হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. রচিত শরীয়তের দৃষ্টিতে ঈদে মীলাদুন্নবী বই PDF অনলাইনে অনেক পাঠক খুঁজে থাকেন ৷ বইটির বাংলা অনুবাদ করেছেন মাওলানা আবু তাহের রাহমানী এবং প্রকাশিত হয়েছে বাড কম্প্রিন্ট এন্ড পাবলিকেশন্স থেকে ৷ আপনারা যারা ঈদে মিলাদুন্নবী, মিলাদ কিয়াম বই খুঁজে থাকেন চোখ রাখুন পিডিএফপড়.কম ৷
বই বিবরণ
- বইঃ শরীয়তের দৃষ্টিতে ঈদে মীলাদুন্নবী ৷
- লেখকঃ হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.
- অনুবাদকঃ মাওলানা আবু তাহের রাহমানী ৷
- প্রকাশনীঃ বাড কম্প্রিন্ট এন্ড পাবলিকেশন্স ৷
- পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১২৮টি ৷
- ক্যাটাগরিঃ মিলাদ-কিয়াম বই ৷
শরীয়তের দৃষ্টিতে ঈদে মীলাদুন্নবী বইয়ের ভূমিকা
মাহে রবিউল আউয়াল আমাদের দেশে বিশেষ করে ভারত উপমহাদেশে যথারীতি একটি উৎসবের মাস হিসেবে পালিত হয়। প্রতিবছর মাহে রবিউল আউয়ালের আগমনের সাথে সাথে গ্রামে-গ,ে শহরে-নগরে তথা গোটা দেশে সীরাতুন্নবী ও ঈদে মীলাদুন্নবী (সা) মাহফিল ও অনুষ্ঠানের হিড়িক পড়ে যায়। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম দিবস উপলক্ষে বারই রবিউল আউয়াল ঈদে মীলাদুন্নবী পালনকে অনেকে ঈমানের অনিবার্য অংশ মনে করতেও দ্বিধা করে না। বর্তমানে এটাকে ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত’- এর বিশেষ নিদর্শন মনে করা হয়।
সন্দেহ নেই যে, বিশ্বমানবতার মুক্তির কাণ্ডারী রাহমাতুল লিল ‘আলামীন নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পৃথিবীতে শুভাগমন মানবেতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা। এর চেয়ে অধিক আনন্দদায়ক, কল্যাণকর ও অবিস্মরণীয় কোন ঘটনা বিশ্ব মানচিত্রে দ্বিতীয়টি ঘটেনি। তাঁর আগমনে শিক্ক, পৌত্তলিকতা, জাহালাত ও বর্বরতার ঘোর অমানিশায় নিমজ্জিত পৃথিবী আলোকোদ্ভাসিত হয়। মানব জাতি শিক্ষার আলো লাভ করে। তাঁর সাহচর্যের কল্যাণে মানুষ সত্যের রাজপথ খুঁজে পায়।
এমন মহামানবের জীবনচরিত আলোচনা নিঃসন্দেহে একটি অতি বড় ইবাদত এবং ইহলৌকিক ও পারলৌকিক পরম সৌভাগ্য লাভের উপায়। এর মাধ্যমেই একজন মু’মিন দ্বীন ও ঈমানের সঞ্জিবনী শক্তি লাভ করতে পারে।
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবনের প্রতিটি ঘটনা মানুষের হেদায়েতের জন্য উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। তাঁর শৈশব, কৈশর, যৌবন, তাঁর নবুওয়াত, দাওয়াত, জিহাদ, কুরবানী, ইল্ম, তাকওয়া, চাল-চলন, ওঠা-বসা, যুদ্ধ-সন্ধি, সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি, দয়া-রহমত, হাসি-আনন্দ তথা বিলাদাত (জন্ম) থেকে ওয়াফাত পর্যন্ত তাঁর জীবনের প্রতিটি আচরণ ও উচ্চারণ বিশ্ব মানবের জন্য ‘উসওয়ায়ে হাসানাহ্’ বা সর্বোত্তম আদর্শ। ইরশাদ হয়েছে- “আল্লাহর রাসূলের মাঝে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ রয়েছে।” সুতরাং তা আলোচনা করা এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা মু’মিনের ঈমানী দায়িত্ব।
অনুরূপ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সামান্য যোগসূত্র রয়েছে এমন প্রতিটি ব্যক্তি ও বস্তুর আলোচনাও ইবাদতের অংশ। তাঁর সাহচর্য লাভে ধন্য মহান সাহাবায়ে কেরাম, তাঁর মহিয়সী স্ত্রী ও খাদিমগণ এবং তাঁর লেবাস-পোশাক, হাতিয়ার, বাহন ইত্যাদির আলোচনাও ইবাদত হিসেবে গণ্য এবং বরকত ও কল্যাণ লাভের উপায়। কারণ, এটা মূলত কোন বস্তুর আলোচনা নয়। বরং প্রকারান্তরে আল্লাহর রাসূলেরই আলোচনা।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবনের দু’টি অংশ। (এক) বিলাদাত (জন্মগ্রহণ) থেকে নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্ব পর্যন্ত। (দুই) নবুওয়াত প্রাপ্তি থেকে নিয়ে ওয়াফাতে নববী পর্যন্ত।
প্রথম অংশের বহু ঘটনা বিক্ষিপ্তভাবে হাদীস ও সীরাত গ্রন্থসমূহে বর্ণিত রয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় অংশ- যাকে পবিত্র কুরআনে ‘উসওয়াতুন হাসানাহ্’ (উত্তম আদর্শ) বলা হয়েছে- পরিপূর্ণ ও সুবিন্যস্তরূপে হাদীস ও সীরাত গ্রন্থসমূহে এমনভাবে সংরক্ষিত রয়েছে যে, তা সামনে রাখলে মনে হবে, যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সমস্ত শ্রেষ্ঠত্ব ও বৈশিষ্ট্যসহ আমাদের চোখের সামনে বিরাজ করছেন।
নিঃসন্দেহে এটা ইসলামের এক অপূর্ব বিস্ময়। এ উম্মতের জন্য পরম সৌভাগ্য যে, তাদের মহান পয়গাম্বর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের পরিপূর্ণ রেকর্ড তাদের নিকট সুরক্ষিত হয়ে আছে এবং প্রতিটি ঘটনা সত্যাসত্য যাচাইয়ের সুস্পষ্ট দলীল ও প্রমান তাদের কাছে বিদ্যমান রয়েছে। পক্ষান্তরে আজ পৃথিবীতে অন্য যতগুলো ধর্ম রয়েছে, কোন ধর্মের অনুসারীদের নিকট তাদের ধর্মীয় নেতার জীবনচরিত সঠিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে সংরক্ষিত নেই।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত বা জীবনচরিত প্রকাশ করার পদ্ধতি দু’টি। (এক) তাঁর প্রতিটি সুন্নাতকে জীবনের প্রতিটি কর্মে, প্রতিটি পদক্ষেপে এমনভাবে বাস্তবায়িত করা যে, চাল-চলন, আচরণ-উচ্চারণ, স্বভাব-চরিত্র তথা জীবনের সকল ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ ফুটে ওঠবে। যে কেউ দেখামাত্র তার কাছে সুস্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এ ব্যক্তি মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোলাম। (দুই) যখনই সুযোগ হবে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনচরিত আলোচনা দ্বারা মজলিসকে সতেজ ও সুবাসিত করবে। তাঁর ফাযায়েল, শ্রেষ্ঠত্ব, বরকতপূর্ণ আমল ও আখলাকসমূহের আলোচনা করবে। আমাদের মহান উত্তরসূরী সাহাবায়ে কেরাম, তাবিয়ীন ও আইম্মায়ে মুজতাহিদীন এ উভয় পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন। তাঁরা প্রতিটি মজলিসে প্রিয়নবীজীর সীরাতে তাইয়্যেবা আলোচনা করতেন।
খলীফাতুল মুসলিমীন উমর ফারুক (রা) যখন জীবন সায়াহ্নে উপস্থিত, তখন জনৈক যুবক তাঁকে দেখার জন্য এসে ফিরে যাওয়ার সময় তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “বৎস! তোমার কাপড় টাখনুর নিচে। এটা রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের খেলাফ।” তদীয় পুত্র আবদুল্লাহ ইবনি উমর (রা) নবীজীর সুন্নাহ ও আদর্শানুযায়ী চলার ওপর এমন সংকল্পবদ্ধ ছিলেন যে, হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের সফরকালে যে সব স্থানে যাত্রা বিরতি করেছিলেন, তিনি ঠিক সে সব স্থানে যাত্রা বিরতি করতেন। যে গাছের নিচে বিশ্রাম করেছিলেন, তিনি উক্ত গাছের নিচে বিশ্রাম করতেন। প্রাকৃতিক প্রয়োজনে যেখানে অবতরণ করেছিলেন, প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়াও তিনি সেখানে অবতরণ করতেন এবং প্রিয় নবীজী যেখানে বসেছিলেন, হুবহু তাঁর অনুকরণে সেখানে বসতেন। এঁরা ছিলেন প্রকৃত আশেকানে রাসূল।
যাঁদের জীবনে রাসূলের পবিত্র সীরাত শুধু পুস্তকের পাতায় শোভা পেতো না; বরং তাঁদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তা উদ্ভাসিত ছিলো এবং তার সুবাস গোটা পৃথিবীকে সুবাসিত করেছিলো। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবিয়ীগণ ইসলামের দাওয়াত নিয়ে পৃথিবীর এমন অনেক অঞ্চলে গিয়েছেন, যে সব অঞ্চলের ভাষার সাথে তাঁরা পরিচিত ছিলেন না। কিন্তু তাঁদের বাহ্যিক অবয়ব, আমল-আখলাক ও আচার-আচরণ দেখে বিশাল বিশাল অঞ্চল মুসলমানদের অধিকারে এসে গিয়েছিলো। বস্তুত এটা পবিত্র সীরাতে রাসূলের বরকতেই সম্ভব হয়েছিলো।
মহান সাহাবায়ে কেরাম, তাবিয়ীন ও সালফে সালিহীনের কেউ বর্তমান প্রচার সর্বস্ব সীরাত ও মীলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছেন বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। কারণ, তাঁদের কাছে “প্রতিদিন ঈদের দিন এবং প্রতিরাত সবেবরাত”-এর ব্যাপার ছিলো। তাঁদের গোটা জীবন ছিলো সীরাতে রাসূলের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। প্রতিটি মজলিসের আলোচ্য বিষয়ই ছিলো নবীজীর সীরাত ও জীবনচরিত। তাঁদের প্রতিটি কথা ও কাজ ছিলো সীরাতুন্নবীর শিক্ষাগার। সুতরাং এ নাম ও প্রচার সর্বস্ব সীরাতুন্নবী ও মীলাদুন্নবী মাহফিল করার অবকাশ তাঁদের কোথায়?
কিন্তু প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ অতিবাহিত হওয়ার পর সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের মধ্যে কাজের স্থলে কথা এবং আমলের স্থলে লৌকিকতার ধারা চালু হলো। তবে সুখের কথা হলো, এ উম্মত কখনো ভালো লোকশূন্য ছিলো না। আজও এমন অনেক আল্লাহর বান্দা আছে, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত ও আদর্শ সামনে রেখে নিজেদের জীবন গঠনে বদ্ধপরিকর। তাদের কাছে প্রিয় নবীজীর এক একটি সুন্নাত সুলাইমান (আ)-এর রাজত্ব ও কারূণের ধনভাণ্ডার থেকেও মূল্যবান। কিন্তু এ শ্রেণীর লোকের সংখ্যা অতি নগণ্য।
অধিকাংশের অবস্থা হলো, কিছু উৎসব, অনুষ্ঠান, মিষ্টির সুন্নাত পালন এবং বছরে দু’একবার প্রচার ও নাম সর্বস্ব মীলাদুন্নবী বা সীরাতুন্নবীর শ্লোগান দিয়ে মনে করা যে, তারা প্রিয় নবীর অধিকার আদায় করে ফেলেছে এবং তাদের জন্য রাসূলের শাফা’আত সাব্যস্ত হয়ে গেছে। যদিও তাদের জীবনের কোথাও সীরাতুন্নবীর কোনই নমুনা পরিলক্ষিত হয় না। বরং নবীজীর এক একটি সুন্নাতকে তারা তাদের জীবনের পাতা থেকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে পরিষ্কার করে ফেলে। এমনকি কখনও এ অনুভূতি পর্যন্ত জাগে না যে, রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুন্নাতসমূহ মিটে যাওয়ার ফলে কীরূপ কষ্ট পান! বরং তারা এ আত্মপ্রতারণায় থাকে যে, দু’চারটি কাওয়ালী ও না’তে রাসূল শুনলে ও শোনালেই রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুশি হয়ে যাবেন।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে নিয়ে ছয় শতাব্দীকাল পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহ-এর ইতিহাসে মীলাদুন্নবী মাহফিল নামে কোন কিছুর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। এ ছয়’শ বছরে মুসলমানগণ কখনও সীরাতুন্নবী বা মীলাদুন্নবী মাহফিলের নামে কোন অনুষ্ঠান করেছে বলে কোন প্রমাণ নেই। (বাকি অংশ বই থেকে পড়ুন)
শরীয়তের দৃষ্টিতে ঈদে মীলাদুন্নবী বই PDF | আশরাফ আলী থানভী রহ.
বইটির পিডিএফ অনেক পাঠক অনলাইনে খুঁজে থাকেন। সম্ভব হলে নিচ থেকে হার্ডকপি অর্ডার করতে পারেন। এতে লেখক ও প্রকাশকদের নতুন বই প্রকাশে উৎসাহ বাড়ে। আমি বলবো একবার হলেও বইটি পড়ুন। বেশি বেশি বই কিনুন, বই পড়ুন। বই মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু এবং অজানাকে জানার সেরা মাধ্যম।
একটু অপেক্ষা করুন, পিডিএফ খোঁজা হচ্ছে...
একটু অপেক্ষা করুন, অর্ডার লিংক তৈরি হচ্ছে...

