পিডিএফ পড়.কম

রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি PDF (ডাউনলোড) বই রিভিউ

লেখার সাইজA
A
Rate this post

রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের একটি রহস্য ও রোমাঞ্চে ভরা উপন্যাস। সুন্দরপুরের হাইওয়ের পাশে তৈরি হয়েছে অদ্ভুত নামের এক রেস্টুরেন্ট। নাম ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’। নামের মতোই অদ্ভুত এই রেস্টুরেন্টের খাবার। স্বাদ এতটাই ভালো যে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে খেতে আসে।

রেস্টুরেন্টটির মালিক মুশকান জুবেরী। রহস্যময়ী এই নারীকে নিয়ে সুন্দরপুরের মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। কেউ তাকে ডাইনি বলে। কেউ বলে তার মধ্যে রয়েছে অদ্ভুত কিছু রহস্য। পুরোনো জমিদার বাড়িতে বসবাস করা মুশকান সম্পর্কে আসলে কতটুকু জানা যায়? তার রেস্টুরেন্টের খাবারের পেছনেই বা কী রহস্য লুকিয়ে আছে?

এই রহস্যের খোঁজেই সুন্দরপুরে আসে নুরে ছফা। প্রথমে সাংবাদিক পরিচয় দিলেও তার আসল পরিচয় ডিবির কর্মকর্তা। কয়েকজন যুবক নিখোঁজ হয়েছে। তাদের সবার শেষ গন্তব্য ছিল মুশকান জুবেরীর রেস্টুরেন্ট। তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে মুশকানের অজানা অতীত। নুরে ছফার সঙ্গে আতর আলী, ফালু ও কে এস খানও জড়িয়ে পড়ে এই রহস্যের জালে। পুরো রহস্য জানতে পড়ুন রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি PDF এবং থ্রিলার বিষয়ক বই পিডিএফ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন ৷

আরও পড়ুন, রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও আসেননি পিডিএফ

বই বিবরণ

বইটির কাহিনী সংক্ষেপে

‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’ একটি রেস্টুরেন্টের নাম। সুন্দরপুরের এই রেস্টুরেন্টের খাবারের স্বাদ অতুলনীয়। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে সেই খাবারের স্বাদ নিতে। কিন্তু খাবারের এই অদ্ভুত আকর্ষণের আড়ালেই লুকিয়ে আছে অন্য এক রহস্য। রেস্টুরেন্টের মালিক মুশকান জুবেরীকে নিয়েও সুন্দরপুরের মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই।

ঢাকা থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার ভাগ্নে নিখোঁজ হয়। তদন্ত করতে সুন্দরপুরে আসে নুরে ছফা। সাংবাদিক পরিচয়ে গ্রামে ঢুকলেও একসময় তার আসল পরিচয় প্রকাশ পায়। তদন্তে নুরে ছফা জানতে পারে, ওই যুবক ছাড়াও আরও কয়েকজন যুবক নিখোঁজ হয়েছে। তাদের সবার শেষ গন্তব্য ছিল একই রেস্টুরেন্ট।

নুরে ছফার প্রধান অনুচর হয়ে পাশে থাকে স্থানীয় পুলিশের ইনফর্মার আতর আলী। সুন্দরপুরের মানুষের কাছে সে ‘বিবিসি’ নামে পরিচিত। গ্রামের এমন কোনো মানুষ নেই যার সম্পর্কে আতর আলীর কাছে কোনো তথ্য নেই। শুধু মুশকান জুবেরী সম্পর্কে তার কাছে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। মুশকানকে নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে নুরে ছফা জানতে পারে, সে পুরোনো জমিদার বাড়ির নাতবউ। কিন্তু তার অতীত নিয়ে রয়েছে আরও বড় রহস্য।

গল্পের আরেক রহস্যময় চরিত্র গোরখোদক ফালু। গ্রামের মানুষের মতে, কেউ মারা যাওয়ার আগে সে নাকি আগাম আভাস পেয়ে কবর খুঁড়ে রাখে। নুরে ছফার তদন্ত যত এগোয়, ফালুকে ঘিরেও তত নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়। অন্যদিকে ডিবির প্রাক্তন চৌকস কর্মকর্তা কে এস খান নুরে ছফাকে তদন্তে সাহায্য করেন।

মুশকান জুবেরীর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নুরে ছফা জানতে পারে আন্দিজ পর্বতমালায় ঘটে যাওয়া এক ভয়ঙ্কর প্লেন ক্র্যাশের কথা। ১৯৭২ সালে লাতিন আমেরিকা ভ্রমণের সময় একটি বিমান আন্দিজ পর্বতমালায় বিধ্বস্ত হয়েছিল। বরফের উপত্যকায় আটকে পড়া গুটিকয়েক মানুষ শুরু করে বেঁচে থাকার লড়াই। নেই খাবার, নেই অতিরিক্ত উষ্ণ পোশাক। শেষ পর্যন্ত ক্ষুধার জ্বালায় মৃত যাত্রীদের শরীরের ভক্ষণযোগ্য অংশ খেয়ে জীবন বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা। সেই ভয়ঙ্কর ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুশকান জুবেরীর অতীত।

প্রায় ত্রিশ-চল্লিশ বছর পরেও মুশকান জুবেরী মোটেও বৃদ্ধ নন। তার যৌবন ধরে রাখার রহস্যের সঙ্গে কি সেই আন্দিজের ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে? নিখোঁজ হয়ে যাওয়া যুবকদের সঙ্গে মুশকানের কী সম্পর্ক? নুরে ছফা কি সত্যিই এই রহস্যের সমাধান করতে পারবে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এগিয়ে যায় রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি-এর কাহিনী।

রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি বই রিভিউ

রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি অদ্ভুত রহস্যের ভেতরে টেনে রাখে। প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে নতুন একটি রহস্য তৈরি হয়। গল্পের একেক সময় কাহিনী একেক দিকে বাঁক নেয়। ফলে প্রতিমুহূর্তে গল্পের পরিণতি সম্পর্কে পাঠককে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়।

বইটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ মুশকান জুবেরী। রহস্যময়ী এই নারীকে ঘিরে গায়ে কাটা দেওয়ার মতো নানা ঘটনা রয়েছে। তার অতীত, অদ্ভুত আচরণ এবং রেস্টুরেন্টের খাবারের অতুলনীয় স্বাদ—সবকিছু মিলিয়ে চরিত্রটি গল্পে আলাদা এক রহস্য তৈরি করেছে। নুরে ছফার চরিত্রটিও বেশ শক্তিশালী। তদন্ত করতে গিয়ে সে একের পর এক জটিলতার সম্মুখীন হয় এবং এমন সব তথ্য বের করে আনে যা পাঠকের কল্পনার বাইরে।

উপন্যাসটির ঘটনাপ্রবাহ বেশ সিনেমাটিক। বিশেষ করে আন্দিজ পর্বতমালায় বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা বইটির সবচেয়ে রোমহর্ষক অংশগুলোর একটি। নুরে ছফা, মুশকান জুবেরী, আতর আলী, কে এস খান, ফালু, রহমান মিয়া ও রমাকান্ত মাস্টার—প্রতিটি চরিত্রই কাহিনিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রহস্যের ভাবটি লেখক শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পেরেছেন।

তবে কিছু জায়গায় লেখকের বাহুল্য দোষ চোখে পড়ে। যে কথাটা এক লাইনে বোঝানো যায়, সেটি কখনো কখনো পাঁচ লাইনে বোঝানো হয়েছে। কিছু গালাগালি ও বানানের ভুলও দৃষ্টিকটু মনে হতে পারে। কিছু টুইস্ট এমনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যে ঘটনাগুলো কেন ওই দিকে যাচ্ছে, তা কিছুটা জটিল বা অতিরিক্ত মনে হতে পারে।

সব মিলিয়ে রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি একটি অসাধারণ প্লটের রহস্য ও রোমাঞ্চে ভরা মৌলিক থ্রিলার। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রহস্যের টান ধরে রাখে। মুশকান জুবেরীর অদ্ভুত জগৎ, নুরে ছফার তদন্ত এবং আন্দিজের রোমহর্ষক ঘটনা বইটিকে আলাদা করে তুলেছে। রহস্য ও থ্রিলার পছন্দ হলে সুন্দরপুরের এই অদ্ভুত কাহিনী পাঠককে শেষ পর্যন্ত টেনে রাখবে।

রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি PDF (ডাউনলোড)

বইটির পিডিএফ অনেক পাঠক অনলাইনে খুঁজে থাকেন। সম্ভব হলে নিচ থেকে হার্ডকপি অর্ডার করতে পারেন। এতে লেখক ও প্রকাশকদের নতুন বই প্রকাশে উৎসাহ বাড়ে। আমি বলবো একবার হলেও বইটি পড়ুন। বেশি বেশি বই কিনুন, বই পড়ুন। বই মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু এবং অজানাকে জানার সেরা মাধ্যম।

15

একটু অপেক্ষা করুন, পিডিএফ খোঁজা হচ্ছে...

একটু অপেক্ষা করুন, অর্ডার লিংক তৈরি হচ্ছে...

BoiLover

Boi𝗟𝗼𝘃𝗲𝗿~বইলাভার

Join Telegram
সাম্প্রতিক বই ইসলামিক বই উপন্যাস বই বইমেলা ২০২৬ সকল ক্যাটাগরি সম্মানিত লেখকগণ আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ