শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিন্দুর ছেলে উপন্যাস PDF ডাউনলোড করে পড়তে চান? অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিন্দুর ছেলে একটি আবেগভরা ছোটগল্প। ১৯১৩ সালে রচিত এই গল্পে একান্নবর্তী পরিবারের পারিবারিক সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, মান-অভিমান ও নানা টানাপোড়েন সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। অল্প কয়েকটি চরিত্রের মধ্য দিয়ে একটি পরিবারের সম্পর্ক, ভালোবাসা ও আবেগের চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন লেখক।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে যাদব ও মাধব মুখুয্যে। দুই বৈমাত্রেয় জ্ঞাতি ভাই হলেও তারা কখনো নিজেদের আলাদা ভাবেনি। শত অভাব-অনটনের মাঝেও যাদব ও তার স্ত্রী অন্নপূর্ণা ছোট ভাই মাধবকে পড়াশোনা করিয়ে আইন পাশ করান। এরপর জমিদারকন্যা বিন্দুবাসিনী বউ হয়ে আসে মাধবের ঘরে। প্রচণ্ড অভিমানী বিন্দুর মূর্ছা যাওয়ার অভ্যাস ছিল। কিন্তু অন্নপূর্ণার দেড় বছরের ছেলে অমূল্যচরণকে তার কোলে তুলে দেওয়ার পর থেকেই বদলে যেতে থাকে বিন্দুর জীবন।
অমূল্য ধীরে ধীরে বিন্দুর কোলে মানুষ হতে থাকে। তাকেই মা বলে ডাকে। অমূল্যকে ঘিরেই বিন্দুর সমস্ত দিন কেটে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে সংসারে নতুন মানুষ আসা, অমূল্যের সঙ্গে নরেনের সখ্যতা এবং পারিবারিক নানা ঘটনার কারণে অন্নপূর্ণা ও বিন্দুর মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। মাতৃস্নেহ, অভিমান ও পারিবারিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গল্পটি নতুন মোড় নেয়।
বিন্দুর ছেলে বই বিবরণ
- বইঃ বিন্দুর ছেলে ৷
- লেখকঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ৷
- প্রকাশনীঃ মেঘনা পাবলিকেশন্স ৷
- ক্যাটাগরিঃ উপন্যাস বই ৷
বিন্দুর ছেলে গল্পের চরিত্র
বিন্দুর ছেলে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গল্পের প্রধান ও উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- বিন্দুবাসিনী (বিন্দু) — মাধবের স্ত্রী এবং অমূল্যের স্নেহময়ী ছোট মা।
- অমূল্যচরণ (অমূল্য) — অন্নপূর্ণার ছেলে, যাকে বিন্দু নিজের সন্তানের মতো মানুষ করে।
- অন্নপূর্ণা — যাদবের স্ত্রী এবং অমূল্যের জন্মদাত্রী মা।
- যাদব মুখুয্যে — মাধবের বড় ভাই এবং অন্নপূর্ণার স্বামী।
- মাধব মুখুয্যে — যাদবের ছোট ভাই এবং বিন্দুর স্বামী।
- এলোকেশী — যাদব ও মাধবের বোন।
- নরেন (নরেন্দ্র) — এলোকেশীর ছেলে এবং অমূল্যের সমবয়সী।
মূল চরিত্র: বিন্দুবাসিনী, অমূল্যচরণ, অন্নপূর্ণা, যাদব ও মাধব।
বিন্দুর ছেলে গল্পের বিষয়বস্তু
যাদব ও মাধব মুখুয্যে দুই বৈমাত্রেয় ভাই। কিন্তু তাদের সম্পর্ক এতটাই গভীর যে, তাদের আলাদা মায়ের গর্ভজাত সন্তান বলে কেউ ভাবতেই পারে না। বড় ভাই যাদব নিজের সমস্ত জীবন উৎসর্গ করেছে ছোট ভাই মাধবের জন্য। যাদবের স্ত্রী অন্নপূর্ণাও মায়ের স্নেহ দিয়ে মাধবকে মানুষ করেছেন। শত অভাব-অনটনের মাঝেও তারা মাধবকে পড়াশোনা করিয়ে আইন পাশ করান। পরবর্তীতে মাধবের বিয়ে হয় জমিদারকন্যা বিন্দুবাসিনীর সঙ্গে।
বিন্দু সুন্দরী, শিক্ষিতা এবং আত্মসম্মানবোধে ভরা এক নারী। তবে অল্পতেই প্রচণ্ড অভিমান করত। কিছু বললেই তার মূর্ছা যাওয়ার ব্যামো দেখা দিত। ফলে বাড়ির সবাই তাকে একটু ভয়ই পেত। একদিন অন্নপূর্ণা তার দেড় বছরের ছেলে অমূল্যচরণকে বিন্দুর কোলে তুলে দেন। আশ্চর্যের বিষয়, সেদিন বিন্দু আর মূর্ছা যায় না।
এরপর থেকে অমূল্য বিন্দুর কাছেই মানুষ হতে থাকে। বিন্দুকে মা বলে ডাকে। অমূল্যের ঘুম ভাঙা থেকে রাতে ছোট মাকে ধরে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত সবকিছুতেই জড়িয়ে থাকে বিন্দু। নিঃসন্তান বিন্দুও অমূল্যকে নিজের সন্তান মনে করে তার মায়া-মমতা ও ভালোবাসার সমস্তটা উজাড় করে দেয়। অমূল্যকে ঘিরেই তার সমস্ত দিন কেটে যায়। এভাবেই বিন্দুর মূর্ছা যাওয়ার ব্যামো দূর হয়।
কিন্তু গল্পে নতুন চরিত্র হিসেবে আসে যাদব-মাধবের বোন এলোকেশী ও তার ছেলে নরেন। নরেনের সঙ্গে সখ্যতার দরুন অমূল্য বখে যেতে শুরু করে। অমূল্যের এমন পরিবর্তন বিন্দু কিছুতেই মেনে নিতে পারে না। অন্যদিকে অন্নপূর্ণার সঙ্গে তার দূরত্ব সৃষ্টি হয়। অমূল্যকে ঘিরে দুই মায়ের স্নেহ, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এবং পারিবারিক মান-অভিমান একসময় সংসারে নানা অশান্তির জন্ম দেয়।
এই দ্বন্দ্বের মাঝে সবচেয়ে অসহায় অমূল্য। একদিকে জন্মদাত্রী মা অন্নপূর্ণা, অন্যদিকে বুকের সবটুকু স্নেহ দিয়ে আগলে রাখা বিন্দু। দুই মায়ের ভালোবাসার মাঝখানে পড়ে তার শিশুমনও যেন এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। এরপর ঘটনাপ্রবাহে নানা হৃদয়বিদারক পারিবারিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গল্প এগিয়ে যায়।
বিন্দুর ছেলে উপন্যাস রিভিউ
জন্মদাত্রীই কি শুধু মা? নাকি যিনি বুকের সবটুকু স্নেহ ঢেলে দিয়ে একটি শিশুকে মানুষ করেন, তিনিও সমানভাবে মা? এই প্রশ্নটাই যেন গল্পের কেন্দ্রবিন্দু।
নিঃসন্তান বিন্দুর ভাসুরপুত্র অমূল্যকে নিজের সন্তান মনে করা, অমূল্যের প্রতি তার মাত্রাতিরিক্ত স্নেহ, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা—সবকিছু পড়তে গিয়ে মায়া লাগে। বিন্দুর কোলে মানুষ হতে হতে অমূল্যও তাকেই মায়ের আসনে বসিয়েছে। অন্যদিকে অন্নপূর্ণাও ছেলের প্রতি স্নেহ ও ভালোবাসায় কোনো কমতি রাখেননি। কিন্তু পারিবারিক কিছু প্রেক্ষাপট এই মাতৃস্নেহকে যেভাবে প্রভাবিত করে, তার এক মনোমুগ্ধকর বর্ণনা দিয়েছেন শরৎচন্দ্র।
যাদব ও অন্নপূর্ণার চরিত্রও বেশ ভালো লেগেছে। যাদব বড় ভাই হয়ে নিজের সমস্ত জীবন ছোট ভাইয়ের জন্য উৎসর্গ করেছে। অন্নপূর্ণাও মায়ের স্নেহ দিয়ে মাধবকে মানুষ করেছেন। এমন ভাসুর পাওয়া সত্যিই চারটিখানি কথা নয়! তাদের সরলতা, মহৎপ্রাণ মনোভাব এবং পারিবারিক সম্প্রীতি গল্পটিকে অন্যরকম আবেগ দিয়েছে।
বিন্দুর মান-অভিমান, চেয়েও করতে না পারার দিকটা এবং অমূল্যের প্রতি তার প্রগাঢ় ভালোবাসা গল্পের অন্যতম আকর্ষণ। আবার অন্নপূর্ণা ও বিন্দুর মাঝে চলমান ঝগড়া, শ্লেষ, এসবের মাঝেও যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মৌন প্রেমভাব ছিল, তা লেখক সুন্দরভাবে দেখিয়েছেন।
বিন্দুর ছেলে খুব অল্প কয়েকটি চরিত্র নিয়ে রচিত একটি বড় গল্প। ছোট্ট পরিসরে একটি পরিবারের সবকিছু তুলে এনেছেন লেখক। পরিবারের কাজ, একে অপরের সম্পর্ক, মান-অভিমান, সুখ-দুঃখ—সবকিছুই যেন বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। শুরুর দিকের নাটকীয়তা আর শেষের দিকের আবেগ সবকিছুই চমৎকার।
লেখকের গল্পবিন্যাসও অসাধারণ। কোনো অতিরিক্ত আড়ম্বর নেই। প্রত্যেকটি চরিত্রকেই যথাযথভাবে ব্যবহার করেছেন। স্বল্প পরিসরের মধ্যে এত সুন্দর কাহিনী লিখে পাঠকের মনে স্থান করে নেওয়ার ক্ষমতা মনে হয় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষেই সম্ভব।
গল্পটি পড়ে শেষের দিকে চোখের পানি ধরে রাখা কঠিন। এমন কিছু পারিবারিক টানাপোড়েন ও আবেগের মুহূর্ত রয়েছে, যা পড়ার পরেও অনেকটা সময় মনে রয়ে যায়। সব মিলিয়ে বিন্দুর ছেলে বই একটি আবেগঘন পারিবারিক গল্প। যারা শরৎচন্দ্রের লেখা এবং পারিবারিক সম্পর্কের গল্প পড়তে ভালোবাসেন, তাদের অবশ্যই পড়া উচিত।
বিন্দুর ছেলে উপন্যাস PDF ডাউনলোড | শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বইটির পিডিএফ অনেক পাঠক অনলাইনে খুঁজে থাকেন। সম্ভব হলে নিচ থেকে হার্ডকপি অর্ডার করতে পারেন। এতে লেখক ও প্রকাশকদের নতুন বই প্রকাশে উৎসাহ বাড়ে। আমি বলবো একবার হলেও বইটি পড়ুন। বেশি বেশি বই কিনুন, বই পড়ুন। বই মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু এবং অজানাকে জানার সেরা মাধ্যম।
একটু অপেক্ষা করুন, পিডিএফ খোঁজা হচ্ছে...
একটু অপেক্ষা করুন, অর্ডার লিংক তৈরি হচ্ছে...

