন। একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও নাট্যকার এ মানুষটিকে বলা হয় বাংলা সায়েন্স ফিকশনের পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও তিনি বেশ সমাদৃত। বাদ যায়নি গীতিকার কিংবা চিত্রশিল্পীর পরিচয়ও। সৃজনশীলতার প্রতিটি শাখায় তাঁর সমান বিচরণ ছিল। অর্জন করেছেন সর্বোচ্চ সফলতা এবং তুমুল জনপ্রিয়তা।

তিথি ও মারুফের ভালোবাসার গল্পকে কেন্দ্র করে এগিয়ে গেছে উপন্যাসের কাহিনী। ভালোবাসার মানুষকে পাওয়ার জন্য মারুফের একের পর এক মিথ্যা বলা, তিথির আবেগ, অভিমান আর নুরুজ্জামানের সহজ-সরল উপস্থিতি গল্পটিকে অন্যরকম করে তুলেছে।

উপন্যাসের অন্যতম মজার চরিত্র নুরুজ্জামান। গ্রাম থেকে আসা এই সহজ-সরল মানুষটির মধ্যে যেমন সরলতা আছে, তেমনি রয়েছে বুদ্ধিমত্তা। মারুফের মিথ্যা কথাগুলো প্রথম ধরা পড়ে তার কাছেই। অন্যদিকে, তিথির নীল তোয়ালের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার মন খারাপ ও গোপন কান্নার গল্প। সব মিলিয়ে হাসি, আনন্দ, অভিমান ও বিচ্ছেদের সুরে এগিয়ে চলে তিথির নীল তোয়ালে উপন্যাস।

তিথির নীল তোয়ালে বই বিবরণ

তিথির নীল তোয়ালে উপন্যাসের গল্পের কাহিনী

গল্পের শুরু জাফর সাহেবকে দিয়ে। তিনি পঞ্চাশোর্ধ একজন রগচটা মানুষ। তুচ্ছ কারণেই তাঁর মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। মেজাজ খারাপ হলে প্রেসারের সমস্যা দেখা দেয়, মাথা ধরে যায়, ঘাড় ব্যথা করতে থাকে। নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলেও খুব একটা সফল হন না। একদিন অফিস থেকে ফেরার পর পরপর কয়েকটি ঘটনা ঘটে। লিফট বন্ধ থাকায় আটতলায় হেঁটে উঠতে হয়। পত্রিকার বাইরের পাতা পাওয়া যায় না। আবার এক কাপ চায়ের সর ভাসতে দেখে মেয়ে তিথির সঙ্গে কথার লড়াই হয়। সব মিলিয়ে মেজাজ আরও খারাপ হয়ে যায় তাঁর।

জাফর সাহেবের এমন রাগারাগিতে অতিষ্ঠ হয়ে স্ত্রী শায়লা দুই মেয়ে ইরা ও মীরাকে নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে গেছেন। বাসায় রয়ে যায় জাফর সাহেব ও বড় মেয়ে তিথি। এমন সময় গ্রাম থেকে তাদের বাসায় আগমন ঘটে নুরুজ্জামানের। পেশায় স্কুলের হেডমাস্টার। সহজ-সরল, কিছুটা বোকাসোকা ধরনের মানুষ। তিথির দাদাজান তাকে একটি চিঠি দিয়ে পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিথির জন্য নুরুজ্জামানকে পছন্দ করার কথাও রয়েছে। বিষয়টি শুনে তিথি বেশ অবাক হয়।

এদিকে তিথি ভালোবাসে মারুফ নামের একটি ছেলেকে। মারুফ সামান্য টিউশনি করে। তবে ছেলেটি প্রচুর মিথ্যা কথা বলে। তিথির আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে বেশ সুচতুরভাবে নিজের জীবনের জন্য একের পর এক মিথ্যা সাজিয়ে যায়। একসময় মারুফ তিথিকে জানায়, স্কলারশিপ নিয়ে সে ফ্রান্স চলে যাচ্ছে। যাওয়ার আগে তিথিকে বিয়ে করে যেতে চায়। তিথিও মারুফের কথায় রাজি হয়ে বাবাকে বিয়ের জন্য রাজি করিয়ে ফেলে।

অন্যদিকে নুরুজ্জামান নিজের স্কুলের কাজের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় এসেছে। তার অদ্ভুত কার্যকলাপ দেখে জাফর সাহেব ও তিথি দুজনেই বিরক্ত হয়। কিন্তু এই সহজ-সরল মানুষটির মধ্যে রয়েছে অন্যরকম বুদ্ধি। পাতার বাঁশি বাজাতেও সে বেশ পটু। একসময় নিজের দক্ষতায় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে স্কুলের কাজ সম্পন্ন করে।

এরপর তিথি মাকে নিতে নুরুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেয়। ট্রেনে তিথিকে চমকে দিতে গোপনে উঠে পড়ে মারুফও। জোছনা দেখতে দেখতে তারা সিলেটে পৌঁছায়। তিথি মাকে সব খুলে বলে। শায়লা বেগমও মারুফকে দেখে অভিভূত হন। ধীরে ধীরে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়।

কিন্তু গায়েহলুদের আনন্দঘন মুহূর্তে হঠাৎ করেই ঘটে বিপত্তি। তিথির বড় মামা এসে জানায়, মারুফ যা বলেছে তার সবই মিথ্যা। সত্য জানার পর তিথি কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়। সে জানিয়ে দেয়, এই বিয়ে হবে না। তিথির ভালোবাসা, বিশ্বাস ও স্বপ্ন যেন মুহূর্তেই ভেঙে যায়। মন খারাপ হলে যে মেয়েটি নীল তোয়ালে মুখে চেপে একা একা কাঁদে, সেই তিথির জীবনে তখন নেমে আসে অভিমান।

এরপর কী হয়? মারুফ-তিথির ভালোবাসার সম্পর্ক কি সত্যিই শেষ হয়ে যায়? নুরুজ্জামানই বা শেষ পর্যন্ত কী করে? এসব ঘটনার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যায় উপন্যাসের শেষ অংশ।

তিথির নীল তোয়ালে রিভিউ

তিথির নীল তোয়ালে হুমায়ূন আহমেদ এর অনেক আগেকার পড়া একটি উপন্যাস। তিথি, মারুফ ও নুরুজ্জামানের চরিত্রগুলো আপনার মনে অনেকদিন পর্যন্ত থেকে যাবে। বিশেষ করে তিথির নরম মন, বাবার প্রতি ভালোবাসা, অভিমান এবং একজন অনাগত অতিথিকে নিজের পরিবারের একজন ভেবে নেওয়ার বিষয়গুলো ভালো লাগে।

মারুফ চরিত্রটি বেশ অদ্ভুত। সে মিথ্যাবাদী, প্রতারক। অথচ ভালোবাসার মানুষকে পাওয়ার জন্যই তার এত মিথ্যা বলা। মারুফের মতো বুদ্ধিমান ছেলের মিথ্যা ধরা পড়ে নুরুজ্জামানের মতো সরল মানুষের কাছে। নুরুজ্জামানকে সে কম অপমান করেনি। অথচ এই মানুষটিই শেষ পর্যন্ত মারুফের ভালো চেয়েছে।

নুরুজ্জামান চরিত্রটি উপন্যাসের সবচেয়ে মজার চরিত্রগুলোর একটি। পোশাক-আশাকে সাধারণ, কথাবার্তায় সরল। কিন্তু তার বুদ্ধি ও দক্ষতা বেশ ভালোভাবেই প্রকাশ পেয়েছে। পাতার বাঁশি বাজানো থেকে শুরু করে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা, সবকিছুতেই রয়েছে তার নিজস্বতা।

তিথি চরিত্রটিও বেশ ভালো লাগে। তার প্রতিটি ভাবনা, বাবার প্রতি ভালোবাসা, মায়ের অভিমান কিংবা ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে কষ্ট পাওয়া—সবকিছুতেই যেন পরিচিত জীবনের ছোঁয়া রয়েছে। তিথির মন খারাপ হলে নীল তোয়ালে মুখে চেপে কান্না করার বিষয়টি বিশেষভাবে মনে থাকে।

জাফর সাহেব, শায়লা, ইরা, মীরা, দাদাজান ও শিক্ষামন্ত্রীসহ সব চরিত্র মিলিয়ে উপন্যাসটি বেশ ভালো লাগে। কোথাও হাসি, কোথাও অভিমান, আবার কোথাও মন খারাপের মুহূর্ত। একসময় সহজ-সরল গল্পটি জটিল রূপ নেয়। বিশেষ করে মারুফের মিথ্যা প্রকাশ পাওয়ার পর তিথির সিদ্ধান্ত গল্পে নতুন মোড় নিয়ে আসে। তিথির নীল তোয়ালে হুমায়ূন আহমেদ পিডিএফ নিচে দেখু এবং হার্ডকপি অর্ডার করুণ ৷

তিথির নীল তোয়ালে উপন্যাস PDF ডাউনলোড | হুমায়ূন আহমেদ বই

বইটির পিডিএফ অনেক পাঠক অনলাইনে খুঁজে থাকেন। সম্ভব হলে নিচ থেকে হার্ডকপি অর্ডার করতে পারেন। এতে লেখক ও প্রকাশকদের নতুন বই প্রকাশে উৎসাহ বাড়ে। আমি বলবো একবার হলেও বইটি পড়ুন। বেশি বেশি বই কিনুন, বই পড়ুন। বই মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু এবং অজানাকে জানার সেরা মাধ্যম।

15

একটু অপেক্ষা করুন, পিডিএফ খোঁজা হচ্ছে...

একটু অপেক্ষা করুন, অর্ডার লিংক তৈরি হচ্ছে...

BoiLover

Boi𝗟𝗼𝘃𝗲𝗿~বইলাভার

Join Telegram
error: Content is protected !!
সাম্প্রতিক বই ইসলামিক বই উপন্যাস বই বইমেলা ২০২৬ সকল ক্যাটাগরি সম্মানিত লেখকগণ আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ