পিডিএফ পড়.কম

লালসালু উপন্যাস সম্পূর্ণ গল্প PDF বই | সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

লেখার সাইজA
A
Rate this post

লালসালু উপন্যাস বইটির লেখক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমাজ-সমালোচনামূলক রচনা। গ্রামের অসহায় মানুষ দের বোকা বানিয়ে মজিদ যেভাবে ধর্ম ব্যবসা করে সেটিই এই লালসালু উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। উপন্যাসটি মাধ্যমে লেখক গ্রাম বাংলার সরল মানুষকে ধোকা দেওয়া ভন্ড পীরের মুখোশ উন্মোচন করেছেন। বইটিতে লেখক খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন কিভাবে মানুষের সাথে ধোঁকাবাজি করে পীর মানুষের সম্পদ লুটে খায়। গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন কুসংস্কার এর কথা তুলে ধরেছেন লেখক বইটিতে।

উপন্যাসের চরিত্রগুলো ছিল অসাধারণ। একজন শিক্ষিত যুবক গ্রামের স্কুল করতে চান সকল কুসংস্কার দূর করার জন্য কিন্তু কিন্তু মসজিদ বাধা দেয় কারণ তিনি জানেন এলাকায় মানুষ শিক্ষিত হলে তার ধর্ম ব্যবসা আর চলবে না কিভাবে মানুষকে ঠকিয়ে ধর্ম ব্যবসা করছে সেটাই তুলে ধরা হয়েছে উপন্যাসটিতে। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ লেখা লালসালু উপন্যাস সম্পূর্ণ গল্প PDF অনেক পাঠক খুঁজে থাকেন ৷ বিশেষ করে উপন্যাসটি বর্তমান উচ্চমাধ্যমিক সহপাঠ এ পড়ানো হয়।

আরও পড়ুন, হাজার বছর ধরে উপন্যাস জহির রায়হান ৷

লালসালু উপন্যাস রিভিউ

‘লালসালু’ নিছক কোনো উপন্যাস নয়। এটি যেন জীবনের দর্পণ। গ্রাম-বাংলার অজ্ঞতাপূর্ণ তৎকালীন সমাজের এক সত্যিকার রূপ দিয়েছেন লেখক। গ্রামীণ সমাজ, সামাজিক রীতি-নীতি, প্রচলিত ধারণা ও বিশ্বাস—সবকিছু মিলিয়ে এখানে একটি জীবন্ত সমাজচিত্র ফুটে উঠেছে। ধর্মীয় সংস্কার ও কুসংস্কারের প্রচ্ছন্ন দাপটের কাছে মানবতার অসহায়ত্বও উঠে এসেছে লেখায়।

উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদ। গ্রামবাসীর সরলতা ও ধর্মভীরুতার সুযোগ নিয়ে এই ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী গ্রামে আস্তানা গাড়ে। একটি পরিত্যক্ত কবরকে ‘মোদাচ্ছের পীরের মাজার’ বলে প্রতিষ্ঠা করে। সেই কবরের উপর লালসালু বিছিয়ে তৈরি করে মাজার। আর এই মাজারই ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে তার শক্তির উৎস। গ্রামের সহজ-সরল ধর্মভীরু মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি করে নিজের প্রভাব বিস্তার করে মজিদ। মাজার ঘিরেই শুরু হয় তার শোষণ ও শাসন।

মজিদের শক্তির বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যায় কাহিনি। সে ঘরবাড়ি, জমিজমার মালিক হয়। গ্রামের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিচার-সালিশে প্রধান সিদ্ধান্তগ্রহণকারী ব্যক্তি হয়ে ওঠে। নিজের প্রভাব বজায় রাখতে কূট-কৌশলের আশ্রয় নেয়। কেউ তার বিরুদ্ধে দাঁড়ালে তাকে হেনস্তা করে ছাড়ে। শিক্ষিত যুবক আক্কাস যখন গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়, তখন মজিদ সেই প্রস্তাবকে অন্য খাতে প্রবাহিত করে দেয়। কারণ সে জানে, শিক্ষার আলো জ্বলে উঠলে তার মাজারকেন্দ্রিক জীবনধারা আর সহজে টিকবে না।

লালসালু উপন্যাস পাঠকের কাছে এত বেশি জীবন্ত হয়ে উঠার কারণ হলো এর চরিত্রগুলো। মজিদ, খালেক ব্যাপারী, রহীমা, জমিলা, আক্কাস—প্রতিটি চরিত্রই গ্রামীণ সমাজের ভিন্ন ভিন্ন দিককে সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ করে জমিলা যেন নিকষ-কালো, অন্ধকার কুসংস্কারচ্ছন্ন সমাজের আলোর প্রতীক। তার কিশোরীসুলভ চঞ্চলতা ও প্রতিবাদ মজিদের মনে ভয় ধরিয়ে দেয়। মজিদের ভণ্ডামি মেনে না নিয়ে জমিলা প্রতিবাদ করার সাহস দেখায়। শিক্ষার আলো না পেয়েও তার এই প্রতিবাদী হয়ে ওঠা চরিত্রটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

গ্রামের অসহায় মানুষ দের বোকা বানিয়ে মজিদ যেভাবে ধর্ম ব্যবসা করে সেটিই এই লালসালু উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।। মূলত তিনি মাজার পূজারী।। সালু কাপরে কবরকে ঢেকে দিয়ে গ্রামের মানুষ দের মিথ্যা খোদারভীতি দেখিয়ে অর্থ লুটিয়ে নেওয়াই তার লক্ষ্য ছিলো।। কিন্তু সহজ সরল গ্রাম বাসি তা বুঝতে পারতো না।। আর এভাবেই মজিদ নামের ধোঁকাবাজ লোক টি নিজের আখের গুছিয়ে নিতে থাকে।। কারন আগেকার মানুষ ছিলো অজ্ঞ, জানার পরিধি ছিলো কম।। আর এই সুযোগ টাকেই কাজে লাগিয়ে মজিদ ধর্ম ব্যবসার প্রসার ঘটায়।। বইটিতে অত্যন্ত সাবলীলতার সহিত লেখক ওয়ালিউল্লাহ লালসালু উপন্যাসের এই মজিদের মাজার কেন্দ্রিক কাহিনী টা লিখেছেন ৷

লালসালু উপন্যাস সম্পূর্ণ গল্প PDF বই ডাউনলোড

বইটির পিডিএফ অনেক পাঠক অনলাইনে খুঁজে থাকেন। সম্ভব হলে নিচ থেকে হার্ডকপি অর্ডার করতে পারেন। এতে লেখক ও প্রকাশকদের নতুন বই প্রকাশে উৎসাহ বাড়ে। আমি বলবো একবার হলেও বইটি পড়ুন। বেশি বেশি বই কিনুন, বই পড়ুন। বই মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু এবং অজানাকে জানার সেরা মাধ্যম।

15

একটু অপেক্ষা করুন, পিডিএফ খোঁজা হচ্ছে...

একটু অপেক্ষা করুন, অর্ডার লিংক তৈরি হচ্ছে...

BoiLover

Boi𝗟𝗼𝘃𝗲𝗿~বইলাভার

Join Telegram
সাম্প্রতিক বই ইসলামিক বই উপন্যাস বই বইমেলা ২০২৬ সকল ক্যাটাগরি সম্মানিত লেখকগণ আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ