দ্য লাস্ট মোগল বই পিডিএফ অনলাইনে অনেকেই খুঁজে থাকেন ৷ ‘দ্য লাস্ট মোগল’ নিঃসন্দেহে লেখক ড্যালরিম্পেলের সেরা একটি কাজ। পদস্থ অফিসার ও সাধারণ সৈনিক, অভিজাত ব্যক্তি ও মৃত ধূর্ত রাজনীতি রাজনীতিবিদ, হতোদ্যম যুবরাজ ও আশাহত মিথ্যাবাদীদের পটভূমি থেকে তিনি ১৮৫৭ সালে সংঘটিত ঘটনাবলি দেখেছেন। বিদ্রোহে জড়িত যে চরিত্রগুলোকে তিনি তার শ্রমসাধ্য গবেষণার মাধ্যমে বের করে আনতে পেরেছেন ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে সেই চরিত্রগুলোকে পাঠকের সামনে জীবন্ত করে উপস্থিত করেছেন। তার উপস্থাপনার বৈশিষ্ট্যের কারণেই পাঠক নিজেকে বিদ্রোহের সময় কোনো ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দেখতে পায়, যেন মহান মোগলদের পতন তাদের উপস্থিতিতেই সংঘটিত হয়েছে।
জানা ইতিহাসকে উইলিয়াম ড্যালরিম্পেল অধিকতর প্রামাণ্য ও হৃদয়গ্রাহী করে তুলতে সক্ষম হয়েছেন গবেষণার আড়ালে চাপা পড়ে থাকা দলিল, পাণ্ডুলিপি ঘেঁটে। ‘দ্য লাস্ট মোগল’ ছিন্ন সূত্রগুলোকে গ্রন্থিত করার অসাধ্য সাধন করে শাসনের কেন্দ্রস্থল হিসেবে রাজধানী দিল্লির গুরুত্ব ও ঐতিহ্য এবং শেষ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরকে এক মহিমাময় ব্যক্তিত্বের মর্যাদায় উন্নীত করেছেন।
উইলিয়াম ড্যালরিম্পেল লেখক হিসেবে কাজ শুরু করেন ভ্রমণকাহিনি দিয়ে। কিন্তু কোনো বিষয়ের মূলে পৌঁছার জন্যে তার প্রচেষ্টা তাকে যথার্থই একজন ইতিহাসবিদে পরিণত করেছে। ইতিপূর্বে আমি তার দুটি গ্রন্থ ‘সিটি অফ জ্বিনস’ ও ‘হোয়াইট মোগলস’ অনুবাদ করেছি। ভ্রমণের নেশা তাকে সাধারণ পর্যটকের চোখে দেখে সাধ মেটানোর কৌতূহলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারেনি বলেই তার পক্ষে ইতিহাসবিদদের চোখ এড়িয়ে যাওয়া কিংবা ইতিহাসে স্থান পাওয়ার মতো বিবেচিত হওয়া উপকরণগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠিত ইতিহাসবিদদের চাইতেও অধিক অবদান রেখেছেন। তার বর্ণনাভঙ্গি, ভাষার সাবলিলতা ইতিহাসের মতো বিষয়কেও সাহিত্য মানে উত্তীর্ণ করেছে এবং এজন্যে তিনি নন্দিত হয়েছেন।
প্রবল প্রতাপ মোগল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট বাহাদুর শাহ্ জাফর। ব্রিটিশ কোম্পানি শাসনে যিনি কেবল একটি সাজানো পুতুল। প্রাসাদের বাইরে তার কোন ক্ষমতা নেই। বয়োবৃদ্ধ এই সম্রাটের জন্য ‘শাঁখের করাত’ হয়ে দাঁড়ায় ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ। মোগল বংশের অন্তিম অবস্থা, বাহাদুর শাহ্-র পরিবার, ইংরেজ শাসন এবং সিপাহী বিদ্রোহ নিয়ে লেখা ড্যালরিম্পলের এই বই।
যদি কেউ ভাবেন, এ বই কেবল বাহাদুর শাহ্-র কথা বলে, তবে ভুল হবে। তৎকালীন ভারতে ইংরেজ শাসক সমাজ, দিল্লীর মানুষ, সিপাহী বিদ্রোহ, ব্রিটিশ সৈনিক, দেশী সৈনিক ধর্মযাজক, সবার কথা উঠে এসেছে এ বইয়ে। ড্যালরিম্পল দারুন লেখেন। তার লেখার সঙ্গে সঙ্গে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর কড়া অনুবাদ এই বইকে আরও উপভোগ্য করে তুলেছে।
দ্য লাস্ট মোগল বই বিবরণ
- বইঃ দ্য লাস্ট মোগল ৷
- লেখকঃ উইলিয়াম ড্যালরিম্পল ৷
- অনুবাদকঃ আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু ৷
- প্রকাশনীঃ নালন্দা ৷
- পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪৮৭টি ৷
- ক্যাটাগরিঃ মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস বই ৷
সূচিপত্র
- ভূমিকা
- বিশিষ্ট ঐতিহাসিক চরিত্র
- তাসের রাজা
- বিশ্বাসী এবং বিধর্মী
- অস্বস্তিকর এক ভারসাম্য
- ঝড় এগিয়ে আসছিল
- ক্রোধের প্রভুর তরবারি
- ধ্বংস ও দাঙ্গাহাঙ্গামার দিন
- বিপজ্জনক পরিস্থিতি
- রক্তের বদলে রক্ত
- পাল্টা তরঙ্গ
- প্রতিটি লোককে গুলি করার নির্দেশ
- মৃতের নগরী
- শেষ মোগল সম্রাট
সিপাহি বিদ্রোহের পর বৃটিশ কর্তৃপক্ষ বিদ্রোহে সংঘটিত চারটি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে শেষ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরকে নির্বাসন দণ্ড দেয়। বিচার সম্পন্ন হয় তারই পূর্বপুরুষের প্রতিষ্ঠিত দিল্লির লালকিল্লায় স্থাপিত সামরিক আদালতে। অতি গোপনীয়তা বজায় রেখে তাঁকে তাঁর জন্মভূমি থেকে নিয়ে বহুদূরে তদানীন্তন বার্মার রাজধানী রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়।
১৮৬২ সালের ৭ নভেম্বর সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং তার আটকস্থলের বেষ্টনীর মধ্যেই বৃটিশ কর্তৃপক্ষ এমনভাবে তাঁকে কবরস্থ করে, যাতে স্থানটি কেউ সনাক্ত করতে না পারে। বাহাদুর শাহ যখন মোগল সিংহাসনের উত্তরাধিকারী তখন মোগল সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব ছিল না। ইংরেজরা হয়ে উঠেছিল ভারতের অধীশ্বর। তাঁর আবাস লালকিল্লাও নিয়ন্ত্রণ করত ইংরেজরা, তবুও রীতিমাফিক তারা সম্রাটকে ‘কিং অফ দিল্লি’ বলে সম্বোধন করত।
তাঁকে সকল রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। তিনি লালকিল্লায় কাটাতেন কাব্য ও সংস্কৃতি চর্চা করে। কিন্তু ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে ধুমায়িত ক্ষোভ প্রথমে কোম্পানির দেশীয় সিপাহিদের বিদ্রোহী করে তোলে এবং মিরাটে বিদ্রোহের পতাকা উচিয়ে চলে আসে দিল্লিতে এবং বাহাদুর শাহ জাফরকে তাদের নেতৃত্ব গ্রহণের আহবান জানায়।
দিল্লিকে কেন্দ্র করে করে তারা প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলার সংকল্প ব্যক্ত করে। কিন্তু বয়োবৃদ্ধ, ভগ্ন স্বাস্থ্যের অধিকারী, হতোদ্যম বাদশাহর পক্ষে অসংগঠিত একটি বাহিনীর নেতৃত্ব নিয়ে তখন ইংরেজদের বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার পরিস্থিতি ছিল না। ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও তাদের অনুগত দেশীয় সৈনিকদের সহায়তায় চার মাসের মধ্যে বিদ্রোহ দমন করে এবং মোগল শাহজাদা, অভিজাত এবং বিদ্রোহের সমর্থক বিবেচিত সকলের উপর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। ধ্বংসস্তূপ ও বিরান নগরীতে পরিণত হয় জাঁকজমকপূর্ণ মোগল দিল্লি। The Last Mughal Bangla book pdf নিচে দেখুন ৷
দ্য লাস্ট মোগল বই পিডিএফ ডাউনলোড | The Last Mughal Bangla Book
বইটির পিডিএফ অনেক পাঠক অনলাইনে খুঁজে থাকেন। সম্ভব হলে নিচ থেকে হার্ডকপি অর্ডার করতে পারেন। এতে লেখক ও প্রকাশকদের নতুন বই প্রকাশে উৎসাহ বাড়ে। আমি বলবো একবার হলেও বইটি পড়ুন। বেশি বেশি বই কিনুন, বই পড়ুন। বই মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু এবং অজানাকে জানার সেরা মাধ্যম।
একটু অপেক্ষা করুন, পিডিএফ খোঁজা হচ্ছে...
একটু অপেক্ষা করুন, অর্ডার লিংক তৈরি হচ্ছে...

