পিডিএফ পড়.কম

মোগল হারেম ইতিহাস ও ঐতিহ্য বই PDF

লেখার সাইজA
A
Rate this post

মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব রচিত মোগল হারেম ইতিহাস ও ঐতিহ্য বই PDF অনলাইনে পাঠক খুঁজে থাকেন ৷ মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস জানতে বইটি পড়তে পারেন ৷ ভারতীয় উপমহাদেশে মোগল শাসনামল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাদের সম্পর্কে জানার আগ্রহ সবারই রয়েছে। ভারতের মোগলরা ছিল চাগতাই তুর্কি। সম্রাট বাবর ছিলেন এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা। ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে বাবর ইব্রাহীম লোদিকে পরাজিত করে ভারতে শাসন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। বাবর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বংশই মোগল নামে পরিচিত।

আরবি হারিম শব্দের তুর্কি রূপ হারেম (Harem), হেরেম অথবা হারিম। তুর্কি হারেম শব্দের অর্থ বাসগৃহ, অন্দরমহল, নারী নিবাস প্রভৃতি। মোগল শাসন আমলে রাজপ্রাসাদের যে অংশে মেয়েদের আলাদা করে রাখা হতো তাকে হারেম বা হারিম বলা হতো। পারস্য ও গ্রীকদের থেকে মুসলিম শাসকেরা হারেম সংস্কৃতির ধারণা লাভ করে। উমাইয়া শাসন আমল হতে হারেম প্রথার সূচনা হলেও ভারতের মোগল শাসকেরা এর কাঠামোগত রূপ দেন। মোগল সম্রাট আকবর ছিলেন মূলত হারেম প্রথার জনক।

মোগল হারেম সম্পর্কে ইউরোপীয় পর্যটকদের প্রচুর উৎসুক্য ছিল। এসব পর্যটকদের অনেকে ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেন। কাহিনী নির্ভর গ্রন্থ রচিত হয়েছে। এসব কল্পিত বিবরণে মোগল বেগম ও শাহজাদীদের চরিত্রে কলঙ্ক লেপন করা হয়েছে। এবং ঐসব বিবরণ ঐতিহাসিক সত্য বলে গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের বিতর্কিত তথ্যসমূহের সত্যতা যাচাই না করে মোগল হারেম সম্পর্কে অতিরঞ্জিত ও কল্পনার রঙ লাগানোর

প্রয়াস চালানো হয়েছে। প্রকৃত অর্থে মোগল হারেম বা জানানা মহল ছিল অত্যন্ত সুরক্ষিত। হারেমে খোঁজা প্রহরীদের সতর্ক দৃষ্টি এড়িয়ে মোগল সম্রাট ছাড়া পুরুষের প্রবেশাধিকার ছিল না।

মোগল সম্রাটগণ অনেকেই নিজেদের আত্মজীবনী লিখে গেছেন। সমসাময়িক ঐতিহাসিকগণও তাদের দরবারী ইতিহাস রচনা করে গেছেন। এসব ফার্সী ও তুর্কি ভাষায় লেখা সমকালীন ইতিহাসে মোগল বেগম ও শাহজাদীদের অনেক বিবরণ পাওয়া যায়। এছাড়াও মোগল চিত্রকলায় মূল্যবান ছবিতে হারেমের অনেক ধারণা পাওয়া যায়। মোটকথা মোগল হারেমের সঠিক চিত্র নির্ণয়ের উপাদানের কোন অভাব ছিলনা।

কিন্তু তার সঠিক ব্যবহার না করে বিশেষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে মোগল হামেরমের চিত্র রূপকথার গল্পের মতো করে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে মোগল সম্রাটদের সম্পর্কে খারাপ ধারণার সৃষ্টি হয়েছে এবং ইতিহাসও বিকৃত হয়েছে। বাংলা সাহিত্য, গল্প, উপন্যাস অনেক ক্ষেত্রেই মোগল হারেম সম্পর্কে নীতিবাচক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ঐতিহাসিক গবেষণা পদ্ধতির আলোকে এসব কল্প কাহিনী ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়। তাই এ গবেষণায় মোগল হারেম সম্পর্কে প্রাপ্ত তত্ত্ব ও তথ্যগুলোকে ইতিহাস গবেষণার পদ্ধতির আলোকে যাচাই করে মোগল হারেম সম্পর্কে একটি সঠিক চিত্র উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মোগল শাসন আমলে হারেমে নারীর অবস্থান সম্পর্কে একটি সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে।

মোগল হারেম ইতিহাস ও ঐতিহ্য বই বিবরণ

  • বইঃ মোগল হারেম ইতিহাস ও ঐতিহ্য ৷
  • লেখকঃ মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব ৷
  • প্রকাশনীঃ পরিলেখ প্রকাশনী ৷
  • পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৪৩টি ৷
  • ক্যাটাগরিঃ মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস বই ৷

মোগল হারেম ইতিহাস ও ঐতিহ্য বই থেকে উপক্রমণিকা

প্রবাহমান মানব জীবনে নারী-পুরুষ পরস্পরের পরিপূরক। প্রাকৃতিক ভিন্নতা ব্যতীত নারী-পুরুষের মধ্যে মর্যাদাগত কোন পার্থক্য নেই। স্থান-কাল পাত্র ভেদে নারীর কর্মক্ষেত্র আলাদা হলেও ইসলাম নারীকে তার পূর্ণ অধিকার প্রদান করেছে এবং নারী-পুরুষের যৌথ প্রয়াসেই নির্মিত হয়েছে সভ্যতার ইতিহাস। মোগল নারীরা হারেমে কঠোর পর্দার মধ্যে জীবন যাপন করেও তাদের প্রতিভা ও সৃষ্টিশীলতা দিয়ে সমকালীন শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্পকলা ও রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন। ১৫২৬ হতে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোগল সম্রাটগণ দীর্ঘ সময় ভারত শাসন করেছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে তাদের এ শাসনকাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মোগল আমলে সভ্যতা, সংস্কৃতি, শিল্পকলা, সাহিত্য ও রাজ্যশাসনসহ সকল ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন সাধিত হয়েছিল তার পিছনে মোগল হারেমের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা ছিল।

আরবি হারিম )حريم( শব্দের অর্থ এ রূপ ব্যক্তি বা বস্তু যাকে স্পর্শ করা নিষিদ্ধ। হারিম রাজ-প্রাসাদের চতুষ্পার্শ্ববর্তী এরূপ স্থান বা সীমারেখাকে বলা হয়, যেখানে প্রবেশ করা সাধারণের জন্য নিষিদ্ধ। অতএব একে বহিরাগত হতে সংরক্ষিত রাখা হয়। আরবি হারিম শব্দরই তুর্কি রূপ ‘হারিম’ বা ‘হারেম’।

হারেম ছিল মেয়েদের জন্য নির্দিষ্ট। মোগল রাজপ্রাসাদের যে অংশে সম্রাটগণের স্ত্রী, কন্যা, মা-বোন, মহিলা কর্মচারী ও উপপত্নীগণ বাস করতেন তা হারেম নামে পরিচিত ছিল। মহিলাদের এ আবাসস্থলগুলোকে (Female Apartment) বা মহল বলা হতো। মোগল বেগমগণ হারেমে কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাদের নির্দেশেই হারেমের সবকিছু পরিচালিত হতো। হিন্দু বেগমদের জন্যও হারেমে আলাদা মহল ছিল। সেখানে তারা স্বাধীনভাবে বসবাস ও নিজেদের ধর্ম পালন করতেন।

মোগলরা ছিলেন চাগতাই তুর্কি। তুর্কি বীর তৈমুর লং ও মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান এর বংশধর। মধ্য এশিয়ায় বসবাসকালে তুর্কিদের সাথে মোঙ্গলদের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ১৩৯৮ খ্রিস্টাব্দে তৈমুর লং সর্বপ্রথম ভারত আক্রমণ করে সফল হন। পরবর্তীতে সেই সূত্র ধরে তারই বংশধর জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে ভারতে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। বাবর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজ বংশই ইতিহাসে মোগল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সম্রাট বাবর ছিলেন এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা। ১৭জন মোগল শাসক কর্তৃক ভারত শাসিত হয়েছিল এদের মধ্যে ৬ জন ছিলেন শ্রেষ্ঠ শাসক; তারা হলেন-বাবর, হুমায়ন, আকবর, জাহাঙ্গীর, শাহজাহান ও আওরঙ্গজেব।

মোগল আমলে শিক্ষা-সংস্কৃতি তথা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও বিকাশে হারেমের প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। মোগল হারেমে অবস্থানকারী নারীরা রাজকার্য, জ্ঞানচর্চা, শিল্পকলাসহ সকল ক্ষেত্রেই অংশগ্রহণ করতেন। সম্রাট হুমায়ন হতে আওরঙ্গজেব পর্যন্ত সমস্ত শাসকদের উপর নারীদের ব্যাপক প্রভাব ছিল। হারেমের নারীরা পর্দার আড়ালে থেকেই স্বাধীনভাবে নিজ নিজ কর্তব্য পালন করতেন। তারা শুধুমাত্র পুরুষদের বিলাস উপাদান হিসেবেই জীবন কাটাননি বরং শিল্পকলা, সাহিত্য ও সঙ্গীতচর্চা দ্বারা নারী জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলেছিলেন। ইরান তুরানসহ নানা দেশের মোগল সুশিক্ষিতা সুরুচিসম্পন্না নারীদের সমাবেশ মোগল হারেমে এক বৈচিত্রময় পরিবেশ তৈরী করেছিল। যেসব মহীয়সী নারী হারেমে অবস্থান করে রাজনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-গুলবদন বেগম, সেলিমা সুলতান বেগম, মাহম আনগা, মেহের উন নিসা ওরফে নূরজাহান, আরজুমান বানু ওরফে মমতাজ মহল, জাহান আরা, জেব উন নিসা প্রমূখ।

গুলবদন বেগম সম্রাট বাবরের কন্যা। তিনি বাবর, হুমায়ন ও আকবরের রাজত্বকালে জীবিত ছিলেন। চারিত্রিক পবিত্রতা, দানশীলতা ও জ্ঞান গরিমায় তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি ১৫৮৭ খ্রিস্টাব্দে ‘হুমায়ন নামা’ নামে একটি মূল্যবান ঐতিহাসিক গ্রন্থ রচনা করেন। ফার্সী ভাষায় রচিত এ গ্রন্থে তিনি প্রথম তিনজন মোগল সম্রাটের রাজ্য শাসনসহ নানা অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করে গেছেন। এছাড়া তিনি ফার্সী ভাষায় কবিতাও রচনা করেছেন। তিনি নিজ প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার গর্ভে এক ছেলে এবং এক কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। সম্রাট আকবরের সময় এ মহীয়সী নারী মৃত্যুবরণ করেন।

হারেমের অন্যতম বিশেষ খ্যাতিমান নারী সেলিমা সুলতান বেগম। আকবরের হারেমে তিনি অদ্বিতীয়া রমনী ছিলেন। অত্যন্ত বুদ্ধিমতি, সুচতুরা ও বাকপটু এ নারী হুমায়নের বৈমাত্রেয় ভগ্নী গুলগাদারের কন্যা ছিলেন। সম্রাট হুমায়নের সেনাপতি বৈরাম খানের সাথে তার প্রথম বিবাহ হয়। বিবাহের মাত্র ৩ বছর পরেই বৈরাম খানের মৃত্যু হলে আকবর তাকে বিবাহ করেন। জ্ঞানের প্রতি এই বিদুষী মহিলার প্রচন্ড আগ্রহ ছিল এবং তিনি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তিনি ‘মাখফি’ (Concealed) বা লুক্কায়িত ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেছেন। তার বিশেষ গুণের জন্য তাকে ‘খাদিজা- উজ- জামিনী’ উপাধীতে ভূষিত করা হয়েছিল।..(বই থেকে পড়ুন)

মোগল হারেম ইতিহাস ও ঐতিহ্য বই PDF ডাউনলোড

বইটির পিডিএফ অনেক পাঠক অনলাইনে খুঁজে থাকেন। সম্ভব হলে নিচ থেকে হার্ডকপি অর্ডার করতে পারেন। এতে লেখক ও প্রকাশকদের নতুন বই প্রকাশে উৎসাহ বাড়ে। আমি বলবো একবার হলেও বইটি পড়ুন। বেশি বেশি বই কিনুন, বই পড়ুন। বই মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু এবং অজানাকে জানার সেরা মাধ্যম।

15

একটু অপেক্ষা করুন, পিডিএফ খোঁজা হচ্ছে...

একটু অপেক্ষা করুন, অর্ডার লিংক তৈরি হচ্ছে...

BoiLover

Boi𝗟𝗼𝘃𝗲𝗿~বইলাভার

Join Telegram
error: Content is protected !!
সাম্প্রতিক বই ইসলামিক বই উপন্যাস বই বইমেলা ২০২৬ সকল ক্যাটাগরি সম্মানিত লেখকগণ আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ