মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস বই দাওয়াহ সংস্করণ (১-১৭ খণ্ড) লেখক মাওলানা ইসমাইল রেহান এবং বাংলা অনুবাদ নাজিবুল্লাহ সিদ্দীকি ৷ ১-১৭ খন্ডে অর্থাৎ এক সিরিজে ১৪০০ বছরের মুসলিম উম্মাহর পূর্ণাঙ্গ ধারাবাহিক ইতিহাস পাবেন বইটিতে ৷ মুসলিম জাতি হিসেবে আমাদের হাজার বছরের গৌরবজ্জল ইতিহাস রয়েছে। একজন দক্ষ ঐতিহাসিকের হাতে যখন তা লিপিবদ্ধ হয়, স্বাভাবিকভাবেই সমকালীন সকল মুসলিমের জন্য তা অপরিসীম সৌভাগ্য বয়ে আনে। তাই সকল মুসলিম ভাই-বোনের উচিৎ একবার হলেও মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস PDF অথবা হার্ডকপি পড়া ৷
মাওলানা ইসমাঈল রেহান সাহেব তার যোগ্যতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে মুসলিম উম্মাহকে উপহার দিয়েছেন “মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস” নামক প্রচুর তথ্য ও বিশ্লেষণ সমৃদ্ধ এবং সহিহ ও দুর্বল রেওয়ায়েত যাচাই-বাছাইয়ে সর্বাধিক বিশুদ্ধ ইতিহাস গ্রন্থ। উম্মাহর ইতিহাসে অতিবাহিত হওয়া একের পর এক যুগ: বিজয়াভিযান, সাহাবায়ে কেরাম রা. এর মতবিরোধপূর্ণ যুগ, খলিফাদের বিভিন্ন কীর্তি ও অবদান, সময় সময়ে বিখ্যাত মনীষীদের জীবনালেখ্য এবং বিভিন্ন যুগের পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় উম্মাহর উত্থান-পতন ধারাবাহিক ভাবে বর্ণিত হয়েছে বইটিতে।
মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস দাওয়াহ সংস্করণ ১-১৭ খণ্ড পিডিএফ আকারে পাঠক খুঁজে থাকেন ৷ পাঠকের পড়ার সুবিধার্থে সবগুলো খন্ড অনলাইন থেকে সংগ্রহ করে পাঠকের জন্য দিয়েছি এবং একই সাথে ইচ্ছা হলে খন্ডগুলোর হার্ডকপি অর্ডার করে পড়তে পারেন এবং মুসলিম জাতির ইতিহাস বিষয়ক বই পেতে চোখ রাখুন পিডিএফপড়.কম ৷
মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস বই বিবরণ
| বইঃ | মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস |
| লেখকঃ | মাওলানা ইসমাইল রেহান |
| অনুবাদকঃ | নাজিবুল্লাহ সিদ্দিকী |
| প্রকাশনীঃ | মাকতাবাতুল ইত্তিহাদ |
| ফরম্যাটঃ | পিডিএফ ফাইল(PDF) |
| ক্যাটাগরিঃ | ইসলামি ইতিহাস ও ঐতিহ্য বই PDF |
Also Read: ভারতে মুসলিম শাসনের ইতিহাস PDF
মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস দাওয়াহ সংস্করণ
মুসলিমবিশ্বে মোগলদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিশ্ব – ইতিহাসে হিজরি সপ্তম শতাব্দীকে এই হিসেবে এক মহা ক্রান্তিকাল ও কঠিন দুঃসময় বলা হয় যে , এক নির্দয় যুদ্ধবাজ জাতির চতুর্মুখী আক্রমণ মুসলিমবিশ্বকে ভৌগোলিকভাবে একেবারে বিধ্বস্ত করে দেয় । তারা মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে এমন জাতিনির্মূল অভিযান চালায় যে , বড় বড় এলাকা , রাষ্ট্র এবং জনপদ সম্পূর্ণ জনশূন্য হয়ে পড়ে ।
তখনকার জনৈক বুজুর্গের বক্তব্য হচ্ছে — মক্কায় নুরুদ্দীন বিন যুজাজ নামক এক ইরাকি আলেমের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয় । তার সঙ্গে ছিলেন তার একমাত্র ভাতিজা । তিনি বলেছেন , বর্বর তাতারদের হাতে শুধু ইরাকেই ২৪ হাজার আলেম নিহত হয়েছেন । সেখানে আমি ও আমার এই ভাতিজা ছাড়া কোনো আলেম বেঁচে নেই ।
তাতাররা ৬১৬ হিজরি থেকে ৬৫৮ হিজরি পর্যন্ত মাত্র ৪২ বছরের ভেতর মুসলিমবিশ্বের ৫০ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করে নেয় । আর ওই জাতিনির্মূল অভিযানে শহিদ হয় প্রায় ২ কোটি মুসলমান ।
মুসলমান অপরদিকে বেঁচে যাওয়া ক্ষুদ্র ও অসহায় মুসলিম জনগোষ্ঠীকে পথহারা করার জন্য সকল বাতিল শক্তি মুসলিমবিশ্বের মনস্তাত্ত্বিক সীমান্ত পর্যুদস্ত করার জন্য উঠেপড়ে লাগে । তাতাররা ছিল শামান ধর্মের অনুসারী , যাদের কাছে কোনো ঐশীগ্রন্থ ছিল না । তারা কোনো নবী – র -রাসুলের দাবিদারও ছিল না ।
ধর্ম – সংক্রান্ত তাদের বিশ্বাস ও কাজ ছিল আল্লাহ সম্পর্কে মনগড়া ধারণা এবং মূর্তিপূজাসহ কতিপয় রীতি – রেওয়াজ পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ । এদিকে খ্রিষ্টশক্তি আইয়ুবি – পরিবারের প্রতিরোধ ক্ষমতা বিধ্বস্ত করতে অক্ষম হয়ে তাদের অধীন এবং অধীন নয় এমন সব জায়গায়ই মিশনারি তৎপরতার মাধ্যমে খ্রিষ্টবাদ প্রচারে মেতে ওঠে । তারা তাতারদের পূর্ণ পৃষ্ঠাপোষকতা উপভোগ করছিল ।
চোখ রাখুনঃ
- মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস বিশ্বকোষ PDF
- ইসলামের ইতিহাস PDF
চেঙ্গিস খানসহ তার উত্তরাধিকারীরা খ্রিষ্টান পাদরি এবং ধর্মপ্রচারকদের খুব সম্মানের দৃষ্টিতে দেখত । তাদের ধর্মপ্রচারের অবাধ স্বাধীনতা দিয়ে রাখে । চেঙ্গিসের কোনো কোনো সন্তান খ্রিষ্টান নারীদের বিয়ে করে নেয় । যেমন বর্বর হালাকু খানের মা ও স্ত্রী ছিল খ্রিষ্টান নারী । খ্রিষ্টানদের স্বপ্ন ছিল— তাতারদের পরবর্তী বংশধর ক্রুশের ছায়ায় চলে আসবে ।
এদিকে বৌদ্ধরাও মাঠে সক্রিয় ছিল । তারা সর্বসাধারণের মধ্যে মূর্তিপূজা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রাণপাত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল । চেঙ্গিস খান বৌদ্ধ ধর্মগুরুদের অত্যন্ত শ্রদ্ধা করত । এর সঙ্গে রাফেজিরাও তাতার শাসকদের আনুকূল্য অর্জন করে নেয় । অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছিল অনাগত শতাব্দীতে ইসলাম ভৌগোলিক ও মনস্তাত্বিক উভয় দিক দিয়ে এমনভাবে বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছে যে , তখন বিশ্বময় আঁতিপাঁতি করেও কোনো মুসলমানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না ।
আর তৎকালীন ইতিহাসবিদগণ — ভবিষ্যতে তাদের লিখিত ইতিহাসের পাঠক হবে মুসলিমরা ; এমন আশা করতে পারছিলেন না । কিন্তু আমরা যখন ইতিহাসের পাতা উলটিয়ে পরবর্তী শতাব্দীর দিকে তাকাই , তখন কাশগড় থেকে মরক্কো এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আটলান্টিকের উপকূল পর্যন্ত সর্বত্র ইসলামি পতাকা দোল খেতে দেখি ।
দেখতে পাই ওখানকার সবকটি দেশের রাজ মসনদ আলোকিত করছেন মুসলিম বাদশাহগণ । দেখতে পাই প্রতিটি শহরে গিজ গিজ করছে অসংখ্য মুসলিম । প্রতিটি শহরের অলিতে – গলিতে শোভা ছড়াচ্ছে মসজিদ , মাদরাসা ও খানকাহ । লাইব্রেরিগুলো আবার ভরে উঠেছে মূল্যবান কিতাবপত্রে ।
মোটকথা , আমরা সেসব সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের চেহারার দিকে তাকালে দেখতে পাই না বিগত শতাব্দীর নির্মমতার কোনো ক্ষতচিহ্ন । এ যেন বিশ্ব – ইতিহাসের এক অলৌকিক ঘটনা , যা পালটে দিয়েছিল ইতিহাসবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের সব ধারণা । কীভাবে সাধিত হলো এই বিস্ময়কর বিপ্লব ? এই ধাঁধা ভাঙতে হলে আমাদের দেখতে হবে তাতার – ঝড়ের পরে বিধ্বস্ত মুসলমানদের মানসিক অবস্থা ।
জানতে হবে তাদের আত্মগত অবস্থা , অকল্পনীয় ধৈর্য ও সহনশীলতা , বুদ্ধিদীপ্ত কর্মপরিকল্পনা , যে সহনশীলতা ও পরিকল্পনা সেই যুগসন্ধিক্ষণেও তাদের তাড়িত করেছিল ইসলামের প্রচার – প্রসার এবং নিরাপত্তার দিকে । বুকে জোয়ার এনে দিয়েছিল প্রবল প্রেরণার ।
আরও দেখুনঃ উসমানীয় সাম্রাজ্যের ইতিহাস PDF
মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস বই PDF (দাওয়াহ সংস্করণ ১-১৭ খণ্ড)
বইটির পিডিএফ অনেক পাঠক অনলাইনে খুঁজে থাকেন। সম্ভব হলে নিচ থেকে হার্ডকপি অর্ডার করতে পারেন। এতে লেখক ও প্রকাশকদের নতুন বই প্রকাশে উৎসাহ বাড়ে। আমি বলবো একবার হলেও বইটি পড়ুন। বেশি বেশি বই কিনুন, বই পড়ুন। বই মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু এবং অজানাকে জানার সেরা মাধ্যম।
একটু অপেক্ষা করুন, পিডিএফ খোঁজা হচ্ছে...
একটু অপেক্ষা করুন, অর্ডার লিংক তৈরি হচ্ছে...

মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস বইটির লেখক কে?
উত্তরঃ মাওলানা ইসমাইল রেহান, নাজিবুল্লাহ সিদ্দিকী (অনুবাদক) ৷
বইটির প্রকাশনির নাম কি?
উত্তরঃ মাকতাবাতুল ইত্তিহাদ ৷
